রাইট-বোনাসেও পুঁজি বাঁচেনি

0
97
ডেল্টা স্পিনার্স ফ্যামিলি টেক্স

ডেল্টা স্পিনার্স ফ্যামিলি টেক্সপুঁজিবাজারে মূল্যসূচকের বড় উল্লম্ফনের দিনেও দর হারিয়েছে বস্ত্র খাতের দুই কোম্পানি ফ্যামিলি টেক্স ও ডেল্টা স্পিনারর্স। গত দুই দিনের ব্যবধানে কোম্পানি দুটির  মূল্য সংবেদনশীল খবর এসেছে। এর মধ্যে ফ্যামিলি টেক্স লভ্যাংশ ঘোষণা করে। আর ডেল্টা স্পিনার্সের রাইট শেয়ার ইস্যুর প্রস্তাব অনুমোদন পায়। কিন্তু তারপরও এ দুটি শেয়ারে বিনিয়োগ করে বড় লোকসানের মুখে বিনিয়োগকারীরা। রাইট-বোনাসেও তাদের পুঁজি রক্ষা হচ্ছে না।

মঙ্গলবারের সর্বোচ্চ দর ও বুধবারের ক্লোজিং দর বিবেচনায় ফ্যামিলি টেক্সের শেয়ারে বিনিয়োগকারীরা ২৩ শতাংশ লোকসানে আছেন। অন্যদিকে ডেল্টা স্পিনার্সের বিনিয়োগকারীরা আছেন ১৭ শতাংশ লোকসানে।

সোমবার ফ্যামিলি টেক্স শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করে। এর প্রভাবে মঙ্গলবার শেয়ারটির দাম বেড়ে ৭৪ টাকা উঠে যায়। যদিও প্রবল বিক্রির চাপে কিছুক্ষণের মধ্যেই শেয়ারের কমতে থাকে। নেমে আসে ৬২ টাকা। বুধবার এ শেয়ারের দাম আরও কমে হয়ে ৫৮ টাকা।

অন্যদিকে মঙ্গলবার সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ডেল্টা স্পিনার্সের রাইট শেয়ার ইস্যুর প্রস্তাব অনুমোদন করে। কোম্পানিটি প্রতি ১ শেয়ারের বিপরীতে ২ টি রাইট শেয়ার ইস্যু করছে। তাও আবার কোনো প্রিমিয়াম ছাড়া, শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা দরে।

চমক লাগানো লভ্যাংশ আর রাইট শেয়ারের আকর্ষণীয় প্রস্তাবে গত দু’দিনে অসংখ্য সাধারণ বিনিয়োগকারী কোম্পানি দুটির শেয়ার কিনেছেন। কিন্তু একদিন যাবার আগেই তারা পড়ে গেছেন লোকসানের কবলে। অথচ এত ‘ভালো’ ঘোষণার পর শেয়ারের দর অনেক বাড়বে-এমন আশাই তারা করেছিলেন। সাধারণভাবে এটিই হওয়ার কথা।

বিশ্লেষকদের মতে, দুটি কারণে মূল্যসংবেদনশীল তথ্যের পরও শেয়ারের দর পড়ে গেছে। শেয়ার দুটি সম্ভবত ইনসাইডার ট্রেডিং এর শিকার হয়েছে। রাইট ও বোনাসের তথ্য কোম্পানি সংশ্লিষ্ট কারো মাধ্যমে কিছু লোকজন আগেই জেনেছে। ফলে শেয়ারের দাম আগেই বেড়েছে। ঘটনা ঘটার পর ওইসব বিনিয়োগকারীরা মুনাফা তুলে নিতে শেয়ার বিক্রি করেছে। বিক্রির চাপে দর টেকেনি।

দ্বিতীয়ত: সম্ভবত বিনিয়োগকারীরা কোম্পানি দুটির উদ্যোক্তাদের বিশ্বাস করেন না। তাই তারা শেয়ার ধারণ করে না রেখে বিক্রির জন্য মুখিয়ে থেকেছে। এ কারণেও বাজারে বিক্রির চাপ বেড়ে দর পতন হয়েছে।