ইউক্রেন সংকট আঁচড় কাটছে ইউরোপের পর্যটন শিল্পে

0
69
tourist-attractions

tourist-attractionsইউক্রেন সংকটের কারণে রুবলের অবনমন চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়েছে ইউরোপের পর্যটন ব্যবসায়িদের কপালে। বিশেষ করে, মন্দাপীড়িত স্পেন এবং গ্রীসে আগামি গ্রীষ্মে এই খাতে বড় ধরনের ধসের আশংকা করছেন তারা। খবর সিএনএন মানির।

ইউক্রেন নিয়ে পশ্চিমাদের সাথে রাশিয়ার টানা-হেঁচড়ার জের ধিরে গত মার্চের পর থেকে বিশ্ব বাজারে ইউরো এবং ডলারের বিপরীতে রুবলের দাম প্রায় ১১ শতাংশ কমে গেছে। যার কারণে ইউরোপে রুশদের এবারের ভ্রমণ অন্যান্য সময়ের তুলনায় অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। এছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) এবং রাশিয়ার মধ্যে ভিসা ফ্রি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগও অনেকটা থমকে আছে।

যার প্রভাব অনেকটা কাঙ্খিতভাবেই পর্যটন শিল্পের ওপর পড়েছে। অর্থনৈতিক স্থিতিবস্থার কারণে এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলোর এই সমস্যা মোকাবেলা করতে সক্ষম হলেও সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়ে গেছে স্পেন এবং গ্রীস।

ইউরোপের পর্যটন সংস্থাগুলোর সূত্র মতে, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত পর্যটকদের মধ্য রাশিয়ানরা ভ্রমণের সময় সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করে থাকে। কিন্তু ক্রিমিয়া নিয়ে রাশিয়ার সাথে পশ্চিমাদের মতবিরোধের পর থেকে দেশটি থেকে আগত পর্যটকের হার ক্ষেত্রবিশেষে প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। এছাড়াও কমেছে গ্রীষ্ম উপলক্ষে আগাম বুকিংয়ের হার।

ফলে দুশ্চিতায় পড়ে গেছে স্পেন এবং গ্রীসের পর্যটন ব্যবসায়িরা। অর্থনীতির হারানো গতি ফিরিয়ে আনতে এই দুই দেশের সরকারও অনেকটা পর্যটকদের আগমনের দিকে মুখিয়ে আছেন। স্পেন সরকারের তথ্য অনুযায়ি, ২০১৩ সালে প্রায় ১৬ লাখ রুশ পর্যটক দেশটিতে ছুটি কাটাতে এসেছিলেন। আর গ্রীসে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ১২ লাখ। গ্রীসের মোট জাতীয় আয়ের ১৬ শতাংশ পর্যটন থেকে আয় হয়।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ক্রিমিয়া নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে রাশিয়ায় সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। সেই ক্ষেত্রে স্পেন এবং গ্রীসের মন্দা আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে মত প্রকাশ করেছেন তারা।