বস্ত্রখাতে নগদ সহায়তা বাড়ানোর দাবি

0
84

Yarn_Fabric_2বাজেটে বিকল্প নগদ সহায়তা ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার দাবি জানাবে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিল অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমইএ)। দাবি করা হবে কিছু কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশের আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করার।

আগামি ১৭ এপ্রিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে অনুষ্ঠেয় প্রাক-বাজেট আলোচনায় এ দাবি জানানো হবে। বিটিএমইএ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ইতোমধ্যে বিটিএমইএ বাজেট বিষয়ক প্রস্তাবনার একটি কপি এফবিসিসিআইয়ের কাছেও জমা দিয়েছে। প্রস্তাবনায় উল্লেখ করেছে, দেশের বস্ত্র শিল্পখাতের একটা অংশ সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর। তুলা ও কৃত্রিম আঁশের পুরো চাহিদা আমদানির মাধ্যমে মিটাতে হয়। তার ওপর অবকাঠামোগত অসুবিধা, বন্দরে মাল খালাসে বিলম্ব, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সমস্যার পরও এই শিল্পের উন্নতি হয়েছে। তাই ২০১৩-১৪ অর্থবছরের জুনে শেষ হওয়া নগদ সহায়তার মেয়াদ বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করার সুপারিশ করা হয়।

বাজেট প্রস্তাবে পেট চিপসের (পলিস্টার সুতা তৈরির উপাদান) ওপর থেকে আমদানি শুল্ক প্রত্যাহারের শুপারিশ করা হয়েছে। বিশ্ববাজারে পেট চিপসের মাধ্যমে উৎপাদিত ফেব্রিক্সের তৈরি সিনথেটিক শাড়ি ও পোশাকের চাহিদা অনেক বেশি। তবে বিশ্ববাজারে তুলার দর বাড়লেও পেট চিপসের মূল্য স্থিতিশীল থাকে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এখন এই পণ্যটির ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক ও ৩ শতাংশ এটিভি ধার্য রয়েছে।

সোয়েটার তৈরির কাঁচামাল এক্রেলিক টো ওপর থেকে আমদানি শুল্ক কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এখন এই পণ্যটির ওপর ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক ও ৪ শতাংশ এটিভি বলবত আছে।

প্রাইমারি টেক্সটাইল খাতে স্পিনিং, উইভিং ও ডায়িং প্রিন্টিং ও ফিনিশিং মিলসমুহের জন্য ন্যূনতম ট্যাক্স আরোপ ও রপ্তানির ক্ষেত্রে উৎসে কর প্রত্যাহার করে শুধু ১৫ শতাংশ হারে আয়কর ধার্য করার প্রস্তাব করা হয়। এখন যেখানে অর্জিত আয়ের ১৫ শতাংশ কর, দশমিক ৫ শতাংশ হারে সর্বনিম্ন কর ও রপ্তানির ক্ষেত্রে দশমিক ৮ শতাংশ হারে উৎসে কর কর্তন করা হয়।

উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন স্তরে কর আরোপ করায় সঠিক হিসাব রাখা কষ্টকর। এ কারণে সঠিকভাবে কর নিরুপণ ও পরিশোধ বাধাগ্রস্ত হয়। উল্লেখ করা হয়, এক স্তরে কর আদায় ব্যবস্থা কর প্রদানকে জটিলতামুক্ত করবে। সেই সঙ্গে প্রাইমারি টেক্সটাইল খাত সুদৃঢ় আর্থিক ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করে বিটিএমইএ।

হাওলাত কিংবা ধার করা তুলা নেওয়াকে ব্যবসা হিসেবে বিবেচনা না করার কথা বলা হয়। আর তাতে ১৫ শতাংশ হারে মূসক পরিশোধ না করে মূসক-১১ চালানের মাধ্যমে কাঁচামাল হিসেবে খালাসের বিধান চালু রাখার সুপারিশ করা হয়। আর এটি করা হলে শিল্পের আর্থিক ব্যয় বৃদ্ধি পায়। বিটিএমইএ মনে করে সাময়িক ধার কিংবা হাওলাতের মাধ্যমে রাজস্ব হানির কোনো আশঙ্কা দেখা যায় না।

স্পিনিং, উইভিং, ডায়িং, প্রিন্টিং ও ফিনিশিং মিলে ব্যবহারের জন্য আমদানি করা অগ্নি নির্বাপক দরজা ওপর থেকে শুল্ক ও কর প্রত্যাহার করা দাবি করা হয়। এখন এই পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক, ৫ শতাংশ রেগুলেটরি ডিউটি, ১৫ শতাংশ মূসক, ৫ শতাংশ এআইটি ও ৪ শতাংশ এটিভি ধার্য করা রয়েছে।

একই সঙ্গে বস্ত্রশিল্পে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ, সাইজিং ম্যাটেরিয়াল ও রং রসায়নে শুল্ক ও কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়।

তাছাড়া, উচ্চমূল্যে তুলা কিনে ক্ষতিগ্রস্ত স্পিনিং সিলের জন্য সরকার ঘোষিত ৫ শতাংশ বিশেষ নগদ সহায়তা প্রাপ্তির লক্ষে এবারের বাজেটে বস্ত্রখাতের বিদ্যমান প্রণোদনা অব্যাহত রাখার ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়।