জোটে যদিগো দুটি পয়সা, ফুল কিনে নিও অনুরাগী

0
491

Flower-Shop_Dominic--2‘হলুদ গাঁদার ফুল, রাঙা পলাশ ফুল

এনে দে এনে দে হাট থেকে

নইলে বাঁধব না বাঁধব না চুল’…

কিংবা

…জোটে যদিগো দুটি পয়সা, ফুল কিনে নিও অনুরাগী।

 

ফুলকে নিয়ে বাংলা সংস্কৃতিতে এরকম নানা গান, কবিতা, উপন্যাস ও গল্প।ফুলকে ভালবাসে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। সবার রয়েছে ফুলের প্রতি  দুর্বলতা। বিশেষ বিশেষ দিন কিংবা বিশষ মানুষকে ফুল দিয়ে বরন করার সংস্কৃতিও বাংলার দীর্ঘ দিনের ঐতিহ্য। সামনে আসছে ১৬ ই ডিসেম্বর বাংলার মানুষের ত্যাগের মহিমায় অর্জিত গর্বিত মহান সে দিন বিজয় দিবস।

আর সে দিনকে ঘিরে চলছে নানা আয়োজন। ফুলের  দোকানগুলো সাজিয়েছে বর্ণীল সাজে। বিজয় দিবস ছাড়াও নানা দিবস ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে জন্য ফুলের চাহিদা বেড়ে যায়।আর সে চাহিদাকে সামনে রেখে আমাদের আজকের আয়োজন ফুল বাজারের দর দামসহ টুকিটাকি কিছু খবর।

ফুলের ব্যবহারঃ

আমাদের দেশে উপহার হিসাবে ফুল এখনো যথাযোগ্য মর্যাদা পায়নি। ব্যক্তিগত বা সামাজিক জীবনে উপহার হিসাবে ফুলের কদর বা গ্রহণযোগ্যতা না থাকলেও শহীদ মিনার, স্মৃতিসৌধ,মাজার মৃত্যু ব্যক্তির কফিনে শেষ শ্রোদ্ধা জানাতে ফুলের ছড়াছড়ি আমাদের জাতীয় সংস্কৃতি অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে ।

কবে থেকে এ ফুল চাষ :

বাংলাদেশে ১৯৮৪ সালে প্রথম যশোরের ঝিকরগাছা থানার পানিসরা গ্রামের শের আলী ব্যবসায়ী ভিত্তিতে রজনীগন্ধা ফুলের চাষ শুরু করেন। এর আগে দেশে বৃহৎ পরিসরে রজনীগন্ধা চাষের কোন খবর পাওয়া যায়নি। তবে বাড়ির আঙিনায় শখের বশবর্তী হয়ে রজনীগন্ধা ফুলের চাষ অনেকেই করতেন।

কোথায় চাষ হয়ঃ

বাংলাদেশে এখন বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ফুল চাষ হচ্ছে । সাভারে উৎপাদিত গোলাপ ফুল দেশের চাহিদার বৃহৎ অংশ পরণ করে । প্রতিদিন বাজারে আসছে লাখো গোলাপ।

এছাড়াও যশোরের ঝিকরগাছা ও শার্শা, ঝিনাইদাহের কালিগঞ্জ উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা, সাভার, মানিকগঞ্জ সাদুল্লাহপুর, জিরাবর, কলমা, আশুলিয়া, ঘাটাইল, দশাইদ, নবীনগর, ছায়াবীথি, কাতলাপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় ফুলের চাষ হয়।

কোথায় পাবেনঃ

রাজধানীর শাহবাগে রয়েছে ফুলের বৃহৎ বাজার। এখানের বিভিন্ন দোকান থেকে  চাইলে আপনি কিনতে আপনার পছন্দের ফুল, শ্রদ্ধাঞ্জলী, বাসর ঘর সাজানো, বিবাহের গেট ও গাড়ী সাজানো সহ নানা ধরণের ফুলের সমাহার।

ফুল বা আপনার ফুল সর্ম্পকিত যেকোনো প্রয়োজনে ঘুরে আসতে পারেন শাহবাগের ভ্যালেন্টাইন ফ্লাওয়ার, নিউ করবী পুষ্পালয়, মাধবী পুষ্পালয়, মদিনা পুষ্পালয়, করবী পুষ্পালয়, শাহবাগ পুষ্প কর্ণার, মাধবী পুষ্প কুঞ্জ, হৃদয় পুষ্পালয়, আকাশ পুষ্পালয়সহ বিভিন্ন দোকান গোলোতে।

উল্লেখিত স্থান ছাড়াও কাটা বন, বেইলী রোডসহ রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় ফুলের দোকান নিয়ে বসেন ফুল ব্যবসায়ীরা।

আবার সিগন্যাল পরলে ছোট ছোট বাচ্চারাও ফুল নিয়ে আসে গাড়ির কাছে।

দর-দামঃ

প্রতি স্টীক  রজনীগন্ধা ৫ থেকে ১০ টাকা, গোলাপ ফুল ১০ থেকে ১৫ টাকা, গ্লাডোরাজ ১০ থেকে ১৫ টাকা, অর্কিড ৪০ টাকা, জারবারা ৩০ টাকা, গাঁদাফুল ১০০টি ৩০০ টাকা, ফুলের ঝুড়ি ১০০ টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

কামিনী গাছের পাতা প্রতি আটি ২০০ টাকা, দেব-দারুর গাছের পাতা প্রতি চেন ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

শ্রদ্ধাঞ্জলী রিং ৫০০ থেকে ১০ হাজার টাকা, বুকেট ৫০ থেকে ১০০ টাকা,  বিয়ার গাড়ী ৩ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা, ফুলের গেট ২০ হাজার টাকা, বেলুনের গেট ৫ হাজার টাকা, হলুদের স্টেজ ৫ হাজার থেকে ২ লাখ, বিয়ের স্টেজ ৫ হাজার থেকে ২ লাখ, বাসর ঘর ৩ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকায় পাওয়া যাবে।

রজনীগন্ধা নহর ২০ টাকা, ফুলের মালা ৫০০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা, ফুলের গহনা সেট ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা, ফুলের পাপড়ি প্রতি ঝুড়ি ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বিদেশিদের ফুলের কদরঃ

জাপান ও ইউরোপে ফুলের প্রতি মানুষের ভালোবাসা দেখে মুগ্ধ হতে হয় ।তারা ফুলকে অনেক ভালবাসে। । ওই সব দেশে ফুল উপহার জাতীয় সংস্কৃতির অঙ্গ ।

তাদের প্রত্যেক বাড়ির সামনে বা বারান্দায় ফুল আর ফুল । জার্মানীতে দেখেছি ওখানে ফুল ছাড়া কোনো বাগান বা পার্ক হয় না ।পার্কে কেউ ফুল ছিড়ে না । ব্যস্ত নগরবাসী তাদের অবসর সময়টুকু ঘরে বসে না থেকে বসন্তে ফুলের বাগানে কোমল মসৃণ ঘাসের উপর কেউ শুয়ে, কেউ বসে, কেউ গল্প উপন্যাস পড়ে আর কেউ বা চা-কফি খেয়ে উপভোগ করে।

রপ্তানি সম্ভাবনাঃ

ভারত প্রতি বছর আড়াই হাজার কোটি রুপি মূল্যের ফুল বিদেশে রপ্তানি করে। বাংলাদেশ থেকেও ফুল রপ্তানি করে কোটি কোটি টাকা আয় করা সম্ভব। ফুলচাষীরা অন্যান্য কৃষিপণ্যের মতো ফুল সংরক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকায় হিমাগার স্খাপনের দাবি জানান।

ব্যবসায়ীদের বক্তব্যঃ

ভ্যালেন্টাইন ফ্লালাওয়ারের মালিক মো. আবদুল আজিজ অর্থসূচককে বলেন, ফুলের ব্যবসা ভালো যাচ্ছে না। হরতাল অবরোধ প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা লোকসান হচ্ছে।

তিনি বলেন, এর আগে গণজাগরণ মঞ্চের কারণে আমাদের ফুলের ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকার লোকসান গুনতে হয়েছে। লোকসানের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই আবার রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়েছে।

লাভ-ক্ষতি যাই হোক সামনে আসছে বিজয় দিবস, ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ভালবাসা দিবস, স্বাধীনতা দিবস এ থেকে আগের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আশা করছেন ফুল ব্যবসায়ীরা।