জাল নোট প্রতিরোধে ব্যাংকে মেশিন ব্যবহারের নির্দেশ

fake_detector_Technosysজাল নোট চিহ্নিত ও প্রতিরোধের জন্য ব্যাংকে জাল নোট সনাক্তকারী যন্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত বুধবার এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে ব্যাংকগুলোর শীর্ষ নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব কারেন্সি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সম্প্রতি ব্যাংকগুলোর এটিএম বুথের মাধ্যমে জাল টাকাসহ ছেঁড়াফাটা নোট পাওয়া যাচ্ছে এ ধরণের অভিযোগ প্রায়ই বাংলাদেশ ব্যাংকে আসছে  যা অনাকাঙ্খিত। এ লক্ষ্যে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে জাল ও ছেঁড়াফাটা নোট প্রচলন রোধকল্পে ব্যাংকগুলোকে পদক্ষেপ নিয়ে তার অগ্রগতি সর্ম্পকে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অবহিত করতে হবে।

নির্দেশনায় আরো বলা হয়েছে,  এখন থেকে ব্যাংকগুলোর সকল শাখায় উচ্চ মূল্যমানের নোট বিশেষ করে একশ, পাঁচশ ও এক হাজার টাকা মূল্যমানের নোট জমা নেয়া ও দেয়ার সময় মান সম্মত জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন দ্বারা পরীক্ষা করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে এটিএম বুথে নোট পাঠানোর আগে ছেঁগাফাটা এবং জাল নোট পৃথকীকরণে সক্ষম উন্নতমানের পরীক্ষিত নোট প্রসেসিং মেশিন দিয়ে নোট যাচাই বাছাই করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, এটিএম বুথে জাল নোট সরবরাহ ও ছেঁড়াফাটা নোটের  বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে একটি আইনগত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত বছর এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন আইনের প্রাথমিক খসড়া তৈরি হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল। সে সময়ে জাল নোট সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তিতে সাক্ষী না পাওয়ার বিষয়টিকে ‘বড় সমস্যা’ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তবে সে আইন নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোন তৎপরতা ছিলনা। এখন এ নির্দেশনার মাধ্যমে হয়তো কিছুটা সোচ্চার হয়েছে বলা যাবে।

তারা জানান, জাল টাকা নিয়ে পাঁচ হাজারেরও বেশি মামলা অনিষ্পতি অবস্থায় রয়েছে। গত কয়েক বছর যাবৎ ঈদের আগে আগে টাকা জালকারী চক্রগুলো অনেক বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠায় এবং বড় অংকের জাল নোটসহ বেশ কয়েকটি জালিয়াত চক্র ধরা পড়ার পর এ বিষয়ে কঠোর আইন করার উদ্যোগ নেয় সরকার। অর্থমন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ গত বছরের ৮ অক্টোবর এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশনা দেয়। সে আলোকে চলতি বছরের মধ্যে  আইনটি চূড়ান্ত করার ব্যাপারে এগিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ এ প্রসঙ্গে বলেন, ব্যাংকগুলোর এটিএম বুথ ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রাহকরা যদি ক্ষতিগ্রস্থ হয় বা হয়রানি শিকার হয় তাহলে ব্যাংক বিমুখ হবে গ্রাহক। সেক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে জাল টাকা শনাক্তকরনে আরো বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের এ উদ্যোগের ফলে  গ্রাহকদের হয়রানি কমবে।