নরসিংদীতে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে আহত ৪০

0
75

Narsingdi teta juddo Pictureনরসিংদীর রায়পুরায় দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে টেঁটাবিদ্ধ হয়ে কমপক্ষে ৪০ জন আহত হয়েছে। শনিবার সকাল ১১টা থেকে দিনভর উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের দড়িগাঁও গ্রামের সহিদ মেম্বার ও হরিপুর গ্রামের সুমেদ আলীর মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে থেমে থেমে এ সংঘর্ষ চলে।

এ সময় দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে আহতরা হলেন- দড়িগাঁও গ্রামের আ: মজিদের ছেলে নজর আলী (৩০), আবদুল্লাহ মিয়ার ছেলে জয়নাল মিয়া (৩২), সেলিম মিয়ার ছেলে মোস্তফা মিয়া (২৮), জালাল উদ্দিন (২৬), বাদল মিয়া (৩০), গোপিনাথপুর এলাকার মাঈন উদ্দিন (৩৫), বাবুল মিয়া (২৬), কালু মিয়া (৩৫), হোসেন (৪৫), শামীম (২৫), শাহজাহান (৫০), জাকির মিয়া (৩৫), শহিদুল (২৮), আমির হোসেন (৩০), কফিল উদ্দিন (৩৮)সহ প্রায় ৪০ জন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকীদের নরসিংদী ও ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এর আগে গত শুক্রবার দুপুরে দড়িগাঁও গ্রামে একই ঘটনায় সংঘর্ষে দুই পক্ষের প্রায় ২০ জন আহত হয়েছিল। ওই সময় সহিদ মিয়ার সমর্থক আউয়াল মিয়া ও নিজাম উদ্দিনের দুটি বাড়িতে ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল ইসলাম বলেন, কয়েক মাস আগে প্রশাসনের সহযোগীতায় তাদের মধ্যে আপোষ-মীমাংসা করা হয়েছিল। কিন্তু কোন কাজে আসে নি। গত শুক্রবারের সংঘর্ষে ২০ জন আহত হয়েছিল। খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। আজও তাঁরা আবার সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে শর্টগানের ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনার চেষ্টা করলে দুইপক্ষ পুলিশের উপর হামলা চালোনোর চেষ্টা করে, পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছলে সন্ধ্যা ৬টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে।

পুলিশ ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দড়িগাঁও গ্রামের সহিদ মেম্বার ও হরিপুর গ্রামের সুমেদ আলীর মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত দুই বছর ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ ঘটনার জের ধরে ইতোপূর্বে দুই পক্ষের চারজন নিহত হয়।

এ বিষয়ে হরিপুর বাজারের ঔষধ বিক্রেতা পল্লী চিকিৎসক মহসীন মিয়া বলেন, শনিবার দুপুর ১টার দিকে জয়নাল, মাঈন উদ্দিন, বাবুল, মোস্তফাকে টেঁটাবিদ্ধ অবস্থায় আমার কাছে নিয়ে আসা হয়েছিল। তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গত বছরের নভেম্বরে তৎকালীন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রাজি উদ্দিনের নির্দেশনায় স্থানীয় প্রশাসন দুই পক্ষের মধ্যে আপোষ-মীমাংসা করে দেয়। দীর্ঘ চার মাস বিরতির পর আবারও তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুনরায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই গ্রামবাসী। গত ৩০ মার্চ সহিদ মিয়ার সমর্থক দড়িগাঁও পূর্বপাড়া গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে জুসেদ মিয়া মাঠে কাজ করতে গেলে সুমেদ আলীর সমর্থক জাকির হোসেন তার দলবল নিয়ে হামলা চালায়। এ ঘটনার জের ধরে গত শুক্রবার দুপুরে দড়িগাঁও এলাকায় এবং শনিবার বেলা ১১টার দিকে দড়িগাঁও হরিপুর গ্রামের সীমানা এলাকায় দুই পক্ষের সমর্থকরা টেঁটা নিয়ে সংষর্ঘে জড়িয়ে পড়ে। এতে দুই পক্ষের কমপক্ষে ৪০ জন আহত হয়।