প্রতারণামূলক মামলা নিষ্পত্তিতে দুদককে প্রশ্নবিদ্ধ করলেন সুরঞ্জিত

0
54
suronjit

suronjit৪২০ ধারাসহ প্রতারণা ও জালিয়াতি মামলা পরিচালনা করার জন্য দুদকের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। তিনি বলেন, এসব মামলা থানা থেকেই নিষ্পত্তি করা যায়। এ সময় তিনি দুদকের কয়েকটি আইন সংশোধন করতে আইন মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

শুক্রবার রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু একাডেমি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সুরঞ্জিত বলেন, “যেসব মামলা থানাই নিষ্পত্তি করতে পারে তা দুদক আইনে গেলে থানা ও দুদক দু’টোই যাবে। আইন মন্ত্রণালয় কিভাবে অমনোযোগী হলো তা আমার বোধগম্য নয়। এ বিষয়ে আমি আইনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি”।

এ সময় আগামি ১০ এপ্রিল জাতীয় সংসদের অধিবেশন শেষ হওয়ার আগে দুদকে বিচারাধীন  এসব জালিয়াতি ও প্রতারণা মামলা পেনাল কোডে ফেরত নেওয়ার দাবি জানান এবং আইন সংশোধন করার কথাও বলেন তিনি। একই সাথে দুদক আইনের ৪৬৬-৪৬৯ ও ৪৭৯ ধারাগুলো জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে বলেও মন্তব্য করেন অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ানরা।

বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুল মোবারকের মন্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সব বিতর্কের উর্ধ্বে থাকবে। গণতন্ত্রের সুরক্ষার জন্যই এসব প্রতিষ্ঠান দায়িত্ব পালন করে। মর্যাদাপূর্ণ ও সাংবিধানিক পদে থেকে তির্যক  সমালোচনা ঠিক নয়”।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিব উদ্দীন আহমেদের দীর্ঘ দিন ছুটি কাটানোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “তাঁর দীর্ঘ ছুটিতে যাওয়াকে ডিফেন্ড করা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। মানুষ মনে করে উপজেলা নির্বাচন চলার সময় তার এ দীর্ঘ ছুটিতে থাকা ঠিক হয়নি”।

উপজেলা নির্বাচন নিয়ে বিএনপির বক্তব্যের সমালোচনা করে সুরঞ্জিত বলেন, “সরকার ক্ষমতায় থাকার পরও বিএনপির এতগুলো প্রার্থীর জয় অবশ্যই নজিরবিহীন। নির্বাচনে কারচুপরি অভিযোগ করলে তাদের (উপজেলা চেয়ারম্যান) উচিৎ পদত্যাগ করা”। তিনি মনে করেন, নিরপেক্ষ সরকারের দাবি ত্যাগ করে দলীয় সরকারের অধীনেই আগামিতে সব নির্বাচনে বিএনপির অংশ নেওয়া উচিৎ।

আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মহানগর আওয়ামী লীগের জেষ্ঠ্য সহ-সভাপতি ফয়েজ উদ্দিন মিয়া, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি চিত্তরঞ্জন দাস, ইশতিয়াক আহমেদ দিদার প্রমুখ।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২০ নভেম্বর প্রতারণা, ঘুষ লেনদেন এবং জমি জাল-জালিয়াতিসহ এ ধরনের বিভিন্ন অপরাধ দুদক আইন ২০০৪-এ তফসিলভুক্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপন অনুসারে প্রতারণা, ঘুষ, জমি জাল-জালিয়াতির অভিযোগ নিষ্পত্তি করবে দুদক।

এসএসআর/এএস