ইলিশের গায়ে বৈশাখের খরতাপ, নিম্ন ও মধ্যবিত্তের কপালে হাত

0
73
ইলিশ রপ্তানি, hilsha export ban
ইলিশ মাছ- ফাইল ছবি

ইলিশ রপ্তানি, hilsha export banবৈশাখ আসতে আর মাত্র আট দিন বাকি। বাঙালি সংস্কৃতিতে দিনটি ঘটা করে উদযাপিত হয়ে আসছে বহুকাল ধরে। আর এই দিনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে পান্তা-ইলিশ।

তাই এ বিশেষ দিনটি আসার ১৫ দিন আগে থেকেই প্রতিবছর আকাশ ছোঁয়া হয়ে যায় ইলিশের দাম। এবারও তার ব্যতিক্রম কিছু হয়নি।

রাজধানীর বাজারগুলোর পাইকারি ও খুচরা বাজারে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ইলিশের দাম। দাম দেখে মনে হচ্ছে, বাংলা বছরের প্রথম দিনকে পুঁজি করে ক্রেতার পকেট কাটছেন মাছ ব্যবসায়ীরা। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ইলিশ এখন নিম্ন ও মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে।

শনিবার রাজধানীর এজিবি কলোনী বাজার ও ফকিরাপুল বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকায় এবং এক হালি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৮০০ টাকায়। অথচ এক সপ্তাহ আগে ১ পিস ইলিশ ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে এবং হালি বিক্রি হয়েছে ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকায়।

এদিকে, মাত্র কয়েকদিন আগে কারওয়ান বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলেছিলেন ইলিশের মজুদ ভালো আছে, দাম বাড়বে না। তাদের এই ধারণা পাল্টে ইলিশের বাজার উত্তপ্ত হয়ে উঠলো মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে।

দেখা গেছে, মাছ ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ ক্রেতাদের উদ্দেশ্য করে বলছেন- ‘এখন ইলিশ না কিনে বৈশাখের পরে কিনেন। এখন যে অবস্থা- ইলিশের গায়ে হাত দেওয়া আর কারেন্টে শক খাওয়া একই কথা।’

খুচরা মাছ ব্যবসায়ী মো. ছালেক বলেন, পাইকারি বাজারে ইলিশ মাছের দাম বেড়েছে বলে আমাদেরকেও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

তবে কারওয়ান বাজারের ভোলা-বরিশাল মৎস্য সমিতি অফিসের পরিচালক জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘কেন যে ইলিশের দাম বাড়ছে নিজেও বলতে পারছি না। আসলে আমাদের ভেতর এমন একটা মনস্তাত্ত্বিক বিষয় কাজ করে যে আজ বেশি করে কিনে ফেলি; কাল যদি দাম আরও বেড়ে যায়! দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা থেকেই ইলিশের দাম গিয়ে আকাশে ঠেকে।

তবে তার কথার সাথে সুর মিলিয়ে ক্রেতাদের অনেকেই বলেন, এখন এটি নিয়মে পরিণত হয়ে গেছে যে বৈশাখের  দিন পান্তা ভাত আর ইলিশ মাছ খেতেই হবে। তাই দামের তোয়াক্কা না করে অনেকই চড়া মূল্যে কিনছেন ইলিশ মাছ। তাই দাম যতোই হোক- ইলিশ চাই। এমন মানসিকতাই প্রতিবছর বৈশাখ আসার দুই সপ্তাহ আগে থেকে ইলিশের দাম বাড়িয়ে দেয় বলে মনে করেন তারা।

এসএস/এআর