দেহের ক্যান্সারের চেয়েও ভয়াবহ এখন রাজনৈতিক ক্যান্সার : নাসিম

0
56
Nasim

Nasimদেশের চলমান রাজনীতিকে দেহের ক্যান্সারের চেয়েও ভয়াবহ বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেন, বড় ক্যান্সার হলো রাজনৈতিক ক্যান্সার। এটা নিরাময় হলে দেশ রোগমুক্ত হবে।

রোববার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘স্তন ও জরায়ু ক্যান্সার শীর্ষক সেমিনার এবং স্ক্রিনিং ক্যাম্প’ অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা বলেন।

সেমিনারটি ওয়ালটনের সহযোগিতায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাসিম বলেন, বর্তমানে সারা বিশ্বেই স্তন ক্যান্সারের সংখ্যা বাড়ছে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে শিশুকে বুকের দুধ পান না করানো। এ ব্যাপারে প্রতিটি মাকে আরও স্বাস্থ্য সচেতন ও শিশুর প্রতি যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

নাসিম বলেন, স্বাস্থ্য সেবা পাওয়া প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। সমৃদ্ধ জাতিগঠনে স্বাস্থ্যসেবার বিকল্প নেই। তাই এই সেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে দাবি করেন তিনি।

ক্যান্সার নিয়ে মন্ত্রী বলেন, শিশুদের বুকের দুধ খাওয়ানোর প্রবণতা এখন কমে গেছে। দিন দিন কৃত্রিমতার দিকে এগোচ্ছে অনেকে। তাতে করে স্তন ক্যান্সারের প্রবণতা বেড়ে যাচ্ছে। তিনি এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, দেশে ফার্স্ট ফুড খাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। তাতে করে মানুষ আরও রোগাক্রান্ত হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ক্যান্সার রিসার্চ অ্যান্ড হসপিটালের পরিচালক শেখ গোলাম মোস্তফা বলেন, দেশের মানুষ শিক্ষিত হলে জরায়ু ক্যান্সার কমবে। মানুষ আরও সচেতন হলে এই প্রকারে ক্যান্সার কমানো যেতে পারে।

তিনি বলেন, বাল্যবিবাহ, ধুমপান, অপরিচ্ছন্নতা, বেশি সন্তান নেওয়া, অসচেতনতা, অল্প বয়সে মাসিক হওয়ার কারণে জরায়ু ক্যান্সার হতে পারে। এই বিষয়ে সচেতন হলে ক্যান্সার বহুাংশে কমানো সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

স্তনের ক্যান্সার নিয়ে তিনি বলেন, মাসে যদি অন্তত একবার পরীক্ষা করা হয় তবে ক্যান্সার প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত করা সম্ভব। তাছাড়া স্তনে ৯০ ভাগ টিউমার ক্যান্সারের লক্ষণ নয় বলে জানান তিনি। তবে ১০ ভাগ টিউমার ক্যান্সার হতে পারে। তাই নিয়মিত পরীক্ষার পরামর্শ দেন তিনি।

এছাড়া প্রাথমিক অবস্থায় লক্ষণ দেখে ক্যান্সার সনাক্ত করতে পারলে তা এক তৃতীয়াংশ নিরাময়যোগ্য বলে উল্লেখ করেন বক্তারা। তাতে করে চিকিৎসা করতে খরচও কম পড়বে। আর্থিক ক্ষতি কমানো যাবে বলে মনে করেন তারা।

ডিআরইউ সভাপতি শাহেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ক্যান্সার রিসার্চ অ্যান্ড হসপিটালের ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার, ওয়ালটনের এফএম ইকবল বিন আনোয়ার, সৈয়দা লুৎফা শাহানা, শরিফুল ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এসইউএম/এআর