গণজাগরণ-ছাত্রলীগের মধ্যে সম্পর্কে ভাটা

0
112
gonojagoron moncho

gonojagoron monchoযুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে ছাত্রলীগ ও গণজাগরণ মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতার মধ্যে প্রকাশ্যে দেখা দিয়েছে দ্বন্দ্ব। এক সময়ে রাজপথে আন্দোলনের সহযোদ্ধা হলেও আজ তারা হয়ে গেছেন সাপেনেউলে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গণজাগরণ মঞ্চ থেকে উপার্জিত টাকার ভাগ-বাটোয়ারা এবং মঞ্চের কর্মীদের সাথে মিল না পড়ায় এই দ্বন্দ্ব দেখা দিচ্ছে। ফলে এক গ্রুপের কর্মীরা অপর গ্রুপের কর্মীদের বিভিন্ন বিষয়ে দোষারোপ করছে।

এ নিয়ে গত কয়েকদিন যাবত ছাত্রলীগ এবং গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীদের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ চলছে। মঞ্চের কর্মীদের সাথে ছাত্রলীগের কোনো সমাঝোতা না হওয়ায় তা সংঘর্ষে রুপ নিচ্ছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাতে শাহবাগে ছাত্রলীগ-গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে আহত হয় অন্তত ৮জন ।

জানা যায়, ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে শাহবাগে আন্দোলন করে ব্লগার অনলাইন এ্যাক্টিভিটিস্ট নামের একটি সংগঠন। পরে সে আন্দোলনে ছাত্রলীগ এবং বাম সংগঠনের নেতাকর্মীরা যোগ দেয়। আন্দোলনের মুখপাত্র করা হয় রংপুর মেডিকেল কলেজের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এবং অনলাইন এ্যাক্টিভিটিস্ট ইমরান এইচ সরকারকে। এ নিয়ে  ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করে বলে জানা যায় ।

শাহাবাগের এই আন্দোলন শাহবাগ থেকে ধীরে ধীরে রুপ নেয় সারা বাংলার মানুষের আন্দোলনে। এই আন্দোলনের সাথে একাত্বতা প্রকাশ করে বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও সুশীল সমাজের নেতাকর্মীরা। তখন থেকে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অনেক টাকা ও স্পন্সর আসতে থাকে। আন্দোলনের সময় সরকারিভাবে টয়লেট, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা জোরদার, আন্দোলনকারীদের খাবার ও পানি সরবরাহ করা হয়।

শুরু থেকেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ওই টাকার হিসাব চেয়ে আসছে। কিন্তু গণজাগরণ মঞ্চের নেতাকর্মীরা কৌশলে তাদের এই দাবি উপেক্ষ করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের শুরু থেকেই ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা শেখ আসমান আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। কিন্তু বর্তমানে শেখ আসমান গণজাগরণ থেকে বের হয়ে এসে বিরোধীতা  করছেন।

বর্তমানে ছাত্রলীগ ও বাম সংগঠনের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা গণজাগরণ মঞ্চের নেতাকর্মীরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারের নেতৃত্বে বাম সংগঠন সমন্বয়ে এক গ্রুপ এবং ছাত্রলীগের শেখ আসমান ও অন্য নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে আরেকটি গ্রুপ।

ইমরান এইচ সরকারের গ্রুপে রয়েছেন- মাহমুদুল হক মুন্সী বাঁধন, মারুফ রসুল, শিবলী, শামীম, আদনান, সনাতন উল্লাস প্রমুখ।

অন্যদিকে ছাত্রলীগের সমন্বয়ে গঠিত গ্রুপে রয়েছে- ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা শেখ আসমান, ঢাবি মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সভপতি ও মহসিন হল শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান প্রিন্স, যুবলীগ নেতা নাসিম আল মামুন রূপক প্রমুখ। বর্তমানে এই দুই গ্রুপের মধ্যে রেষারেষি ও দলাদলি চলছেই ।

কেএফ