মালয়েশিয়ায় নিষিদ্ধ হলো অনৈসলামিক সিনেমা ‘নোয়াহ’

0
64

noahরাসেল ক্রো অভিনীত বাইবেলের কাহিনি নিয়ে নির্মিত হলিউডি সিনেমা ‘নোয়াহ’  নিষিদ্ধ ঘোষণা করায় নতুন করে অন্যান্য মুসলিম দেশের সাথে যুক্ত হয়েছে মালয়েশিয়া। দেশটি বলছে, এ ধরনের সিনেমা ধর্মবিদ্বেষী। সেই সাথে তা নবীদের জন্য অপমানজনক, যা ধর্মকে ব্যাপকভাবে আঘাত করে। শনিবার দেশটির সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এ খবর নিশ্চিত করেছে।

ওই মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোতে ব্যাপক প্রতিবাদের শিকার হচ্ছে বাইবেলের কাহিনি নিয়ে নির্মিত সিনেমা নোয়াহ। এতে নুহ নবীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ক্রো। ইতোমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের তিনটি দেশে নিষিদ্ধ হয়েছে নোয়াহর প্রদর্শনী। কাতার, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সেন্সর বোর্ড তাদের দেশে সিনেমাটি প্রচার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের সাথে তাল মিলিয়ে মালয়েশিয়াতেও এই ধরনের সিনেমা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার।

মালয়েশিয়ার সেন্সর বোর্ডের এক মুখপাত্র আব্দেল হালিম আব্দুল হামিদ জানিয়েছেন, এই সিনেমার কাহিনী ইসলামের শিক্ষাবিরোধী। এখান থেকে দু্ই সপ্তাহ আগে থেকে সিনেমাটি নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে । আজ আনুষ্ঠানিকভাবে তা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো। তিনি বলেন, এটি মুসলিমদের জন্য যেমন হুমকিস্বরূপ তেমনি খ্রিষ্টানদের জন্যও বিপদজনক।

নোয়াহ পরিচালনা করেছেন অস্কার মনোনীত সিনেমা ‘ব্ল্যাক সোয়ান’-এর নির্মাতা ড্যারেন আরোনফস্কি। এতে মূল ভূমিকায় অভিনয় করেছেন রাসেল ক্রো। সঙ্গে আছেন অ্যান্থনি হপকিন্স, জেনিফার কনেলি এবং এমা ওয়াটসন।

‘নোয়াহর নৌকা’ নামের বাইবেলের এক গল্প থেকে নির্মিত হয়েছে এই সিনেমা। অনেক বছর আগে যখন পৃথিবীতে পাপীর সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়, তখন ঈশ্বরের অনুগত ব্যক্তি নোয়াহ এবং তার পরিবারকে দেওয়া হয় এক বিশেষ দায়িত্ব।

ঈশ্বরের নির্দেশ মানার জন্য নোয়াহ নির্মাণ করেন এক বিশাল নৌকা। যেখানে একজোড়া করে বনের সকল প্রকার প্রাণিকে সঙ্গে নিয়ে যাত্রা করেন নোয়াহসহ ঈশ্বরের অনুগত কিছু সংখ্যক মানুষ। পাপীদের সঙ্গে লড়াই করে শেষমেশ সেই নৌকা নিয়ে যাত্রা শুরু করেন নোয়াহ।

আর পাপীদের শাস্তি স্বরূপ পৃথিবীতে এক বিশাল বন্যা বইয়ে দেন ঈশ্বর। বেশ কিছুদিন ধরে চলা সেই বন্যায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় পৃথিবীর সব পাপী জীব। এরপর নোয়াহ তার পরিবার এবং ঈশ্বরের অনুগত সঙ্গীদের নিয়ে পা রাখেন পাপমুক্ত নতুন পৃথিবীতে।

প্রসঙ্গত, মিসর, জর্ডান এবং কুয়েতের কাছ থেকেও এমন নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা করছেন নোয়াহর নির্মাতারা। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি ওইসব দেশের সেন্সর বোর্ড।  গণমাধ্যমে হযরত মোহাম্মদকে (স.) উপস্থাপনের ব্যাপারে বরাবরই আরব বিশ্বের সমালোচনার শিকার হয়ে থাকে পশ্চিমা দেশগুলো।

উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ার ৩০ মিলিয়ন জনসংখ্যার মধ্যে খ্রিষ্টানদের সংখ্যা মাত্র ৯ শতাংশ। এছাড়া ৬০ শতাংশ মানুষের বিভিন্ন ধর্মের । তারমধ্যে বড় একটি সংখ্যা হচ্ছে মুসলিম।

এস রহমান/