বৈচিত্র্য আনুন আপনার বসার ঘরে

0
162
room

room4সময়ের আবর্তে বদলে যায় অনেককিছু। বদলে যায় মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও রুচিবোধ। আগে ঘর সাজাতে মানুষ ব্যবহার করত ভারি ও দামি আসবাবপত্র, দেয়ালে ঝুলিয়ে দিত দামি দেওয়াল ঘড়ি। এমনকি নানা রকম ওয়াল হ্যাঙ্গারে ঝুলন্ত অনেক কিছুর দেখা মিলত। কিন্তু এখন ঘর সাজাতে ভারি আসবাবের চল আর নেই। বরং হালকা ও সুন্দর আসবাবপত্র অনেক বেশি মানানসই, সেই সাথে বাহারি ফুলের ব্যবহার এনেছে নতুনত্ব।

বাড়ির সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল বসার ঘর। কারণ অতিথি এলেই এ ঘরটির গুরুত্ব বেড়ে যায় সবচেয়ে বেশি। তাই যত্ন সহকারে এটি সাজালে রুচির বহিঃপ্রকাশের পাশাপাশি নিজের মধ্যেও একটা ভাল লাগা কাজ করে। তাই কিছু টিপস মেনে সাজাতে হয় বসার ঘরটি। তবে সাজার আগে জেনে নেয়া ভাল কোন জায়গায় হবে এ কাঙ্খিত ঘরটি।

এক্ষেত্রে মনে রাখা ভাল- বসার ঘরটা দক্ষিণ-পূর্ব দিকে হলে বেশি ভাল হয়। এতে করে শীতে যেমন পর্যাপ্ত রোদ পাওয়া যাবে তেমন গরমের সময় বিকেলের পর দক্ষিণের খোলা হাওয়ায় প্রাণও জুড়াবে আপনার।

বসার ঘরের আসবাবপত্রগুলো কোনটা কোথায় রাখবেন তা এবার অর্থসূচকের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেয়া হল:

# ঘরের ওপর নির্ভর করেই এর আসবাবপত্র নির্বাচন করা উচিত। যদি বড় ঘর হয় তাহলে  ঘর সাজাতে সোফা, সেন্টার টেবিল, কর্ণার, ল্যাম্প, ঝাড়বাতি, কার্পেট ব্যবহার করতে পারেন। আর ঘরটি যদি হয় একেবারেই ছোট সেক্ষেত্রে ছোট ছোট আসবাবপত্র নির্বাচন করা জরুরি।

# বসার ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য সঠিক রঙ্গের পর্দার ব্যবহার অবশ্যই অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে উজ্জ্বল এবং হালকা রঙের পর্দা ব্যবহার করাই ভাল। তাতে ঘরে পর্যাপ্ত আলো না আসলেও ঘর অন্ধকার দেখাবে না।

# ঘরে রঙিন ও উজ্জ্বল ভাব আনার জন্য কুশন কভার বা পর্দাও ব্যবহার করা যায়। তবে এক্ষেত্রে ফ্ল্যাট ছোট হলে দরজা ও জানালায় বেশি ভারী পর্দা ব্যবহার না করাই ভালো।

# যেহেতু দেয়ালের রঙ, ফার্নিচার, পর্দা, সোফা কভারের মতো মেঝে বার বার বদলানো সম্ভব নয়। তাই ঘর নির্বাচনের আগেই জেনে নিন কোন ধরনের মেঝে আপনার পছন্দ।

# বসার ঘরের রঙ নষ্ট হয়নি, কিন্তু দীর্ঘদিন দেখতে একঘেয়ে লাগলে কয়েকটি ভালো পোষ্টার কিনে এর ওপর লাগিয়ে দিন। তাহলে ঘরে নতুনত্ব আসবে। এছাড়া সোফার কভারগুলো পরিবর্তন করেও নতুনত্ব আনা যায়।

# সোফার টেবিলে স্টিলের বা কাচের ‘ওয়াটার পন্ড’ দিয়ে সাজিয়ে নিন। সোফার পাশে কর্নার টেবিলে ফুলদানি বা ইনডোর গাছ রাখুন। সেন্টার টেবিলে রাখতে পারেন বাঁশ, বেত বা মাটির শোপিসও।

# ঘরের কর্নারে পটারিতে বড় গাছ, অন্য কর্নারে টেবিল ল্যাম্প, শতরঞ্জি, দেয়ালে আলোকচিত্র এবং নকশিকাঁথার ওয়ালমেট ঝুলিয়ে দিয়েও ঘর সাজাতে পারেন।

# বসার ঘরে এমন ধরনের লাইট ব্যবহার করুন যাতে ঘর গরম না হয়ে ওঠে। তবে খুব শক্তিশালী হ্যালোজেন বাতি ঘরে না রাখাই ভাল। এমনকি ঘরের নান্দনিক সৌন্দর্য আনতে ব্যবহার করতে পারেন স্পট লাইটও।

# বসার ঘরে রঙিন বাতি না দেয়াই ভাল। যদি ঘরে কোন কস্টিউম কর্নার থাকে (এ্যাকুরিয়াম, ফোয়ারা কিংবা কৃত্রিম গাছের বাগান) তবে সেখানে রঙিন বাতি ব্যবহার করা যেতে পারে।

# বসার ঘরের দেয়ালে পেইন্টিংস বা পরিবারের কোনও ছবি রাখতে পারেন। এ ধরনের কোনও কিছু দেয়ালে রাখলে তা ওয়াল হ্যাংগিং কোনও স্পট লাইট দিয়ে হাইলাইট করলে তা ভাল দেখাবে।

# বসার আর খাওয়ার ঘর যদি একইসাথে হয় তাহলে নিজের মতো করেই দুটির মাঝে একটু পার্টিশন দিয়ে নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে বুক শেলফ বা কেবিনেট ব্যবহার করতে পারেন পার্টিশন হিসেবে।

এই ঘরে বিনোদন, পারিবারিক আলাপ-আলোচনা ও হাস্য-কৌতুকই শুধু নয়, বরং আত্মীয়-পরিজনদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ এবং অতিথি আপ্যায়নও হয়। তাই একটু রং আর একটু বুদ্ধি খাটিয়ে ঘরটি সাজিয়ে ফেলুন। আর নান্দনিকতা ছোঁয়ায় মুগ্ধ করুন সবাইকে।

এএসএ/