৩০ বছরেও হয়নি ঢাবির ইনডোর গেমস ভবন

0
71
ঢাবি-গেমস-ভবন

ঢাবি-গেমস-ভবনশিক্ষার্থীদের জন্য শরীরচর্চা ও উন্নত খেলাধুলার সুব্যবস্থার প্রয়াসে ৩০ বছর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুইমিংপুল কমপ্লেক্স সংলগ্ন ইনডোর গেমস ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়।

পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানসম্মত বিনোদনই ছিল এর প্রধান লক্ষ্য। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দুর্নীতির কারণে ৩০বছর পার হলেও শেষ হয়নি ভবনটির নির্মাণ কাজ।

ফলে অভ্যন্তরীণ খেলাধুলা ও মানসম্মত শরীরচর্চা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ভবনটির নির্মাণ কাজে দুর্নীতির কথা স্বীকার করে বলেন, দুর্নীতির কারণে ভবনটির নির্মাণ কাজ আটকে রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ওই সময় একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছিল। ট্রাইব্যুনাল রিপোর্ট দিলেই আবার নির্মাণ কাজ শুরু হবে।

জানা যায়,  ১৯৮৩ সালে জাপানের দাতা সংস্থা জাইকার অর্থায়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের উত্তর-পূর্ব দিকে সুইমিংপুল কমপ্লেক্স সংলগ্ন প্রায় ২ বিঘা জমির ওপর এ ভবনটি নির্মাণের কাজ শুরু হয়। সে সময় ভবনটি নির্মাণে বাজেট ছিল প্রায় ৬ কোটি টাকা। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দুর্নীতির কারণে নির্মাণ কাজ আটকে থাকে।

নির্মিত এ ভবনটিতে শিক্ষার্থীদের জন্য টেবিল টেনিস, ভলিবল, বাস্কেটবল, ক্যারাম, ব্যাডমিন্টনসহ বিভিন্ন ইনডোর গেমসের সুবিধা রয়েছে। ১৯৮৩ সালে কাজ শুরু হয়ে অর্ধেকেরও বেশি কাজ সম্পন্ন হয়।

পরে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নির্মাণ কাজে দুর্নীতি করায় ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর খুবই দুর্বল ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। ভবনের পিলারগুলো নির্মাণে ১২ থেকে ১৬টা রড ব্যবহারের কথা থাকলেও ব্যবহার করা হয় মাত্র চার থেকে ছয়টা। ফলে সম্পূর্ণ কাজ শেষ না হতেই বন্ধ হয়ে যায় ভবনের নির্মাণ কাজ। পরে ভবনটি নির্মাণে তেমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

১৯৯৬ সালে বর্তমান সরকারদলীয় সংগঠন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে তৎকালীন ভিসি অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী (বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান) আবার ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এ সময় ভবনটি নির্মাণে ২ কোটি টাকার বাজেটও করা হয়েছিল। নানা অনিয়মে আবার বন্ধ হয়ে যায় সে উদ্যোগ।

২০০১ সালের পর থেকে বিএনপি-জামায়াতের সময় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও আর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। বরং এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের বিভিন্ন নেতা ভবন নির্মাণের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি বিক্রি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

জানা যায়, ভবনটির নির্মাণের দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসির (প্রশাসন)। সর্বশেষ ২০০৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. হারুনুর রশীদ নির্মাণ কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেন। এতে আগের ভিত্তিটা ভেঙে নতুন করে শুরুর কাজ পায় গোল্ডেন-জেএবিএল কনসোর্টিয়াম নামের এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এতে তিন ভাগের প্রায় দুই ভাগ কাজও শেষ হয়েছিল।

পরে অভিযোগ ওঠে, নির্মাণাধীন ভবনের কাজে নিয়োজিত বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা মোটা অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করেছে। সম্পূর্ণ কাজ শেষ না হতেই তৃতীয় বারের মতো আবার বন্ধ হয়ে যায় ভবন নির্মাণের কাজ। ঘটনাটি তদন্তের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্তে দেখা যায়, এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী মো. আমীর হোসেন, উপ-প্রধান প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা তালুকদার ও হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা শামসুল আলম জড়িত। পরে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে তাদেরকে দোষী বলে রিপোর্ট দেওয়া হয়।

এতে তাদের বরখাস্ত করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য ২০১১ সালের দিকে একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। ট্রাইব্যুনালের বিচার কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ফলে আজ পর্যন্ত ঝুলে আছে এ ভবনের নির্মাণ কাজ।

জানা যায়, ট্রাইব্যুনালে বিচার কাজ সম্পন্ন হওয়ার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটিতে ছিলেন বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুব আলম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আ ব ম ফারুক। তারা রিপোর্ট দিলেই ভবনটির নির্মাণ কাজ আবার শুরু হবে বলে জানা যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মফিজুর রহমান জানান, ভবনটি নির্মাণে দুর্নীতি করায় কাজ বন্ধ রয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগে তৎকালীন প্রকৌশলীকে বহিষ্কার করা হয়।

শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের পরিচালক শওকতুর রহমান বলেন, এ ব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারবো না। এটা আমার এখতিয়ারে নেই। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এর রক্ষণাবেক্ষণে রয়েছে।

বিষয়টি জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ভবনের কাজ নিয়ে তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশলী বিভাগের কর্মকর্তারা দুর্নীতি করায় বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। এতে জড়িত থাকায় বেশ কিছু কর্মকর্তা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারও হয়েছেন। বর্তমানে তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে মামলা বিচারাধীন। মামলাটির নিষ্পত্তি হলে কাজ আবার শুরু হবে বলে তিনি জানান।

এএইচ/সাকি