ফলন ভালো হয়নি, তার ওপর ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না কৃষকরা

0
59
Tormuj

Tormujএ বছর তরমুজের ফলন ভালো হয়নি তার ওপর আবার দাম ভালো না। সবকিছু মিলে তরমুজ চাষিদের মাথায় হাত। সারা বছরে লাভের আশায় থেকে যদি চাষের খরচটাও ঘরে না ওঠে তাহলে বেঁচে থাকাই দুর্বিষহ হয়ে পড়বে তাদের এমনটাই জানিয়েছেন বাদামতলীতে তরমুজ বিক্রি করতে আসা বরিশালের চাষিরা।

শনিবার রাজধানীর পাইকারি বাজার বাদামতলীতে তরমুজ একশ পিস বিক্রি হয়েছে ২২ হাজার টাকায়, অথচ পাইকারি বিক্রেতারা কৃষকদের কাছ থেকে কিনে এনেছেন একশ তরমুজ ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা দাম ধরে।

এ বছর তরমুজের ফুল ফোটার সময় দক্ষিণা বাতাস না বয়ে উত্তরের বাতাস বয়ে যাওয়ায় তরমুজের ফলন ভালো হয়নি বলে জানিয়েছেন রাজধানীর সর্ববৃহৎ ফলের বাজার বাদামতলীর ঘাটে আসা বরিশালের তরমুজ চাষিরা। তবে, স্থানভেদে এর ফলন কোথাও আবার ভালো হয়েছে বলেও জানান তারা।

ফলন কম-বেশি যাই হোক তরমুজের ন্যায্যমূল্য থেকে তারা বঞ্চিত হয়েছেন। তারা অনেক কষ্ট করে অনেক টাকা-পয়সা খরচ করে এই তরমুজ চাষ করেছে। এতে তাদের চাষের খরচ উঠবে না বলেও জানিয়েছেন।

তরমুজ চাষিরা বলেন, তরমুজের যখন ফুল হয় তখন নানা ধরনের পোকামাকড়ে ফলন নষ্ট করে ফেলে। কিন্তু কৃষি অফিসারেরা এ ব্যাপারে আমাদের কোনো সাহায্য করেন না। তারা যদি আমাদের সাহায্য-সহযোগিতা করতো তাহলে আমরা অনেক উপকৃত হতাম।

তারা আরও অভিযোগ করে বলেন, সরকারি কৃষি অফিসারদের কাছে গেলে তারা খুব ব্যস্ততা দেখায়। তারা তো সরকারি চাকরি করেন তারা কেন আমাদের কথা শুনবেন?

যারা দেশের প্রাণ তাদের অবস্থা যদি এই হয় তাহলে অদূর ভবিষ্যতে এ দেশে কৃষক আর জমিতে চাষ করবে না। তখন এ দেশের মানুষকে না খেয়ে থাকতে হবে। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে, দেশ বাঁচলে দেশের মানুষ বাঁচবে। তাই দেশের কৃষকের প্রতি সরকারি কতৃপক্ষেরর এই খাতটির উপর বিশেষ নজর দেওয়া উচিৎ।

তরমুজ চাষি মো. আবদুর রহিম অর্থসূচককে বলেন, এ বছর তরমুজের ফলন ভাল হয়নি। যখন তমুজের গাছে ফুল তখন উত্তরের হাওয়া বইতেছিল। আর উত্তরের হাওয়া তমুজের জন্য খুব খারাপ। এই উত্তরের হাওয়া ফলন নষ্ট করে দেয়।

তিনি আরও বলেন, প্রতি বছর ১ কানি (১৬০ শতাংশ) জমিতে ৪ হাজার পিস তরমুজ হতো। এবার সেখানে তরমুজ হয়েছে মাত্র আড়াই হাজার পিচ।

সুদূর বরিশাল থেকে অনেক টাকা পয়সা খরচ করে ঢাকায় তরমুজ এনেছি, দেখি আড়তদাররা কি দাম দেয়। তবে, তরমুজ চাষ করে তেমন কোনো লাভ করতে পারি না।

এস এস/এএস