ছাত্রলীগই শেষ করেছে জবির হল উদ্ধার আন্দোলন

0
69
jogannath

jogannathথমকে গেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে হল উদ্ধারের আন্দোলন। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে ছাত্রলীগের হস্তক্ষেপে শিক্ষার্থীরা উদ্দীপনা হারিয়ে ফেলেছেন। ছাত্রদের অধিকার আদায়ের দাবিতে যারা সক্রিয় থাকে সেই সংগঠনগুলোও এখন দ্বিধাবিভক্ত।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রায় দুই যুগ ধরে বেদখলে থাকা জবির ১০টি হল উদ্ধারের আন্দোলন খানিকটা গতিশীল হলেও তা ছাত্রলীগের কারণে এবারও ডুবতে বসেছে।

জবির হল উদ্ধার আন্দোলনের শুরু ২০০৫ সাল থেকে। কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবি আদায় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ছাত্ররা হল উদ্ধারের দাবি তোলেন। ২০০৮ সালে এই আন্দোলন কিছুটা গতি পায়। ২০০৯ সালের ২৭ জানুয়ারি হল উদ্ধারের আন্দোলন সংঘাতের দিকে মোড় নেয়। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস বন্ধ হয়ে যায় অনির্দিষ্টকালের জন্য। এরপর থেকে প্রতি বছর ২৭ জানুয়ারি হল উদ্ধার আন্দোলন দিবস হিসেবে পালন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা।

এবারের আন্দোলন গোড়ার দিকে অনেক শক্তিশালী ছিল। শিক্ষার্থীরা আশাবাদী হয়ে উঠেছিলেন এই ভেবে যে, প্রতিবার আন্দোলনের বিরোধিতা করে ছাত্রলীগ হামলা চালায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর। এবার তারা নিজেরাই আন্দোলনে এসেছে। কিন্তু আন্দোলন শেষ হল সেই ছাত্রলীগের কারণেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আন্দোলনের শুরুতেই ছাত্রলীগ নেতাদের নেতৃত্বে গঠিত হল উদ্ধার ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ এখন অনেকটা ঝিমিয়ে পড়েছে। শিক্ষকরা ইতোমধ্যে আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এখন ছাত্রলীগকে বাদ দিয়ে নিজেরাই আন্দোলন গতিশীল করার কথা ভাবছেন জোটের নেতারা। ইতোমধ্যে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতা-কর্মীদের ওপর ছাত্রলীগ কর্তৃক হামলার অভিযোগও উঠেছে।

গত ১৯ মার্চ জবির ১৩ জন শিক্ষক একটি বিবৃতি দিয়ে জানান দেন যে, ১৩ মার্চ ছাত্র-সংগ্রাম পরিষদের সদস্যসচিব ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম সিরাজুল ইসলাম, ছাত্রলীগ নেতা শামীম, শ্যামন ও শিশিরসহ কিছুসংখ্যক ছাত্র নামধারী সন্ত্রাসী, বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দ আলমকে লাঞ্ছিত করে।

সৈয়দ আলম অভিযোগ করেন, তিনি ছাত্রকল্যাণের পরিচালকের দায়িত্ব পালনকালীন তাকে আহ্বায়ক করে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র কমনরুমের জন্য টেন্ডারকৃত মালপত্র বুঝিয়ে নেওয়ার জন্য একটি কমিটি করা হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র কমনরুমের জন্য ওই মালপত্র সরবরাহ না করেই ঘটনার দিন শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে উল্লেখিত নেত-কর্মীরা পিস্তল ও লাঠিসোঁটাসহ সৈয়দ আলমের কক্ষে যায় এবং তাকে মারধর করে। সে সময় সমাপ্তির প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর করতে বলে। স্বাক্ষর না করলে তাকে গুলি করে হত্যা করার হুমকি তারা।

শিক্ষক লাঞ্ছিত করার অভিযোগের পর এসএম সিরাজুল ইসলামকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

তাকে বহিষ্কার ও মামলার জবাবে ছাত্রলীগ সাতজন শিক্ষকের নামে থানায় সাধারণ ডায়েরি করে। পাশাপাশি তারা ১৬ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব গেট তালাবদ্ধ করে শিক্ষকদের ক্যাম্পাসে প্রবেশে বাধা দেয়। কয়েকজন শিক্ষককে লাঞ্ছিত করে এবং মারধরের হুমকি দেয়।

শিক্ষকরা বলেন, শিক্ষার্থীদের হল উদ্ধারের যৌক্তিক দাবিতে শিক্ষকদের কোনো ভিন্নমত নেই। তবে ন্যয্যতার আন্দোলন কখনোই ছাত্র নামধারী সন্ত্রাসীদের নেতৃত্বে  চলতে পারে না।

এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক রাজীব মীর বলেন, ‌ছাত্র-সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে আমরা আর কোনো আন্দোলনে যাচ্ছি না। সন্ত্রাসীকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন চলে না। তারা যে পরিস্থিতি তৈরি করেছে, সেই দায় তাদের।

কেএফ/এআর