‘পেটে ভাত না থাকলে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে কি লাভ’

0
87

Tazrin_humanchainj‘পেটে ভাত না থাকলে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে কি লাভ! যদি এই বাচ্চাটি খেতে না পারে। আমরা কিভাবে থাকি। কি খাই। তিনি কেন জানতে চান না। আমরা তো কোনো কিছুই করিনি। তবে কেন এমন হলো’। সরকারের উদ্দেশ্যে এমন কথাগুলো কেঁদে কেঁদে বলছিলেন মা হারানো তিন বছরের শিশু মাসুমের বাবা। আশুলিয়ার তাজরীন ফ্যাশনের আগুনে পুড়ে নিঁখোজ হওয়া মাহফুজা বেগমের স্বামী আব্দুল জব্বার।

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তাজরিনের ঘটনায় হতাহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে এক মানববন্ধনে মাসুমের বাবা এই কথা বলেন। মানবন্ধনে নিহত, নিখোঁজদের স্বজন ও আহত শ্রমিকরা অংশ নেয়।

মানববন্ধনে মাসুমকে কোলে নিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন জব্বার। তিনি জানান, ‘তাজরীনে আগুন লাগার পর থেকে মাহফুজা এখনও নিখোঁজ। আজ ১৬ মাস পার হলেও তার কোনো খোঁজ পেলাম না। ছোট শিশুকে নিয়ে আজ আমি কিছুই করতে পারি না’। তিনি বলেন, ডিএনএ পরীক্ষা করলেই সব কিছু শেষ হয়ে যায় না।অন্যভাবেও জানা যায়। আমরা বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ার পরও নিখোঁজদের পরিচয় পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের শিগগিরই ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।

জানা যায় তাজরিন ফ্যাশনের আগুনের ঘটনায় নিহত হয় ১১২ জন শ্রমিক। এঘটনার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় আরও ১২ শ্রমিক। তবে এই ১২৪ জনের মধ্যে ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন ৯৭ জন শ্রমিক।

ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ আগুনে পোড়া লাশকে একই কফিনে কয়েকজনকে ঢুকিয়েছে। তবে ডিএনএ টেস্ট করেছে একজনের। তাতে নিখোঁজ হওয়া শ্রমিকদের কোনো হদিস মেলেনি। আবার আহতদের চিকিৎসার দায়ভার কেউ নেয়নি। তাতে বহু শ্রমিক বিনা চিকিৎসায় ভুগছেন। অনেকে মারাও গেছেন। স্বজনরা আহত শ্রমিকদের চিকিৎসা ও ক্ষতিপূণের দাবি জানান।

তিন কন্যা হারানো বাবা বাবুল মিয়া সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। তিনি বলেন, ডিএনএ পরীক্ষার নামে শুধু শ্রমিকদের হয়রানি করা হচ্ছে। এই হয়রানি বন্ধ করে শ্রমিকদের ক্ষতিপুরণ ও পুনর্বাসনের দাবি করেন।

আহত শ্রমিক জরিনা বলেন, আমরা চাই না আর কোনো শ্রমিক এভাবে আগুনে পুড়ে মারা যাক।আমরা ক্ষতিপূরণ চাই। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সরকার তাদের ক্ষতি পূরণ না দিয়ে টালবাহনা করছে।তারা এখন চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে সুস্থ্য হতে পারছেন না।আবার অন্য কারখানায় কাজ পাচ্ছেন না।তাতে অভাবের সংসারে সীমাহীন কষ্টের মধ্যে আছেন বলে দাবি করেন তিনি।

শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করেন নাজনীন শীফা। তিনি অর্থসূচককে জানান, ডিএনএ একমাত্র সামাধান হতে পারে না। নিখোঁজ হওয়া শ্রমিকদের স্বজনদের সঙ্গে কাজ করে সামাধান করা যেতে পারে।আহত শ্রমিকরা আক কোনো কাজ করতে পারছেন না।শিগগিরই তাদের ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।সেই সঙ্গে দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির দাবিও জানান।

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকার তাজরিন ফ্যাশনস পোশাক কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত হন ১১২ জন  শ্রমিক। সেই সঙ্গে আহত হন আরও ৫ শতাধিক শ্রমিক । সেদিন আগুনের ফাঁদে পড়া হাজার হাজার মানুষের কান্নায় ভারী হয়েছিল আকাশ বাতাস।

তবে নিমর্ম ওই ট্র্র্র্যাজেডির ১৬ মাস পেরিয়ে গেছে। স্বজনদের কান্না এখনও থামেনি। এখনও দুই পায়ে দাঁড়াতে পারেন না আলেনূর।এখনও টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারেনি রংপুরের আঞ্জুয়ারা।  তবে আদো কি হবে এই আঞ্জুদের চিকিৎসা।মাসুমের কান্না কি থামানো যাবে কোনো দিন।