বড় শিল্প গ্রুপের শেয়ারেও করুণ দশা

0
110
বেক্সিমকো, সামিট, নাভানা, beximco, summit, apex

বেক্সিমকো, সামিট, নাভানা, beximco, summit, apexপুঁজিবাজারে ধসের ঝাপটা থেকে রক্ষা পায়নি দেশের শীর্ষ শিল্প গ্রুপগুলোর বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারও। বেক্সিমকো, সামিট, নাভানা, এপেক্স, মুন্নু-সবার ক্ষেত্রেই প্রায় একইরকম চিত্র। গত তিন বছরে এসব কোম্পানির শেয়ারের দরও টানা কমেছে। লোকসান এড়াতে ২০১০ সাল থেকে অনেকে এখনো কোম্পানিগুলোর শেয়ার ধরে রেখেছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও বিনিয়োগকারীদের মূলধন ফেরত আসেনি। বরং কোম্পানিভেদে ২০ থেকে ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত লোকসানে আছেন তারা। ব্যতিক্রম কেবল স্কয়ার গ্রুপের দুই কোম্পানির বিনিয়োগকারীরা।

পুঁজিবাজারে মূল্যসূচকের সর্বোচ্চ রেকর্ডের দিনের (৫ডিসেম্বর, ২০১০) বাজার মূল্যের সঙ্গে শেয়ারের বর্তমান দরের তুলনা করে এ চিত্র পাওয়া গেছে। পুঁজিবাজারে ৫ ডিসেম্বরের পরই ধস শুরু হয়। আর এর রেশ এখনও কাটেনি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে পাওয়া পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় এ চিত্র উঠে এসেছে।

বেক্সিমকো গ্রুপ:

বর্তমানে পুঁজিবাজারে বেক্সিমকো গ্রুপের চারটি কোম্পানি রয়েছে। আর তার সব ক’টিতেই লোকসানে আছেন বিনিয়োগকারীরা। এর মধ্যে বিনিয়োগকারীরা সবচেয়ে বেশি লোকসানে আছেন বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ারে। এ শেয়ারে লোকসানের হার ৭৯ শতাংশ। শাইনপুকুর সিরামিকসে লোকসান ৭৭ শতাংশ, বেক্সিমকো সিনথেটিকসে ৬০ শতাংশ এবং বেক্সিমকো ফার্মায় লোকসান ২২ শতাংশ।

২০১০ সালের ৫ ডিসেম্বর বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ারের দাম ছিল ৩২০ টাকা। ২০১০ সালে কোম্পানিটি ৫০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দেয়, পরের বছর ২০১১ সালে ২৫ শতাংশ বোনাস এবং ২০১২ সালে ১৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দেয় কোম্পানিটি। সব মিলিয়ে শেয়ারের সংখ্যা দাঁড়ায় ২ দশমিক ১৫টি। বোনাসসহ শেয়ারটির কস্টিং দাঁড়ায় ১৪৮ টাকা।  বৃহস্পতিবার সর্বশেষ শেয়ারটির দাম ছিল ৩০ টাকা। সেই হিসেবে বেক্সিমকো শেয়ারের বিনিয়াগকারীরা ১১৮ টাকা বা ৭৯ শতাংশ লোকসানে রয়েছে।

২০১০ সালের ৫ ডিসেম্বর বেক্সিমকো সিনথেটিকসের শেয়ারের দাম ছিল ৫৪৩ টাকা। তখন এর অভিহিত মূল্য ছিল ১০০ টাকা। বর্তমানে সব শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা। এ হিসেবে ২০১০ সালের ৫ ডিসেম্বর বেক্সিমকো সিনথেটিকসের শেয়ারের দর দাঁড়ায় ৫৪ টাকা ৩০ পয়সা। কোম্পানিটি ২০১০ ও ১১ সালে ১৫ শতাংশ হারে বোনাস লভ্যাংশ দেয়, ২০১২ সালে দেয় ১০ শতাংশ বোনাস। সব মিলিয়ে সম্মিলিত বোনাসের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ দশমিক ৪৪ টি। বোনাসসহ শেয়ারটির কস্টিং দাঁড়ায় ৩৭ টাকা ৪০ পয়সা। বৃহস্পতিবার সর্বশেষ শেয়ারটির দাম ছিল ১৫ টাকা। সেই হিসেবে বেক্সিমকো সিনথেটিকসের শেয়ারে বিনিয়োগকারীরা ২২ টাকা ৪০ পয়সা বা ৫৯ দশমিক ৬০ শতাংশ লোকসানে রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বেক্সিমকো ফার্মা শেয়ারের সর্বশেষ বাজার মূল্য ছিল ৫০ টাকা।২০১০ সালের ৫ ডিসেম্বর এই শেয়ারের দাম ছিল ১৪৪ টাকা।২০১০ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত কোম্পানিটি যথাক্রমে ২০ শতাংশ, ২১ শতাংশ এবং ১৫ শতাংশ হারে বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। কোম্পানিটির সম্মিলিত বোনাসের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ দশমিক ৬৬টি। সর্বশেষ দর অনুসারে এই শেয়ারের বিনিয়োগকারীরা ৩৬ টাকা বা ৪১ শতাংশ লোকসানে রয়েছে।

একই গ্রুপের শাইন পুকুর সিরামিকের বিনিয়োগকারীরাও লোকসানে রয়েছে। বৃহস্পতিবার এই শেয়ারের সর্বশেষ বাজার মূল্য ছিল ১৭ টাকা। ২০১০ সালের  ৫ ডিসেম্বর এই শেয়ারের দাম ছিল ১১৫ টাকা। ২০১০ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত কোম্পানিটি ১৫ শতাংশ হারে বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। কোম্পানিটির সম্মিলিত বোনাসের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ দশমিক ৫২টি। সর্বশেষ দর অনুসারে এই শেয়ারের বিনিয়োগকারীরা ৫৮ টাকা বা ৭৭ শতাংশ লোকসানে রয়েছে।

 সামিট গ্রুপ:

বর্তমান সরকারের সবচেয়ে সুবিধাভুগী সামিট গ্রুপের শেয়ারেও ব্যাপক লোকসান বিনিয়োগকারীদের। এর মধ্যে সামিট অ্যালায়েন্স পোর্টে সর্বোচ্চ ৮১ শতাংশ, সামিট পাওয়ারে ৩৯ শতাংশ এবং খুলনা পাওয়ার কোম্পানিতে ২২ শতাংশ লোকসান বিনিয়োগকারীদের।

২০১০ সালের ৫ ডিসেম্বর সামিট অ্যালায়েন্স পোর্টের শেয়ারের দাম ছিল ১৯৭ টাকা। ২০১০ সালে কোম্পানিটি ২৫ শতাংশ এবং পরের দুই বছরে ১০ শতাংশ করে বোনাস লভ্যাংশ দেয়। তিন বছরে একটি শেয়ার বেড়ে হয় ১ দশমিক ৫১ টি। এ হিসেবে শেয়ারের কস্টিং দাঁড়ায় ১৩০ টাকা। শেয়ারটির বর্তমান মূল্য ১৫ টাকা। এ হিসেবে শেয়ার প্রতি লোকসান ১১৫ টাকা বা ৮১ শতাংশ।

বর্তমানে সামিট গ্রুপের ফ্ল্যাগশিপবাহী কোম্পানি সামিট পাওয়ারের শেয়ারের দাম ৩৫ টাকা টাকা ২০ পয়সা। ২০১০ সালে এর শেয়ারের ১৪৬ টাকা। তিন বছরের লভ্যাংশের পর শেয়ারটির কস্টিং দাঁড়ায় ৭৪ টাকা ৯০ পয়সা। তিন বছর পরও শেয়ার প্রতি লোকসান ৩৫ টাকা বা ৪৭ শতাংশ।

২০১০ সালের ৫ ডিসেম্বর খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (কেপিসিএল) শেয়ারের দাম ছিল ১২০ টাকা। তিন বছরের লভ্যাংশের পর পর শেয়ারটির কস্টিং দাঁড়ায় ৭১ টাকা। বর্তমানে বাজারে এই শেয়ারের দাম ৫৬ টাকা। শেয়ার প্রতি লোকসান ১৫ টাকা বা ২২ শতাংশ।

নাভানা গ্রুপ:

বর্তমান বাজারে লোকসান গুনতে হচ্ছে নাভানা গ্রপের শেয়ারের নিয়োগকারীদেরও।এই গ্রুপের আফতাব অটোর ২০১০ সালে ছিল ৪২৭ টাকা।সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী এই শেয়ারের বাজার মূল্য দাঁড়িয়েছে ৮৪ টাকা।গত তিন বছরে এই শেয়ারের সংখ্যা বেড়ে ১ টি থেকে ২ দশমিক ১৮ টি হয়েছে।বোনাস এ নগদ লভ্যাংশ মিলে কস্টিং দাঁড়িয়েছে ১৯১ টাকা। কিন্তু এই শেয়ারের বিনিয়োগকারীরা এখনও ১০৭ টাকা বা ৫৬ শতাংশ লোকসানে রয়েছে।

২০১০ সালের ৫ ডিসেম্বর নাভানা সিএনজির শেয়ারের দাম ছিল ২১৩ টাকা। গত তিন বছরে কোম্পানিটি ২০, ১৪ ও ১৫ শতাংশ হারে বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। এতে শেয়ার সংখ্যা ১ টি থেকে বেড়ে হয়েছে ১ দশমিক ৫৭ টি। আর শেয়ারের কস্টিং দাঁড়িয়েছে ১৩৫ টাকা। বর্তমানে শেয়ারটির বাজার মূল্য ৬৬ টাকা। তিন বছর পরও এর প্রতি শেয়ারে লোকসান আছে ৬৮ টাকা।