স্বল্পোন্নত দেশগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

0
70
তোফায়েল আহমেদ ব্রাক সেন্টার
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ: ছবি: অর্খসুচক

তোফায়েল আহমেদ ব্রাক সেন্টারটেকসই উন্নয়নের জন্য স্বল্পোন্নত দেশের দারিদ্র্য দূরীকরণে উন্নয়ন সহযোগীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

গত শুক্রবার জেনেভায় টেকসই উন্নয়নের ওপর আয়োজিত “দ্বিতীয় জেনেভা ডায়লগ” এ বক্তৃতায় তিনি এ আহ্বান জানান।

এ ডায়লগে এ বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, এম, পি এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মহাপরিচালক রবার্টো আজেভেডো বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ৪৮টি স্বল্পোন্নত দেশে পৃথিবীর ১২% লোক বাস করে। কিন্তু বৈশ্বিক উৎপাদনে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে তাদের অবদান মাত্র ১% হারে। এ দেশগুলোর শতকরা ৭৫ ভাগের বেশি লোক দারিদ্রসীমার নীচে বাস করে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি ও কার্যক্রম গ্রহণ করা সত্বেও ১৯৭১ সালে জাতিসংঘ কর্তৃক স্বল্পোন্নত দেশের ক্যাটেগরি প্রবর্তন করার পর এখন পর্যন্ত মাত্র ৪টি দেশ স্বল্পোন্নত ক্যাটেগরি থেকে উত্তরণ ঘটাতে সক্ষম হয়েছে।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে সক্ষম এমন বিশ্বাস থেকেই বাংলাদেশ বাজার অর্থনীতি প্রবর্তন করেছে। আমাদের রপ্তানি খাত দেশের আয় বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তবে, আমাদের রপ্তানির প্রায় ৮৪% আসে টেক্সটাইল খাত থেকে। এ খাত প্রায় ৪ মিলিয়ন লোকের কর্মসংস্থান করেছে, যার বিশাল অংশ মহিলা, যা সামজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে, অনেক প্রচেষ্টার পরেও রপ্তানি বহুমূখীকরণে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হয়নি এবং আমাদের গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের জন্য বাজার সুবিধা এখনও বাধাগ্রস্ত অথবা সীমিত।
মন্ত্রী বলেন, ‘১৬ বছর আগে উন্নত দেশের বাজারে সকল স্বল্পোন্নত দেশকে শুল্ক-মুক্ত ও কোটা-মুক্ত বাজার সুবিধা প্রদান করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। কিন্তু, দুর্ভাগ্যবশত এখন পর্যন্ত সকল উন্নত দেশ সকল স্বল্পোন্নত দেশকে সেই কাঙ্ক্ষিত বাজার সুবিধা প্রদান করেনি। হংকং মিনিস্টারিয়েল-এ যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তাতে সকল স্বল্পোন্নত দেশকে কমপক্ষে ৯৭% ট্যারিফ লাইনে শুল্ক-মুক্ত সুবিধা প্রদানের কথা বলা হয়েছে। তবে, ৯৭% পণ্যের তালিকায় স্বল্পোন্নত দেশসমূহের গুরুত্বপূর্ণ পণ্য অন্তর্ভুক্ত করা ব্যতীত হংকং সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন অর্থহীন হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় আরও উল্লেখ করেন, সেবা খাতের বাণিজ্যে মোড-৪ এর আওতায় জনশক্তি রপ্তানির জন্য অধিকতর বাজার সুবিধা আদায়ের জন্য বাংলাদেশ দীর্ঘদিন যাবত প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে। সেবা খাতের বাণিজ্যে স্বল্পোন্নত দেশসমূহের জন্য গৃহীত “ওয়েভার সিদ্ধান্ত” বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ বাজার সুবিধা অর্জিত হতে পারে। তবে, ২০১১ সালে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হলেও তা এখনও কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। এর মূল কারণ হচ্ছে সেবা খাতের বাণিজ্যের জটিল প্রকৃতি এবং প্রকৃত তথ্য-উপাত্তের অভাব। তবে, মোড-৪ এর আওতায় জনশক্তি রপ্তানির জন্য বাজার সুবিধা প্রদান ব্যতীত “ওয়েভার সিদ্ধান্ত” বাস্তবায়ন অর্থহীন হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য, বাণিজ্যমন্ত্রী আংকটাডের সেক্রেটারি জেনারেল মুখিসা কিটুআই ও ডব্লিউটিওর মহা-পরিচালক রবার্টো আজেভেডোর সঙ্গে বৈঠক করেন। এ ছাড়া তিনি ৮টি দেশের রাষ্ট্রদূতের সাথে মতবিনিময় করেন। এ সময় রাষ্ট্রদূতগণ এলডিসি ভুক্ত দেশগুলোর প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করার পক্ষে অভিমত ব্যক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেন।

এআর