ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ভোগে ফরিদপুরের কৃষকরা

0
70
ফরিদপুর-কৃষক

ফরিদপুর-কৃষকঅনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার চর নাসিরপুর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকার চরে উৎপাদিত বাদাম, দুধসহ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে কৃষকদের। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে এ দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে জানিয়েছে ওই এলাকার কৃষকরা।

চরের অধিবাসীরা জানিয়েছেন, পদ্মার চরের ৯৫ ভাগ রাস্তাই কাঁচামাটির। পাকা রাস্তা নেই বললেই চলে। ফলে পণ্য পরিবহনে এখনো ঘোড়ার গাড়ি কিংবা শ্যালো ইঞ্জিন চালিত বাহনের ওপর নির্ভর করতে হয় তাদের। আর এ বাহনের সংখ্যাও চাহিদার তুলনায় কম হওয়ায় এবং রাস্তা দুর্গম হওয়ায় অধিকহারে ভাড়া গুণতে হচ্ছে চরবাসীকে। পাঁচ থেকে ছয় কিলোমিটার দূরের বাজারে যেতেও জনপ্রতি ২০ থেকে ২৫ বা ৩০ টাকা ভাড়া দিতে হয়। জেলার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এসব চর থেকে উপজেলা শহরে আসতে শত টাকা খরচের পাশাপাশি কয়েক ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হয় তাদের। যা একজন প্রান্তিক চাষির জন্যে দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়।

স্থানীয়রা জানান, চরে বসবাসকারী মানুষের উপার্জনের ক্ষেত্র সীমিত হওয়ায় তাদের হাতে সব সময় অর্থ থাকে না। তাই বাজারে যাতায়াতের জন্যে শতটাকা ব্যয় করা তাদের জন্যে কষ্টসাধ্য।

বছরের অধিকাংশ সময় ধরে পানির নিচে থাকা এসব চরের জমিনের প্রধান ফসল বাদাম আর দুগ্ধ উৎপাদন। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আমরা কাজ করি (একেকে) এর আয়োজনে ও অক্সফাম বাংলাদেশের সহযোগিতায় সম্প্রতি এক কর্মশালায় জানানো হয় ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার শুধু চর নাসিরপুর ইউনিয়নের কয়েকটি চরেই প্রায় ২০ হাজার মন বাদাম উৎপাদনের পাশাপাশি দৈনিক সহস্রাধিক লিটার দুধ উৎপাদন হয়। কিন্তু তা যথাযথ ভাবে বিপণন করতে না পারায় ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকরা। ফলে চরে বসবাসকারী দরিদ্র চাষিরা আরও বেশি অসহায় হয়ে পড়ছেন। কর্মশালায় একেকের নির্বাহী পরিচালক এম এ জলিল ও রি-কল সমন্বয়কারী সঞ্জীত কুমার শীল চরের কৃষকদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান বিপণন সমস্যার কারণে উৎপাদিত বাদাম প্রায় অর্ধেক দামে ও দুধ ২৫ থেকে ত্রিশ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। অথচ জেলা সদর ও উপজেলা সদরের বাজারে এ সকল পণ্য চড়া মূল্যে বিক্রি হয়ে থাকে।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আমরা কাজ করি (একেকে) এর কর্মশালায় চরাঞ্চলের প্রধান ফসল বাদাম ও দুগ্ধ উৎপাদনকারীদের সাথে বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ী, বেসরকারি কোম্পানির প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, এনজিও প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করিয়ে দেয়। এ সময় চরবাসীর উৎপাদিত পণ্যের চিহ্নিত বিপণন সমস্যা সাময়িকভাবে নিরসনের ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. আবু হেনা মোরশেদ জামান।

তবে চরের অধিবাসীদের দাবি, অস্থায়ী ভিত্তিতে নয় বরং স্থায়ীভাবে এ সমস্যা নিরসনে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে মাস্টারপ্লান তৈরি করে উন্নয়ন কাজ করা প্রয়োজন। এতে চরবাসী দেশের সমাজব্যবস্থায় বোঝা না হয়ে বরং দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবে।

এমআইটি/সাকি