ভবিষ্যত আয়ের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণের দাবি

0
56

garments রানা প্লাজার দূর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের স্বজনদেরকে প্রকৃত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র। সংগঠনের নেতারা ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণে ভবিষ্যত আয়কে বিবেচনায় নেওয়ার দাবি করেছেন।

একই সঙ্গে রানা প্লাজার মালিকসহ ভবন ধ্বসের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।

শুক্রবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে সংগঠনের পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়।

বিক্ষোভ সমাবেশে সংগঠনের সভাপতি সহিদুল্লাহ চৌধুরী বলেন, রানা প্লাজা ও নিহতদের জন্য সরকার এবং বিজিএমইএ বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে জরুরি আর্থিক সহায়তা পেলেও তা এখনও তাদের হাতে পৌঁছায়নি।

সোহেল রানাকে এখনও উপযুক্ত শাস্তির আওতায় আনা হয়নি অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, তিনি (সোহেল) শ্রমিকদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেননি। এছাড়া, ওই ভবনের কারখানার মালিকরাও প্রশাসনের চোখে আঙ্গুল দেখিয়ে খোলা আকাশের নিচে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদেরকেও শাস্তির আওতায় আনা হয়নি।

গতকাল চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে বিষাক্ত গ্যাসে ৪ জন শ্রমিক নিহত ও ১০ জনেরও অধিক শ্রমিক আহত ও  কাপাশিয়ায় কর্মরত অবস্থায় কালভার্ট ধ্বসে ৪ জন নির্মাণ শ্রমিক নিহত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিনিয়ত বিভিন্ন কর্মস্থলে এভাবে শ্রমিকরা নিহত হলেও এর কোনো প্রতিকার করা হয়নি। খোঁজ নেওয়া হয়না নিহত ও আহতদের।  আর এসব বিষয়ে প্রশাসনও থাকে নিরব।

এ সময় অন্য বক্তারা বলেন, রানা প্লাজা ধ্বংসের ১১ মাস এবং তাজরীন ফ্যাশন অগ্নিকাণ্ডের ১৬ মাস পূর্ণ হয়েছে। রানা প্লাজা ধ্বংসে ১১৩৮ জন শ্রমিক নিহত ও আহত হয়েছে প্রায় ২৫০০ জন। আর তাজরীন গার্মেন্টেস অগ্নিকাণ্ডে নিহত হয় ১১৫ জন ও আহত হয়েছে দেড়শ জন। এসব অগ্নিকাণ্ডে আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের সরকার, বিজিএমইএ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রাথমিক সহায়তা দেওয়া হলেও এখনও কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি।

শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মস্থলের ব্যবস্থার জোর দাবি জানান এ শ্রমিক নেতা। এ বিষয়ে তিনি বলেন, রানা প্লাজার গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিগুলোর অনেক শ্রমিক এখনও নিখোঁজ। এদের ব্যাপারে সরকার কিংবা কারখানা মালিকরা এখনও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের সাধারণ-সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, দপ্তর-সম্পাদক শাহিদা পারভীন শিখা, কেন্দ্রীয় নেতা লুৎফর রহমান, দেওয়ান মো. আলী, আব্দুর রাজ্জাক ও আসলাম খান প্রমুখ।

জেইউ