রাবিতে চার বছরে ছাত্রলীগের সাত নেতা খুন

0
97
rajshahi-university

rajshahi-universityদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিদ্যাপীঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) গত চার বছরে ছাত্রলীগের সাত নেতা হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। যাদের তাজা রক্তে রঞ্জিত হয়েছে মতিহারের সবুজ চত্বর। এদের মধ্যে ক্যাম্পাসেই খুন হয়েছে পাঁচ জন। আর অপর দুই জনের মধ্যে একজন গাইবান্দায় এবং অন্যজন ঢাকায় খুন হয়েছে।

এছাড়া বিভিন্ন সময়ে হাত-পায়ের রগ কর্তনের শিকার হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেবিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ-সম্পাদক তৌহিদ আল তুহিনসহ অন্তত ১২ জন নেতা-কর্মী। ক্যাম্পাসে আধিপত্ব বিস্তারকে কেন্দ্র করে এসব হত্যাকাণ্ড ও হাত-পায়ের রগকাটার ঘটনা ঘটেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র মতে, সর্বশেষ শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে নিজ  কক্ষে (২৩০ নম্বর) গুলিবিদ্ধ হয়ে ছাত্রলীগ নেতা রুস্তম আলী আকন্দ নিহত হন। তিনি ছাত্রলীগের ওই হলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ-সম্পাদক ও আগামি কাউন্সিলে হল কমিটির সভাপতি পদের একক প্রার্থী ছিলেন। তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ও তার বাড়ি গাইবান্ধার জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলায়।

সোহরাওয়ার্দী হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা জানান, শুক্রবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে হলের ২৩০ নম্বর কক্ষ থেকে গুলির শব্দ আসে। এ সময় সোহরাওয়ার্দী হল মসজিদে জুমআর নামাজের খুতবা চলছিল। পরে নামাজ শেষে ওই ব্লকের শিক্ষার্থীরা তার রুমে গিয়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে পড়ে থাকতে দেখে হলে অবস্থানরত পুলিশকে জানায়। পরে পুলিশ ও হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করে। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ছাত্রলীগের দাবি, বিভিন্ন সময়ে শিবির এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তবে, এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে শিবির।

আর একটি সূত্র জানায়, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল কমিটির জন্য আগামি ১০ এপ্রিল কাউন্সিল আহ্বান করে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ। এতে রুস্তম আলী সোহরাওয়ার্দী হলের সভাপতি পদে একক প্রার্থী ছিলেন। ছাত্রলীগের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে।

রাবি ছাত্রলীগের তথ্য মতে, এর আগে ২০১৩ সালের  ১৪ এপ্রিল ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখার যুগ্ম-আহবায়ক রবিউল ইসলাম রবিকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

এর আগে ২০১২ সালের ১৬ জুলাই অভ্যান্তরীর কোন্দলে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে ছাত্রলীগ নেতা আব্দুলাহ আল হাসান সোহেল নিহত হয়। নিহত ছাত্রলীগ আব্দুল্লাহ আল হাসান সোহেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের শেরে-ই-বাংলা হল শাখার যুগ্ম-আহবায়ক ছিলেন।

সূত্র মতে, ২০১০ সালের ১৫ আগস্ট ছাত্রলীগের অভ্যান্তরীণ কোন্দলে হলের ছাদ থেকে ফেলে দেয়া হয় ছাত্রলীগ নেতা নাসিরুল্লাহ নাসিমকে। শাহ মখদুম হলের তিন তলার ছাদ থেকে তাকে ফেলে দিলে প্রথমে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীণ অবস্থান আটদিন পর ২৩ আগস্ট তিনি মারা যান।

এর আগে ২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী রাতে ছাত্রশিবির ছাত্রলীগ নেতা ফারুক হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা করে তার লাশ সেপ্টি ট্যাংকে ফেলে দেয়। এসময় ছাত্রলীগের চার নেতার হাত-পায়ের রগ কেটে দেয় ছাত্রশিবির।

এছাড়াও গত বছরের ১৪ নভেম্বর গাইবান্দার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় নিজ গ্রামে খুন হন রাবির এসএম হলের সভাপতি খলিলুর রহমান মামুন। পূর্বের আঘাতের কারণে গত ১৩ জানুয়ারি ঢাকায় নিহত হন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের সভাপতি মাহাবুর রহমান রতন।

রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান রানা বলেন, মৌলবাদী ছাত্র শিবির পরিকল্পিতভাবে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের উপর হামলা করছে। এর ধারাবাহিকতায় শিবির রুস্তম আলীকে হত্যা করেছে।