হস্তশিল্পে উৎসে কর প্রত্যাহার ও নগদ সহায়তা বাড়ানোর দাবি

0
81

desi-handicraftআগামি অর্থবছরের বাজেটে হস্তজাত শিল্পের ওপর উৎস কর প্রত্যাহার চায় বাংলাদেশ হস্তশিল্প প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি। এছাড়াও সম্ভবনাময় এ শিল্পের উন্নয়নে সহজ শর্তে ঋণ প্রদান ও গবেষণা-ডিজাইন উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণ ইনিস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করাও জরুরী বলে মনে করছেন সংগঠনটির নেতারা।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাথে অনুষ্ঠেয়  প্রাক বাজেট আলোচনায় এ সুপারিশগুলো তুলে ধরবে সংগঠনটি। ইতোমধ্যে এ প্রস্তাবনা বাণিজ্য সংগঠনগুলোর শীর্ষ ফোরাম এফবিসিসিআইয়ের কাছে জমা দিয়েছে সমিতি।

সংগঠনটির প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়, হস্তশিল্পজাত পণ্য রপ্তানির উপর এখন দশমিক শুণ্য আট শতাংশ উৎসে কর আছে। এটি শতভাগ দেশীয় কাঁচামালে ব্যবহৃত শিল্পের বিকাশের বড় বাধা। তাই উৎসে কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা প্রয়োজন।

প্রস্তাবে বলা হয়, হস্তশিল্পের জন্য ব্যাংক ঋণ নিলে তার জন্য উচ্চ হারে সুদ দিতে হয়। এত বেশি সুদ দিয়ে ব্যবসায় টিকে থাকা কষ্টকর। কারুশিল্পের বিকাশের জন্য সহজ শর্তে ও কম সুদে ঋণ দেওয়ার সুপারিশ করেন। প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়, চিন ও ভারতে ৫ থেকে ৮ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়া হয়। প্রতিযোগিতামূলক বাজারে ক্রেতা ধরে রাখতে পণ্যের মূল্য সহনীয় রাখা প্রয়োজন।

প্রস্তাবে দেশের হস্তশিল্পকে এগিয়ে নিতে কারুপল্লী গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়। ঢাকার অদূরে ১০০ একর জমি নিয়ে ক্রাফট ভিলেজ করা যেতে পারে। যেখানে সার্ভিস ডিজাইন সেন্টার-সহ বিভিন্ন হস্তশিল্পের কারখানা থাকবে। এটা প্রতিষ্ঠিত হলে, বিদেশি ক্রেতারা সহজেই এখান থেকে পণ্য কিনতে পারবে বলে উল্লেখ করা হয়।

এখন এলসি ও টিটির বিপরীতে ১৫-২০ শতাংশ হারে নগদ সহায়তার নিয়ম রয়েছে। তবে এটা হস্তশিল্পের জন্য যথেষ্ট নয়। নগদ সহায়তা বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করে তা আগামি ৫ বছরের জন্য অব্যাহত রাখার দাবি জানানো হয়।

পণ্য তৈরির কাঁচামাল উৎপাদনের জন্য রপ্তানিকারকদের খাস জমি বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানানো হয়। যেখানে তারা বাঁশ, বেত ও  ছনের চাষ করা যেতে পারে। তাতে কাঁচামালের দর কমবে ও রপ্তানি বাড়বে বলে মনে করা হয়। তবে সরকার এখনও পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেইনি বলে দাবি করা হয়।

প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে হলে ভারত ইন্দোনেশিয়া, মায়ানমার, থাইল্যান্ড প্রভৃতি দেশ থেকে কমমূল্যে বেত/রং আমদানি করে পণ্য বানিয়ে রপ্তানি করতে হয়। তাই প্রয়োজনে হস্তশিল্প রপ্তানির এলসির রপ্তানির ৫০ শতাংশ কাঁচামাল শুণ্য শুল্কে আমদানি করতে দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

তবে রপ্তানি সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির ৮ম ও ১০ম সভায় বাংলাক্রাফট ডিজাইন সেন্টারের জন্য ১২ শতক জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে এতো দিন পার হলেও এই কার্যক্রম আলোর মুখ দেখেনি বলে দাবি করা হয়।

এছাড়া আয়কর ও মূল্যসংযোজন করমুক্তের মেয়াদ বাড়ানোর দাবি জানানো হয়। এই শিল্পের জন্য যার মেয়াদ রয়েছে ৩০ জুন ২০১৫ পর্যন্ত। তাই এর মেয়াদ বাড়ানোর দাবি জানানো হয়।