মিশ্র-অশ্বিন নাকি ইমরান তাহির?

0
65
Misra-awsin-tahir

Misra-awsin-tahirটি-২০ ম্যাচের মূল অস্ত্রই হলো স্পিন। তাও আবার মিরপুরের মাঠে। ইতিহাস বলছে এখানে স্পিনারদেরকেই সবচেয়ে বেশি সমীহ করতে হয় ব্যাটসম্যানকে। আর এদিক থেকে অনেকটাই এগিয়ে ভারত। ভারত বলতে ওই অমিত মিশ্র বা রবিচন্দ্রন অশ্বিনই।

মিরপুরের মাঠে দীর্ঘদিন যাবত অভ্যস্ততা রয়েছে বিশ্বকাপের এই আসরের এখন পর্যন্ত অপরাজিত ভারতের। অন্যদিকে ভারতীয় শিবিরের দুই প্রধান স্পিনার মিশ্র বা অশ্বিনের বলের গতি প্রকৃতি সম্পূর্ণই অজানা দক্ষিণ আফ্রিকার।

প্রোটিয়াদের জন্য টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আজ তাই অনেক বড় চ্যালেঞ্জই অপেক্ষা করে আছে। তবে ভারতের জন্যও পাল্টা চ্যালেঞ্জ কম নয়। কারণ দক্ষিণ আফ্রিকা দলে যে ইমরান তাহিরও আছেন। মিশ্র আর তাহির উভয়ই এ আসরে লেগ স্পিনারদের আধিপত্যের নতুন এক গল্পই লিখে চলেছেন।

সেমিফাইনালের আগে দুজনেই প্রায় সমানে-সমান। সুপার টেন পর্বে ভারতের চার ম্যাচের দুটিতেই ম্যাচসেরা হওয়া মিশ্র ৮.৭৭ গড়ে নিয়েছেন ৯ উইকেট। সমানসংখ্যক ম্যাচে ৯.১৮ গড়ে ১১ শিকার তাহিরের। মিশ্র যেখানে মিরপুরের স্পিনবান্ধব উইকেটে প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের ভুগিয়ে এসেছেন, তাহিরকে সেখানে তাহির প্রতিপক্ষকে ভুগিয়েছেন চট্টগ্রামে।

তবে পেসার নির্ভর দক্ষিণ আফ্রিকার ডেল স্টেইনও পাল্টে দিতে পারেন মাহেন্দ্র ধোনির হিসাব-নিকাশ। তার বলের গতি ভারতীয়দের কাছে অপ্রতিরোধ্য হলে আসতে আরে প্রটিয়াদের জয়।

চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে একসাথে তিনটি মৌসুম খেলেছেন ধোনি ও ডুপ্লেসিস। সে কারণে দুজন দুজনার সম্পর্কে পুরোপুরিই ওয়াকিফহাল থাকার কথা।

তবে পুরো প্রটিয়া একাদশের অভিজ্ঞতা নেই ভারতীয় ঘূর্ণি জাদুকরদের মোকাবেলা করার। ২০০৩ সালের পর কোনো ম্যাচেই তারা মোকাবেলা করেননি অশ্বিন-মিশ্রদের।

পরিসংখ্যানের দিক থেকেও অনেকটা এগিয়ে ভারত। দুই দলের মধ্যে ৭টি ম্যাচে ভারতে ৫টিতে জয় পেলেও দক্ষিণ আফ্রিকা পেয়েছে দুটিতে। এদিক থেকে অনেকটাই এগিয়ে কোহলি-ধোনিরা।

মুখোমুখি লড়াইয়ে ভারতের সর্বোচ্চ সংগ্রহ ৫ উইকেটে ১৮৬ রান, আর প্রটিয়াদের ২১৯ রান ৪ উইকেটে। অন্যদিকে ভারতের সর্ব নিম্ন স্কোর ১১৮ রান ৮ উইকেটে আর ৯ উইকেটে ১১৬ রান দক্ষিণ আফ্রিকার।

ভারতের সুরেশ রায়না দুই দলের লড়াইয়ে একমাত্র সেঞ্চুরিয়ান। তার সংগ্রহ ১০১ রান।

তবে কাকতাল আর কাল বৈশাখ মিলে সৌভাগ্য ছড়াতে পারে দক্ষিণ আফ্রিকতার কপালেও। যদিও চাপের ম্যাচগুলোয় বারবার ভেঙে পড়ার ইতিহাস আছে তাদের।

অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, দুই সংস্করণের বিশ্বকাপ আর আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি মিলিয়ে ১৭টি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে ৯ বার সেমিফাইনাল খেলে দক্ষিণ আফ্রিকা ফাইনালে চেহারা দেখতে পেরেছে মাত্র একবার! তবে একমাত্র ওই ফাইনালটি ছিল এই ঢাকার মাটিতেই। ১৯৯৮ আইসিসি নকআউট টুর্নামেন্টে। মিনি বিশ্বকাপ নামে পরিচিত ওই টুর্নামেন্টেও শেষ চারে খেলেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও শ্রীলঙ্কা!