‘বেইলীরোডস্থ সরকারি নার্সারিটি রক্ষার দাবি’

0
65
BAPA

BAPAঢাকা শহর এশিয়ার দ্বিতীয় অপরিচ্ছন্ন শহর। প্রায় দুই কোটি লোকের এই রাজধানী ঢাকা দিন দিন বসবাসের জন্য বিপদজনক হয়ে পড়ছে। পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে প্রতিনিয়ত। তাই বছরে প্রায় ২৯৪ প্রজাতির ১০ লক্ষাধিক চারা সরবরাহ করে ঢাকাকে কিছুটা সবুজ করার রসদদায়িনী রূপে অধিষ্ঠাত্রী এই নার্সারিটিকে ধ্বংস করা সরকারের অযোক্তিক ও হঠকারী সিদ্ধান্ত আমরা মেনে নিতে পারি না বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন পরিবেশবাদী আন্দোলনের নেতারা।

শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা), বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবীদ সমিতি  (বেলা), গ্রীন ভয়েস ও বেইলীরোডস্থ সরকারি নার্সারি রক্ষা আন্দোলন এর যৌথ উদ্যোগে বছরে ১০ লক্ষ চারা উৎপাদনকারী ৩৩ বেইলীরোডস্থ সরকারি নার্সারিটি রক্ষার দাবিতে এক নাগরিক সমাবেশ ও প্রতিবাদী অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠানে নেতারা এ কথা বলেন।

বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী ও মানবাধিকার ব্যক্তিত্ব সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, আদিবাসীরা প্রকৃতি ও পরিবেশ বান্ধব। তাই তাদের জন্য প্রকৃতি ও পরিবেশ বিনষ্ট করে এই ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত মূলত তাদের চিন্তা-চেতনা ও নীতির পরিপন্থী একটি কাজ হবে।

তিনি বলেন, আদিবাসীরাও নার্সারী ধবংস করার এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বলে আমরা মনে করি না। ঢাকা শহরের ঐতিহাসিক সাক্ষ্য বহনকারী ঐতিহ্যবাহী চারার গবেষণাগার হিসেবে স্বীকৃত এই জীবন ও পরিবেশ রক্ষাকারী নার্সারীটিকে অবশ্যই রক্ষা করতে হবে।

আদিবাসী নেতৃবৃন্দ ও পরিবেশবীদদের সাথে সরকার যৌথ আলোচনা সাপেক্ষে সুবিধামত বিকল্প স্থানে এই কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য তিনি আহবান জানান।

পংকট ভট্টাচার্য বলেন, যে নার্সারিটি ৯০ বছর ধরে ঢাকার সবুজায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিভিন্ন প্রজাতির বছরে ১০ লক্ষ চারা সরবরাহ করে এই শহরকে বাঁচিয়ে রাখার নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তাকে হঠাৎ করে ধবংস করার চক্রান্ত আমরা মেনে নিতে পারি না। পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগকে আমরা অবশ্যই সাধুবাদ জানাই তবে সেটা প্রকৃতি বিনষ্ট করে নয়।  আমরা চাই সরকার বিকল্প জায়গায় আরও অধিক পরিসরে আদিবাসীদের জন্য সকল সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করবে।

অনুষ্ঠানে অন্য বক্তারা বলেন, আবহাওয়া পরিবর্তনজনিত দুর্যোগের অভিঘাতের সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশ বাংলাদেশ। এখানে কমপ্লেক্স নির্মাণ হলে কিছু ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উন্নয়ন হবে ঠিকই কিন্তু রাজধানী ঢাকা হারাবে ৯০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই নার্সারিটিকে।  তাই আমরা কোনোভাবেই এই নার্সারিটিকে হারিয়ে যেতে দিতে পারি না।

সমাবেশ থেকে পরিবেশবাদী নেতারা বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করেন। এগুলো হলো- ৩৩ বেইলীরোডস্থ সরকারি নার্সারিটি রক্ষা করতে হবে। নার্সারিটির যথাযথ সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে এবং এর আরও প্রসার, শ্রীবৃদ্ধি ও আধুনিকায়ন করতে হবে। রাজধানীতে আরও সরকারি নার্সারি স্থাপন করে ঢাকা শহরের সবুজায়ন ব্যাপক করতে হবে । রাজধানীর সকল উন্মুক্ত স্থান, পার্ক, খেলার মাঠ উদ্যান রক্ষা করতে হবে।

আবুল মকসুদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, প্রবীণ রাজনীতিবীদ পংকট ভট্রাচার্য, বাপা’র সহ-সভাপতি অধ্যাপক খন্দকার বজলুল হক, বাপা’র সাধারণ-সম্পাদক ডাঃ মো. আব্দুল মতিন, পবা’র চেয়ারম্যান আবু নাসের খান, বাপা’র নির্বাহী সদস্য অধ্যাপক এ.এম মুয়াজ্জেম হুসাইন, বাপা’র যুগ্ম-সম্পাদক ও বেইলীরোডস্থ সরকারি নার্সারি রক্ষা আন্দোলনের আহবায়ক মিহির বিশ্বাস, গ্রীন ভয়েস’র সমন্বয়ক আলমগীর কবির, বাপা’র নির্বাহী সদস্য ড. মাহবুব হোসেন, পিস’র মহাসচিব ইফমা হোসেন, পবা’র সিরাজুল ইসলাম, ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট্রের মারুফ রহমান, ইউনাউটেড পিপলস ট্রাস্টের আলী হাজারী প্রমুখ।

এসএস/এএস