ক্লান্তি দূর করতে ঘুরে আসুন যমুনা রিসোর্ট

0
244

Tour_jamuna_resort_1প্রতিনিয়ত কাজের চাপ, অফিসের প্রচণ্ড ব্যস্ততা জীবনকে যান্ত্রিক করে তুলেছে। নেই কোনো দীর্ঘ ছুটি। তাই বলে কি যান্ত্রিক এই জীবনকে একদিনের জন্যও থামানো যাবে না? অবশ্যই যাবে। আর এর জন্য একদিনই যথেষ্ট। সাপ্তাহিক ছুটির দিন ঢাকার অদূরে টাঙ্গাইলের যমুনার পারে তৈরি হওয়া যমুনা রিসোর্টই আপনাকে মুক্ত করবে ক্লান্তি থেকে। এই রিসোর্ট যমুনা নদী, বঙ্গবন্ধু সেতু ও এর আশপাশের এলাকার সৌন্দর্য উপভোগে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

অভ্যন্তরীণ সুবিধা

রিসোর্টের ভেতরে সুইমিংপুল, জিম, হেলথ ক্লাব, বেকারি, স্যুভেনির শপ, ফরেন মানি এক্সচেঞ্জ এবং ইনডোর ও আউটডোর গেমসের ব্যবস্থা রয়েছে। আউটডোরে ফুটবল, ক্রিকেট এবং ইনডোরে ব্যাডমিন্টন, হকি ও দাবা খেলার সুবিধা রয়েছে।

পর্যটকদের থাকার জন্য রয়েছে বিভিন্ন ধরনের আবাসন সুবিধা। ডিলাক্স এক্সিকিউটিভ সুইট, রয়েল সুইট, ২ বেডরুম কটেজ, ৩ বেডরুম কটেজ, এক্সট্রা বেড ও ডরমিটরি সুবিধা রয়েছে। প্রত্যেকটি কক্ষে এসি, টিভি, ফ্রিজ, লার্জ বাথ ও ট্যাপ, গরম ও ঠাণ্ডা পানির ব্যবস্থা রয়েছে।

রিসোর্টের ভেতরে রয়েছে ১৫০ জন ধারণক্ষমতার রেস্টুরেন্ট। এখানে সকালের নাস্তা, দুপুরের ও রাতের খাবারের  ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে হলরুম রয়েছে দুটি। একটির নাম যমুনা অন্যটি ব্রহ্মপুত্র। প্রত্যেকটির ধারণক্ষমতা প্রায় ২শ জন। এ ছাড়াও নৌকা ভ্রমণের জন্য রয়েছে লাইফবোট ও স্পিডবোট। এই বোটগুলো দিয়ে যে কেউ রিসোর্টের সাইট পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।

কিভাবে যাবেন যমুনা রিসোর্ট

যমুনা রিসোর্টে কয়েকভাবে যাওয়া যায়। নিজের গাড়ি, বাস অথবা ট্রেনে। ঢাকার গাবতলী ও মহাখালী থেকে টাঙ্গাইলের বাসে গেলে তুলনামূলক ভাড়া কম লাগে। কমলাপুর অথবা বিমানবন্দর থেকে ট্রেনেও যাওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে সেতুর আগের স্টেশনে নামতে হবে। এরপর হেঁটে অথবা রিকশাযোগে কয়েক মিনিটের পথ। তবে অবশ্যই সবার জানা দরকার যে এই রিসোর্টটি থ্রি স্টার মর্যাদার।

উৎসবে নানান প্যাকেজ

যমুনা রিসোর্টে প্রতিদিনের বাইরেও নানা প্যাকেজ রয়েছে। বিশেষ করে ঈদ, পহেলা বৈশাখ ও থার্টিফার্স্ট নাইট প্যাকেজ। এই প্যাকেজগুলোতে মাথাপিছু খরচ ৪ হাজার টাকা। এছাড়াও যেকোনো করপোরেট ট্যুরের জন্য ভিন্ন ব্যবস্থাও রয়েছে। যারা পিকনিক, ডিজে পার্টি, গেট টুগেদার, অফিসিয়াল অনুষ্ঠান করতে চান তাদের জন্য উত্তম স্থান হতে পারে এই রিসোর্ট। এজন্য সর্বনিম্ন ৫০ জন থেকে সর্বোচ্চ ৫’শ জনের যেকোনো ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের ব্যবস্থা রয়েছে।

আয়োজকরা ইচ্ছা করলে নিজেরা বা রিসোর্ট কর্তৃপক্ষকে বললে তারাও ডিজে পার্টির সব আয়োজন করে থাকে। এখানে আলাদা রান্না করার ব্যবস্থাও রয়েছে। করপোরেট প্যাকেজে সর্বনিম্ন ব্যয় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১২ লাখ টাকা।