‘মানুষই এখন পাখির বড় শত্রু’

0
58
inam

inamমানুষ পাখির আবাসন নষ্ট করে গড়ে তুলছে ঘর-বাড়ি, শিল্প-কারখানা ও রাস্তাঘাট। এর ফলে  ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। তাই মানুষই এখন পাখির বড় শত্রু বলে মন্তব্য করেছেন পাখি বিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক।

শুক্রবার চট্টগ্রামের বাতিঘরে আয়োজিত ‘পাখি ও পর্যটন’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ইনাম আল হক বলেন, শুধু প্রকৃতির জন্য নয়, মানুষের বাঁচার জন্য সরাসরি ভূমিকা রাখে পাখি। কিন্তু মানুষ জেনে না জেনে প্রতিনিয়ত ভরাট করছে জলাশয়, উজার করছে বন। আর নষ্ট করছে পাখির আবাসস্থল। তাই পৃথিবী থেকে যেসব পাখি বিপন্ন হয়ে গেছে তার জন্য মানুষরাই দায়ী।

অনুষ্ঠানে শতাধিক পাখি প্রেমীদের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাজীবীর মানুষও অংশ নেয়। অনুষ্ঠানে প্রদর্শন করা হয় বিভিন্ন প্রজাতির পাখির ছবি এবং বিশ্বে বিপন্ন প্রায় ৫০ প্রজাতির পাখি যাদের অধিকাংশই চট্টগ্রাম অঞ্চলে দেখা গেছে। পাশাপাশি পাখিদের আবাস বিপন্ন হওয়ার কারণসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত দর্শনার্থীদের মাজে তুলে ধরেন ইনাম আল হক।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া আরেক পাখি বিশেষজ্ঞ তারেক অণু বিভিন্ন সভ্যতার ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, মানুষের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য হলেও পাখির আবসন নিশ্চিত করতে হবে। সেই সঙ্গে প্রকৃতিকে  রক্ষা করেও কিভাবে পর্যটন গড়ে তোলা যায় তার বর্ণনা দেন তিনি।

ইনাম আল হক বলেন, প্রকৃতির মরা, পঁচা ও আবর্জনা পরিষ্কারের জন্য বড় ভূমিকা রাখতো শকুন। কিন্তু ফসলে ডাইক্লোফেনাক নামক একটি ওষুধ ব্যবহার করার ফলে এসব শকুন মারা যাচ্ছে। এখন এ পাখি আর দেখা যায় না। যদিও  ১৫ বছর আগে  ৪ কোটি শকুন ছিল ।

বিশ্বে বিপন্নের তালিকায় যে ৫০টি পাখি রয়েছে তার মধ্যে চট্টগ্রাম অঞ্চলে এখনো হরিয়াল, হুতোম পেঁচা, বন মোরগ, রাজধন, কাদা পাখি, ধুতিয়াল, রাজহাঁস, পানচিল পাখি দেখা যায়। দ্রুত এসব পাখি আবাসন রক্ষায় এগিয়ে না আসলে প্রকৃতিকে বিপর্যয়ের মুখে ফেলে এসব পাখি হারিয়ে যাওয়ার আশংকা করছেন এ পাখি বিশেষজ্ঞ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাতিঘরের স্বত্ত্বাধিকারী দীপঙ্কর দাশ। চট্টগ্রামের প্রায় শতাধিক পাখি প্রেমী এ আয়োজনে অংশ নেয়।