রেফ্রিজারেটর শিল্পের করারোপ নিয়ে বিতর্ক

0
173
Refrigerator

Refrigeratorআগামি ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেটে রেফ্রিজারেটর শিল্পের উপর শুল্ক নির্ধারণ নিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছেন ফ্রিজ আমদানিকারক ও প্রস্তুতকারকদের বিভিন্ন সংগঠন। এক পক্ষ দেশিয় শিল্প বিকাশ ও আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি রেফ্রিজারেটর রপ্তানির স্বার্থে আমদানি পর্যায়ে সম্পূরক শুল্ক ৩০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬০ শতাংশ করার দাবি করছে। অন্যপক্ষ প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকতে আমদানির ওপর শুল্ক কমানোর দাবি জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুন বাগিচায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে এনবিআরের সাথে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় এ বিতর্কে জড়ায় সংগঠগুলো।

এনবিআরের সদস্য (আয়কর নীতি) আমিনুল করিমের সভাপতিত্বে এ সময় এফবিসিসিআই এর সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেনসহ ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স খাতের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

রেফ্রিজারেটর প্রস্তুতকারকদের সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা রেফ্রিজারেটর ও ফ্রিজার উৎপাদনে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় করছে। এছাড়া, রেফ্রিজারেটর ও ফ্রিজার রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ও করছে তারা। এর ফলে দেশে এ খাতে বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে এ খাতে।

বাংলাদেশ রেফ্রিজারেটর ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়শনের মহাসচিব লোকমান হোসেন আকাশ বাজেট প্রস্তাবনায় বলেন, বর্তমানে ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেডের বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ১৪ লাখ ইউনিট, যমুনা ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড অটোমোবাইলস কোম্পানি লিমিটেডের বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ৩ লাখ, বাটারফ্লাই ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেডের ২ লাখ ও আরএফএল ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেডের ৩ লাখ রেফ্রিজারেটর উৎপাদন করেছে। ইতোমধ্যে ওয়ালটন দেশিয় বাজারের চাহিদা পূরণ করে ১৬টি দেশে রপ্তানি করছে।

তিনি আরও বলেন, এই সব প্রতিষ্ঠান একদিকে দেশিয় পণ্যের চাহিদা পূরণ করছে অন্যদিকে প্রায় ২০ হাজারের বেশি লোকের কর্মসংস্থান করছে। যা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এত বিপুল লোকের কর্মসংস্থান করা সম্ভব নয়।

তাই উৎপাদনকারি সংগঠনগুলো ট্যাক্সেস লিগ্যাল এন্ড এনফোর্সমেন্টে প্রথম সচিব মো. আবদুছ সামাদ আল আজাদ ও প্রধান বাজেট সমন্বয়কারীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে জোড় দাবি জানান। রেফ্রিজারেটর শিল্পে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট ও রপ্তানির বৃদ্ধির লক্ষ্যে আসন্ন ২০১৪-১৫ বাজেটে রেফ্রিজারেটরের ওপর আমদানি শুল্ক ৩০ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ৬০ শতাংশ করার প্রস্তাব পেশ করে।

অন্যদিকে, আমদানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক্স মার্চেন্টস এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে প্রস্তাব করা হয়, বাংলাদেশ আমদানি নির্ভর একটি দেশ। তাই রাতারাতি আমদানি নির্ভরতা কমানো যাবে না। স্থানীয় শিল্পগুলো মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তের চাহিদা পূরণ করলেও এখন পর্যন্ত উচ্চমধ্যবিত্ত বা সরকারি অফিসগুলো এখনও বিদেশি রেফ্রিজারেটর ব্যবহার করছে। বিদেশি রেফ্রিজারেটরের প্রতি মানুষের এখনও আকর্ষণ রয়েছে। অথচ আমদানিকৃত রেফ্রিজারেটরের চূড়ান্ত শুল্কহার ১০৮ শতাংশ। যেখানে দেশে প্রস্তুতকৃত রেফ্রিজারেটরের চূড়ান্ত শুল্কহার ১৪ শতাংশ। অর্থাৎ দুটি পর্যায়ের শুল্কহারের পার্থক্য ৯৪ শতাংশ। তাই এই এসোসিয়েশন আমদানিকৃত এবং দেশে প্রস্তুতকৃত রেফ্রিজারেটরের মধ্যে চুড়ান্ত শুল্ক পার্থক্য কমিয়ে ৪০ শতাংশ করা দাবি জানায়।

আলোচনা সভায় বাংলাদেশ টিভি ম্যানুফ্যাকশ্চারার অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে টিভি উৎপাদন শিল্পকে রক্ষা করতে কম্পিউটার মনিটরে টিভি সংযোগ দেওয়া বন্ধের দাবি জানান।

এ সময় তারা বলেন, একটি ২২ ইঞ্চি টেলিভিশন কিনতে গেলে একজন গ্রাহকের ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু কম্পিউটারের সামগ্রী আমদানিতে শুল্ক কম থাকায় ৭ থেকে ৮ হাজার টাকায় ২২ ইঞ্চি মনিটর কিনতে পারছেন গ্রাহকরা। এ সুবিধা নিয়ে মানুষ সব মিলিয়ে ১০ হাজার টাকা খরচে টিভি সংযোগ নিতে পারছেন। আর এ কারণে হুমকির মুখে পড়ছে এনবিআরকে ভ্যাট ও কর দিয়ে প্রস্তুতকৃত দেশিয় টেলিভিশন শিল্প।

এইউ নয়ন