দুদকে তিতাসের এমডিসহ চার কর্মকর্তার জিজ্ঞাসাবাদ

0
71
Naoshad

Naoshadনিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে তিতাস গ্যাস বিতরণ ও বিপণন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নওশাদুল ইসলামসহ প্রতিষ্ঠানটির চার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একইসাথে অবৈধ গ্যাস সংযোগের মাধ্যমে শত কোটি টাকা দুর্নীতির বিষয়ে কোম্পানিটির সাবেক এমডি আব্দুল আজিজ খানকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

রোববার সকাল ১০টা থেকে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে কমিশনের উপ-পরিচালক আহসান আলী তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন বলে নিশ্চিত এ কর্মকর্তা। জিজ্ঞাসাবাদ চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।

তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নওশাদ ছাড়াও অন্য যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে তারা হলেন, বাপেক্স এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল বাকী, প্রকল্প পরিচালক মেহেরুন হাসান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রশাসন) সাইফুজ্জামান।

এর আগে গত ২৪ মার্চ এ চার কর্মকর্তাসহ মোট ১১ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদকে উপস্থিত হতে নোটিশ দেয় কমিশন।

দুদক সূত্র জানায়, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হোসেন মনসুর সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সংস্থার অধীন আরও ১৩টি প্রতিষ্ঠানে লোক নিয়োগে অনিয়মের মাধ্যমে গত ৪ বছরে ব্যাপক সম্পদ অর্জন করেছেন।  এ নিয়োগ বাণিজ্যে শত কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন হয়েছে। আর এ নিয়োগ প্রক্রিয়ার সাথে তিতাস গ্যাস কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ কর্মকর্তারা সম্পৃক্ত রয়েছেন। তাই এ নিয়োগ বাণিজ্যের বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্য তিতাসের কর্মকর্তাদের তলব করা হয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, পেট্রোবাংলার অধীন বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড, তিতাস গ্যাস ও কর্ণফুলি গ্যাস বিতরণ কোম্পানির জনবল নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানির নিয়োগের ক্ষেত্রে খোদ কোম্পানির বোর্ডের অনুমোদন পর্যন্ত নেওয়া হয়নি। কোম্পানির জিএম কমিটির নিয়োগ সংক্রান্ত সভায় ৩টি পদের জন্য ৩১টি শূন্য পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত হলেও শেষ পর্যন্ত এই পদে লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ১৪৩ জন। নিয়োগের ক্ষেত্রে জেলা কোটা, মুক্তিযোদ্ধা কোটা, প্রতিবন্ধী কোটা এবং নারী কোটা যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও কম্পিউটার অপারেটর পদের মূল্যায়নে অভিজ্ঞতার জন্য কোনো নম্বর দেওয়া হয়নি যা এই পদের নিয়োগ প্রক্রিয়াকে নষ্ট করেছে। নিয়োগপ্রাপ্ত অধিকাংশই অযোগ্য, অদক্ষ হলেও ছিলেন অধ্যাপক হোসেন মনসুরের পছন্দের প্রার্থী।

অন্যদিকে, ২০০৯ সালে সরকার সকল ধরনের নতুন গ্যাস সংযোগ দেওয়া বন্ধ ঘোষণা করলেও তখনকার এমডি আব্দুল আজিজ খান বর্তমান এমডি ও এসব কর্মকর্তাদের যোগসাজসে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেয়। আর এ গ্যাস সংযোগের মাধ্যমে সাবেক এমডিসহ প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা বাসা-বাড়ি ও কলকারখানা থেকে শত শত কোটি টাকা দুর্নীতি করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পায় দুদক।

এইউ নয়ন