কর্মকর্তাদের অদক্ষতা ও অস্বচ্ছতার কারণে ব্যর্থ হচ্ছে দুদক : আইনমন্ত্রী

0
59
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক

 আইনমন্ত্রী আনিসুল হকদুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ব্যর্থতা আইনের সীমাবদ্ধতার জন্য নয়। বরং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও অনুসন্ধানে স্বচ্ছতার অভাবেই দুদক ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

রোববার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে কমিশনের কর্মকর্তাদের আইন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।

আনিসুল হক বলেন, ‘দুদকের ব্যর্থতা আইনের জন্য নয়। অনুসন্ধান ও তদন্তের মধ্যে যদি স্বচ্ছতা থাকে তাহলে দুদক আইনের মধ্য থেকেই সত্য ঘটনা প্রমাণ করতে পারবে।’

দুদক কর্মকর্তাদের দক্ষতা উন্নয়নের তাগিদ দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘দুদক আইনের মাধ্যমে অনুসন্ধান ও তদন্ত করলে কোন ফাঁক থাকার কথা নয়। দুদকের কর্মকর্তারা হচ্ছেন ফ্যাক্ট ফাইন্ডিংয়ের আসল লোক।’

অনুষ্ঠানের সভাপতি দুদক চেয়ারম্যান বদিউজ্জামান বলেন, ‘মামলা পরিচালনায় দুদক ব্যর্থ। মামলা পরিচালনায় ৩০ ভাগ ও সফলতা অর্জন করা যায়নি। অধিকাংশ মামলায় আসামিরা খালাস পায়। আর এ জন্যই দুদক কর্মকর্তাদের দক্ষতার বাড়াতে আইন বিষয়ক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থ করা হয়েছে।

বিশেষ অতিথি সাবেক প্রধান বিচারপতি এ. বি.এম.খায়রুল হুদা বলেন, দুর্নীতি সম্পূর্ণরুপে নির্মূল করা সম্ভব নয়। কিন্তু এমন পরিস্থিতি করা দরকার যাতে তা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। দেশে ১৫ হাজার আইন রয়েছে। এমন আইন ও রয়েছে যা একটি অপরটির সাথে সাংঘর্ষিক। তাই একটি আইনের কোন অংশ সংশোধন করলে অন্তত ৫০ জায়গায় সংশোধন করতে হয়। তাই আইন পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে যাতে আইনের দ্বারা কেউ হেয় প্রতিপন্ন না হয়।

অন্যদিকে দুদক কমিশনার মো.সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বলেন, সংশোধিত আইনের পর মামলা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে পুলিশ অথবা অন্য কোন আইন প্রণয়ন প্রয়োগকারী সংস্থার জন্য সমস্যা হওয়ার কথা নয়।প্রতারণা,আত্মসাত ও জালিয়াতিসহ এ সংক্রান্ত মামলা থানায় এজাহারভুক্ত হওয়ার পর আইন অনুযায়ী তার তদন্ত ক্ষমতা দুদকের।

উল্লেখ্য, দুদক আয়োজিত আইন বিষয়ে পাঁচদিন ব্যাপী এই কর্মশালায় পর্যায়ক্রমে ২৪০ কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করছেন। কর্মশালায় আটভাগে ৩০ জনকে অনুসন্ধান ও তদন্ত বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। হাইকোর্টের বিচারপতিরা এই প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।