যাত্রা শুরু হলো পথশিশু ব্যাংকিংয়ের

0
89

BB_Pathofulটুম্পা শেখ। বয়স ১০ বছর। থাকে খুলনার এক বস্তিতে। বাবা মারা যাওয়ার পর ৫ বোনকে নিয়ে বিপদে পড়ে তার মা। সংসারের হাল ধরতে এ বয়সেই টুম্পাকে কাজে নেমে পড়তে হয়। খুলনার শহরের এক চিংড়ি মাছের ডিপোতে কাজ নেয় সে। ডিপোতে প্রতি কেজি চিংড়ি মাছ কাটার জন্য তাকে দেওয়া হয় ৫ টাকা। প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৫ কেজি মাছ কাটে টুম্পা। প্রতিদিন মাছ কেটে যে টাকা পায় তার একটি অংশ সংসারে খরচ করার পরও কিছু টাকা হাতে থেকে যায়। এই টাকাগুলো ভবিষ্যতে কিভাবে কাজে লাগানো যায় তা-ই ভাবছিল ছোট এ মেয়ে।

টুম্পার মতো কর্মজীবী শিশুদের সহায়তা করতে পাশে এসে দাঁড়ায় মানবসেবা ও সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা (মাসাস) নামের একটি সংগঠন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পথশিশু ব্যাংকিং কার্যক্রমের কথা শুনে এ ধরনের ১০ জন কর্মজীবী শিশুর অভিভাবকের দায়িত্ব নিয়ে সংগঠনটি কর্মজীবী শিশু ব্যাংকিংয়ের সহযোগিতা করছে। আর তাদের ব্যাংকিং সুবিধা দিচ্ছে রূপালী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড।

শনিবার খুলনার হোটেল টাইগার গার্ডেনে টুম্পার মতো এ ধরনের ১০ জনকে নিয়ে ‘পথ ফুল’ শিরোনামে পথশিশু ব্যাংকিংয়ের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান।

এ সময় গভর্নর বলেন, কর্মজীবী পথশিশুদের ব্যাংকিং সেবায় নিয়ে আসতে আমাদের অনেক আইনি লড়াই করতে হয়েছে। অবশেষে আইনি বাধা পেরিয়ে আমরা এদের জন্য ব্যাংকিং সুবিধা প্রদান করতে পেরেছি।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ ব্যাপারে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। আর সেই প্রজ্ঞাপনের আলোকে খুলনার ‘মাসাস’ সংগঠনটি পথশিশুদের সেবায় এগিয়ে এসেছে। আজ কর্মজীবী পথশিশুদের এ ব্যাংকিং সেবার কার্যক্রম শুরু করা হলো তবে এখনই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হচ্ছে না বলে জানান তিনি। পথশিশুদের এ সংখ্যা যখন কয়েক’শ তে উন্নীত হবে তখনই এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

গভর্নর আরও বলেন, কর্মজীবি শিশুরা কাজ করে কিন্তু তারা কোথাও টাকা রাখার সুযোগ পায় না। তারা টাকা রাখে কোন মাটির ব্যাংকে বা কোন গোপন স্থানে। সেখান থেকে তাদের টাকা চুরি হয়ে যায়, নষ্ট হয়ে যায় বা কেউ জোর করে নিয়ে যায়। তাই অভিভাবকহীন এসব শিশুদের টাকা নিরাপদে ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন পূরণের জন্য ব্যবহার করতে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনার চেষ্টা করেছি আমরা। অবশেষে সফল হয়েছি। তাই সব ব্যাংকগুলোকে শিশুদের এ সেবায় স্বতস্ফুর্তভাবে এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।

রূপালী ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক দেবাশীষ চক্রবর্ত্তী বলেন, পথশিশুদের ব্যাংকিং সেবায় আনতে পেরে আমরা খুশি। আমরা আশা করবো মাসাস সংগঠনটির পাশাপাশি আরও অনেক সংগঠন এ সেবায় এগিয়ে আসবে। সেই সাথে ব্যাংকগুলোকেও এ সেবায় এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।

এ অনুষ্ঠানেই ন্যাশনাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম শফিকুর রহমান ন্যাশনাল ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ ১০জন শিশুর লেখাপড়ার দায়িত্ব নেন। তিনি বলেন, এসব শিশুরা যদি পড়ালেখা করতে চায় তাহলে ন্যাশনাল ব্যাংকের পক্ষ থেকে তাদের প্রতিমাসে এক হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। ব্যাংকের সিএসআর কার্যক্রমের আওতায় নয় তাদের শিক্ষাবৃত্তির তাওতায় টাকা দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ম. মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী, সিএসআর অ্যান্ড গ্রিন ব্যাংকিং বিভাগের ও বিভিন্ন ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এসএই/