বাজেটে কৃষি ভর্তুকি বাড়ানোর দাবি

0
71
Agriculture

Agricultureবাজেটে কৃষি ভর্তুকি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন কৃষি সংগঠনের নেতারা। একই সঙ্গে কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড সরাসরি কৃষকদের হাতে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে কোস্ট ট্রাস্ট আয়োজিত ‘কৃষি ও কৃষক বান্ধব বাজেট: বীজ ব্যবস্থাপনায় সরকারি-বেসরকারি খাত’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তারা এসব কথা বলেন।

চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বাজেট হওয়া উচিৎ এমন দাবি রেখে তারা বলেন, বর্তমানে বিএডিসি তার চাহিদা মতো বাজেট বরাদ্দ পাচ্ছে না। আর নিয়োগ দিতে পারছে না প্রয়োজনীয় সংখ্যক লোকবল। এজন্য কুষিখাতে চরম হতাশা দেখা দিচ্ছে। কৃষকরাও উৎপাদনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।

এ সময় তারা বলেন, ২০১২-১৩ অর্থবছরে দেশের জিডিপিতে কৃষির অবদান ছিল ১৮ দশমিক ৭০ শতাংশ। এই বছরে কৃষিজাত পণ্য রপ্তানির মোট আয় ছিল ১১ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০১১-১২ অর্থবছরে দেশের জিডিপিতে কৃষির অবদান ছিল ১৯ দশমিক ৪১ শতাংশ। ২০০৮-৯ অর্থবছরে জিডিপিতে কৃষি অবদান ছিল ২০ দশমিক ৪৮ শতাংশ। এই বছরে কৃষিজাত পণ্য রপ্তানি ছিল মোট আয়ের ৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এ থেকে বুঝা যাচ্ছে দিন দিন কৃষিখাত থেকে আয় কমে যাচ্ছে। আর বাংলাদেশ খাদ্যপণ্য রপ্তানির দিকে ঝুঁকে পড়ছে।

আলোচনায় বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশন,  বাংলাদেশ ভূমিহীন সমিতি, বাংলাদেশ কৃষি ফার্ম শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশন (জাই), লেবার রিসোর্স সেন্টার, কেন্দ্রীয় কৃষক মৈত্রী, বাংলাদেশ কিষাণী সভা, বাংলাদেশ কৃষি ফার্ম শ্রমিক ফেডারেশন (নারী সংগঠন) ও কোস্ট ট্রাস্ট এসব সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বীজ ব্যবহার করতে গিয়ে যে সকল কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে তাদেরকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এমন দাবি জানিয়ে সাংসদ আ খ ম জাহাঙ্গির হোসেন বলেন, কৃষকদের  এ দাবি আগামি বাজেট আলোচনায় তুলে ধরা হবে।

বক্তারা বলেন, দেশে হাইব্রিড-জিএমও এই ধরনের বীজের আগ্রাসন চলছে। নানা জটিলতায় বিএডিসি’র বীজ উৎপাদন দিনের পর দিন কমছে। বিএডিসি ২০১০-১১ অর্থবছরে এক লাখ ৫৬ হাজার ৪৭৫ টন। ২০১১-১২ অর্থবছরে এক লাখ ৪৪ হাজার ২০০ টন এবং ২০১২-১৩ অর্থবছরে তা আরও কমে গিয়ে এক লাখ ১২ হাজার ৭৫২ টন বীজ বিতরণ করে। তাই স্বনির্ভর হতে হলে এসব বীজ বাদ দিয়ে দেশীয় বীজ ব্যবহারের প্রতি জোর দিতে হবে।

কৃষকদের জন্য ১০টাকার বিনিময়ে যে ব্যাংক হিসাব খোলার কাজ শুরু হয়েছিল সেখানে ৯২ লাখের অধিক হিসাব খুলেছে কৃষকরা। কিন্তু তাদেরকে ওই হিসাবের মাধ্যমে কোনো টাকা দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ তুললেন এসব সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, কৃষক সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা ও এশিয়া রিজিওনাল পলিসি কো-অর্ডিনেটর এর প্রতিনিধি জিয়াউল হক মুক্তা, বাংলাদেশ কৃষক দলের সাধারণ-সম্পাদক শামসুজ্জামান দুদু, বীজ উইংয়ের মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব আনোয়ার ফারুক প্রমুখ।

জেইউ/এএস