জয়েন্ট ভেঞ্চারে ব্যবসা হয়, রাজনীতি নয়: গয়েশ্বর

0
73
gayeasor

gayeasorঢাকা মহানগর বিএনপির সুবিধাবাদী ও দদুই নৌকায় পা রাখা’ নেতাদের কঠোর সমালোচনা করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, জয়েন্ট ভেঞ্চারে ব্যবসা হয়, রাজনীতি হয় না। বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের হলরুমে দেশপ্রেমিক যুবশক্তির ‘উপজেলা নির্বাচনের অভিজ্ঞতা ও নির্দলীয় সরকারের যৌক্তিকতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

গয়েশ্বর রায় বলেন, যারা দিনের আলোতে খালেদা আর রাতে অন্য জায়গায় এভাবে জয়েন্ট ভেঞ্চারে ব্যস্ত তাদের বলতে চাই, জয়েন্ট ভেঞ্চারে ব্যবসা হয়, রাজনীতি হয় না।

তিনি বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা কখনো গাদ্দারি করে না। কমান্ডিংইয়ে যারা থাকছেন তারা যদি নির্দেশ না দেন তাহলে দোষ তৃণমূলের নয়। সংগঠনের নেতৃত্ব যদি দেওয়ার প্রয়োজন হয় তাহলে যারা প্রয়োজন মেটাতে পারে তাদের দেওয়াই উচিৎ। নেতৃত্ব সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই না করলে আন্দোলনের ফলাফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানো যাবে না বলেও মন্তব্য করেন গয়েশ্বর রায়। অনুষ্ঠানে নিজেরও সমালোচনা করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

তিনি বলেন, ঢাকা শহরে আন্দোলনে আমরা ব্যর্থ হয়েছি তা দিবালোকের মতো সত্য। অনেকেই মানতে চান না। আমরা যারা ঢাকা আছি তারা আন্দোলন সফল করতে পারিনি। কিন্তু অনেকেই তা স্বীকার না করে প্রমাণের চেষ্টা করছেন তারা ব্যর্থ নয়। নিজেদের ব্যর্থতার দায় অন্যের ঘাড়ে চাপাতে চায় তারা।

ভারপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশনার মোবারক হোসেনকে শেখ হাসিনার খাদিম উল্লেখ করে তিনি বলেন, আপনি প্রমাণ করেছেন আপনি শেখ হাসিনার খাদেম। উপজেলা নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে নির্দলীয় সরকারের যৌক্তিকতা খোঁজার প্রয়োজন পড়ে না। নির্দলীয় সরকারের কোনো বিকল্প নাই।

প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক দাবি করে এই বিএনপি নেতা বলেন, কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা দিয়ে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা করে মুক্তিযুদ্ধের ডাক দিয়েছিলেন। সে সময় আওয়ামী লীগের কোনো নেতা প্রতিবাদ করে নাই। তিনি শেখ মুজিবকে মহান নেতা বলেছেন কিন্তু মুজিবকে রাষ্ট্রপতি বলেন নি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নানা গোপালগঞ্জ শান্তি কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন বলেও অভিযোগ করেন গয়েশ্বর। আওয়ামী লীগ নেতাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা মুক্তিযুদ্ধের নাম ভাঙিয়ে ব্যবসা করে। অথচ সত্যিকারের অনেক মুক্তিযোদ্ধার খাবার জোটে না। অনেকেই ছেলে-মেয়ে নিয়ে বসবাসের জায়গা পর্যন্ত পান না।

সংগঠনের সভাপতি আহসান উল্লাহ শামীমের সভাপতিত্বে ও মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসার সঞ্চালনায় আলোচনায় অন্যদের মধ্যে এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব শাহাদাৎ হোসেন সেলিম, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল, আবু নাসের মো. রহমতুল্লাহ, শাহ মো. আবু জাফর, মেজর (অবঃ) মো. হানিফ, শরীফ মোস্তফাজামান লিটু, মো. জাহাঙ্গীর আলম, রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।