ঢাকা-জাকার্তা সরাসরি বিমান চালু করার আহ্বান ডিসিসিআই’র

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
52
ছবি : জয়নাল আবেদিন।

বাংলাদেশের সড়ক ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন, জাহাজ নির্মাণ এবং মেশিনারিজ খাতে বিনিয়োগের জন্য ইন্দোনেশিয়ার ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)’র সভাপতি আবুল কাসেম খান। তিনি বলেন, আশিয়ানভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লাভ করেছে, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

আজ সোমবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)’র সভাপতি আবুল কাসেম খানের সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত মান্যবর রিনা পি সোমারনো এর সঙ্গে এবিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ডিসিসিআই’র সহ-সভাপতি রিয়াদ হোসেন, মহাসচিব এএইচএম রেজাউল কবির এবং ইন্দোনেশিয়ার দূতাবাসের কাউন্সিলর (ইকোনেমিক এ্যাফেয়ার্স) ইনগ্রিদ রোজালিনা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

ছবি : জয়নাল আবেদিন।

মুসলিম ভাতৃ-প্রতিম দুদেশের মধ্যকার বাণিজ্য সম্প্রসারণে আকাশ পথে সরাসরি ঢাকা ও জাকার্তার মধ্যকার যাত্রী এবং পণ্য পরিবহনে বিমান যোগাযোগ চালু করা অত্যন্ত জরুরি। যার মাধ্যমে দুদেশের মধ্যে যোগাযোগ সময় বাঁচবে ও ব্যবসা পরিচালনায় ব্যয় হ্রাস পাবে বলে জানান ডিসিসিআই সভাপতি।

তিনি জানান, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ ইন্দোনেশিয়াতে ৪৬.৩৮৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে। যার বিপরীতে ১১৪৯.৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করে। বাংলাদেশের কৃষি খাতের উন্নয়ন ও পণ্য বহুমুখীকরণ এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটন খাতের বিকাশ ও দক্ষ জনবল তৈরিতে ইন্দোনেশিয়াকে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।

সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ থেকে হালাল পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধিতে ইন্দোনেশিয়ার প্রযুক্তিগত সহযোগিতা প্রয়োজন। এ বছরের শেষ নাগাদ ঢাকা চেম্বারের ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিতব্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্মেলনে ইন্দোনেশিয়ার বিনিয়োগকারীদের যোগদানের আমন্ত্রণ জানান তিনি।

ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত রিনা পি সোমারনো বলেন, গত বছর ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতির বাংলাদেশ সফরের সময় ৫টি সমঝোতা চুক্তি সই হয়। যা দুদেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণে সামনের দিনগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) সইয়ের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় দুদেশের সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি’র একটি খসড়া তৈরির করা হয়েছে। এ চুক্তিটি চূড়ান্তকরণের লক্ষ্যে শিগগিরই ঢাকায় দুদেশের কর্মকর্তাবৃন্দের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তিনি এ বছরের অক্টোবর মাসে ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত “৩৩তম ট্রেড এক্সপো”তে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের আহ্বান জানান। পাশাপাশি বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের আরো বেশি হারে ইন্দোনেশিয়ায় পণ্য রপ্তানির জন্য আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রদূত বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশ থেকে এলএনজি আমদানির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এক্ষেত্রে তিনি ইন্দোনেশিয়া হতে এলএনজি আমদানির জন্য সরকার ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিবৃন্দকে আহ্বান জানান। রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সমুদ্র সম্পদ ও সমুদ্র অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগানোর জন্য দুদেশ একযোগে কাজ করা উচিত বলে অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি।

ঢাকা ও জাকার্তার মধ্যকার সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালুর বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে দুদেশের সরকারি পর্যায়ে উদ্যোগ গ্রহণ করা আবশ্যক। বাংলাদেশ থেকে হালাল পণ্য রপ্তানির জন্য ইন্দোনেশিয়ার পক্ষ হতে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়।

ঢাকা চেম্বারের সহ-সভাপতি রিয়াদ হোসেন বলেন, ইন্দোনেশিয়ার উদ্যোক্তাবৃন্দের পাট ও পাটজাত পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অন্যতম উৎকৃষ্ট গন্তব্যস্থল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তথ্য-প্রযুক্তি খাতে বেশি হারে বিনিয়োগের জন্য ইন্দোনেশিয়ার ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

অর্থসূচক/জেডএ/জেডআর