ফরিদপুরে কামার শিল্পে চলছে দুর্দিন

0
49

Faridpur Kamar Silpo Pic 01ভালো নেই ফরিদপুরের কামার শিল্পীরা। আধুনিক সভ্যতার যান্ত্রিকতার প্রেষণে পিষ্ট হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে কামার সম্প্রদায়ের পরিবারগুলো। সেই সাথে শিক্ষা, চিকিৎসাসহ মৌলিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে এই পরিবারের সদস্যরা।

কাজের অভাবে এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে জেলার অধিকাংশ কামারশালা। এক সময় হাতুরির টং টং শব্দে সকাল বেলা প্রতিবেশির ঘুম ভাঙলেও এখন এ শব্দ শোনাই দায়। পরিত্যাক্ত কামার শালাগুলোতে বাসা বেধেছে পোকা মাকড়।

ফরিদপুরের বিভিন্ন উপজেলার গ্রাম গঞ্জের ছোট ছোট হাট বাজারের কামার সম্প্রদায়ের সদস্যরা সংসারের নিত্য প্রয়োজনীয় দা, বটি, কুঠার, কাস্তে, শাবল, টেঙ্গি, কোদালসহ নানা জিনিস তৈরি ও বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করতো। সময়ের পরিবর্তনে কৃষিসহ বিভিন্ন বিভাগে আধুনিকতার ছোয়া লাগলেও এখনো সেকেলে রয়ে গেছে কামার পেশার ধরন। আর তাই পিছিয়ে পড়েছে এ পেশার মানুষেরা।

আধুনিক সমাজের মানুষেরা মোটর বা মেশিনে তৈরি দ্রব্যাদি ব্যবহার করায় এ পেশার মানুষের উৎপাদিত সামগ্রির চাহিদা অনেকটা কমে গেছে। একই সাথে বিভিন্ন বিভাগে আধুনিকতা ছোয়া লাগায় ওই সকল সেক্টরে কমে গেছে কামার সম্প্রদায়ের উৎপাদিত যন্ত্রপাতির ব্যবহার। এছাড়া ব্যবহৃত কাঁচামালের মূল্য বেড়ে গেলেও সেই হারে বাড়েনি উৎপাদিত দ্রব্যসামগ্রীর মূল্য। তাই একদিকে লভ্যাংশ কমে যাওয়া অপরদিকে জীবন যাত্রার মানে খরচের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় এ পেশার মানুষেরা আর তাদের পৈত্রিক পেশা ধরে রাখতে পারছে না। বাধ্য হয়ে অনেকেই এরই মধ্যে অন্য পেশায় চলে গেছে। আর যারা একান্তই অন্য কাজ জানে না তারা খেয়ে না খেয়ে এ পেশায় টিকে রয়েছে। এ পেশায় টিকে থাকা মানুষেরা তাদের পরিবারের সদস্যদের চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছে। এ সকল পরিবারের অধিকাংশ শিশুই এখনো শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। বাড়ির বয়স্ক সদস্যরা রোগব্যাধিতে ভুগলেও চিকিৎসা নিতে যায় না অর্থের অভাবে।

সালথা বাজারের জোৎস্না কর্মকার জানান, বর্তমানে লোহার দাম বেশি সেজন্য জিনিসপত্র তৈরি করে বাজারে বিক্রি করতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

সদরপুর উপজেলার হাটকৃষ্টপুর বাজারের খোকন কর্মকার বলেন, পাথর কয়লার দাম বেশি এবং কাঠ কয়লা না পাওয়ার কারণে চাহিদা থাকা সত্বেও আমরা জিনিসপত্র তৈরি করতে পারছি না।

বিভিন্ন এলাকার কামার পরিবারের সাথে কথা বলে জানা যায়, এ সকল কামারদের পরিবারের অধিকাংশই হতদরিদ্র ও ভুমিহীন। অনেকের বসবাসের ভিটামাটি ছাড়া তাদের তেমন কোন জায়গা জমি নেই। এ সকল কামার সম্প্রদায়েরর মানুষের দাবি, প্রয়োজনীয় পুঁজি ও উপকরণের অভাবে তারা এ পেশার আধুনিকায়ন করতে পারছে না। ফলে সমাজের মূল স্রোতের সাথে কারা টিকে থাকতে পারছে না। তাই পরিবর্তিত সমাজব্যবস্থার সাথে পেশায় পরিবর্তনে স্বল্পসুদ প্রদানের ব্যস্থাব নেওয়ার দাবি স্থানীয় কামার সম্প্রদায়ের।

কেএফ