স্ত্রীসহ দুদকে সম্পদ বিবরণী জমা দিলেন মাহবুবুর রহমান

0
68
Mahbubur_bg
পটুয়াখালি-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রী মাহবুবুর রহমান

Mahbubur_bgঅবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সম্পদ বিবরণী দাখিল করলেন সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান। সম্প্রতি স্ত্রী প্রীতি হায়দারসহ নিজের সম্পদ বিররণী দুদক সচিব ফরজুর রহমান চৌধুরীর কাছে জমা দিয়েছেন তিনি।

রোববার দুদকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ বিষয়টি নিশ্চিত করে।

দুদক সূত্র জানায়, সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান ও তার স্ত্রীর সম্পদ অনুসন্ধান করেছে দুদক। তাদের দেওয়া সম্পদ বিবরণীর তথ্যের সাথে মিলিয়ে যাচাই-বাছাই করা হবে। উভয় তথ্যের মধ্যে কোন অসামঞ্জস্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেবে কমিশন।

এর আগে মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে স্ত্রীসহ মাহবুবুর রহমানের সম্পদ বিবরণী চেয়ে নোটিশ দেয় কমিশন। আর একই অভিযোগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারী তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল দুদক।

মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি গত পাঁচ বছরে ২০ একর জমি থেকে দুই হাজার ৮৬৫ একর জমির মালিক হয়েছেন। পাঁচ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র ছাড়া কোনো স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ না থাকা স্ত্রীর নামে এখন এক কোটি ২৬ লাখ ৭১ হাজার টাকার সম্পদ রয়েছে। নিজের ৩৬ লাখ ৩৩ হাজার ১১২ টাকার স্থাবর সম্পদ পাঁচ বছরের ব্যবধানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ কোটি ২৫ লাখ ৬৬ হাজার ৭২ টাকা।

২০০৮ সালের হলফনামায় সাতটি আয়ের উৎস খাতের মধ্যে তার একমাত্র আয় ছিল খণ্ডকালীন রাখী মালামাল থেকে, যার পরিমাণ ছিল বছরে মাত্র দুই লাখ ১৫ হাজার টাকা। পাঁচ বছরের ব্যবধানে তিনি এখন মৎস্য উৎপাদন ও বিক্রয়কারী। আর এ খাত থেকে তার বছরে আয় হচ্ছে এক কোটি ৫০ লাখ টাকা। আগে তার ওপর নির্ভরশীলদের কোনো আয়ের উৎস না থাকলেও এখন তার ওপর নির্ভরশীলদের ব্যবসা থেকে বছরে আয় তিন লাখ ৯৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া চাকরি থেকে তার বছরে আয় ২০ লাখ ৩৪ হাজার ৭০০ টাকা।

প্রসঙ্গত, দশম সংসদ নির্বাচনে হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মাহবুবুর রহমানের গত পাঁচ বছরে ব্যাংকে জমাকৃত টাকা বেড়েছে ৫৮৬.৭৫ গুণ, জমি বেড়েছে ২০ একর থেকে দুই হাজার ৮৬৫ একর অর্থাৎ ১৪৩.২৫ গুণ, বার্ষিক আয় বেড়েছে ৭৯.২৩ গুণ। আর তার স্ত্রীর নামে স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ বেড়েছে ৩.২২ গুণ। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে তদন্তের উদ্যাগ নেয় দুদক।

এইউ নয়ন