নবীনগরে পৃথক অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর ভস্মীভূত, নিহত এক

0
66
fire
fire
ফাইল ফটো

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে পৃথক অগ্নিকাণ্ডে তিনটি বসতঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গেছে।

গতকাল বুধবার ভোররাতে পৌর এলাকার কোর্টরোডস্থ সরকারি আইনজীবী (পিপি) ও আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িসহ দুটি বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

আগুন নেভাতে গিয়ে আহত হয়েছেন পাঁচজন। এদিকে আগুন নিভিয়ে বাড়ি ফেরার পর  আগুনের ভয়াবহতার দৃশ্য সইতে না পেরে বাছির মিয়া (৩০) নামে এক যুবক স্ট্রোক করে মারা গেছেন।

সরকারি আইনজীবী (পিপি) ও আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট সুজিত দেবের বাড়ি ও পশ্চিমপাড়ায় আবু তাহের মিয়ার বাড়িতে এসব অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলো ঘটে।

জানা যায়, উপজেলার সরকারি আইনজীবী (পিপি) ও আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট সুজিত দেব সন্তানের অসুস্থতার কারণে চিকিৎসার জন্য পরিবার পরিজন নিয়ে ঢাকায় যায়। ফাঁকা বাড়িতে কে বা কারা ভোররাতে আগুন লাগিয়ে দেয়। মুহুর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়লে মসজিদের মাইকে আগুন লাগার খবর পেয়ে এলাকার লোকজন জড়ো হয়ে প্রায় দুঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। ততোক্ষণে তিনটি বসতঘর সম্পূর্ণভাবে ভস্মীভূত হয়ে কমপক্ষে ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়।

অপরদিকে একই রাতে দাবিকৃত চাঁদা না পাওয়ায় উপজেলা সদরের পশ্চিমপাড়ার আবু তাহের মিয়ার ছেলে বিল্লাল মিয়ার মোটরসাইকেল আগুনে পুড়িয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। গৃহকর্তা তাহের মিয়া জানান, মধ্যরাতে কে বা কারা বাড়ির বিল্ডিংয়ের সিঁড়িকোঠায় রক্ষিত হোন্ডায় কলাপিবল গেইটের ফাঁক দিয়ে কেরোসিন ছুঁড়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। এরপর সকালে ০১৮৩৫৮৫৬৩২৯ নাম্বার থেকে ফোনে ‘দেখলিতো এখন হোন্ডা পুড়া গেছে, চাঁদা না দিলে এরপর বাড়ি যাবে’ বলে হুমকি দেয়। ওই দুর্বৃত্ত দলটি একই পাড়ার নূরুজ্জামান মিয়ার বাড়িতেও ‘সাবধান বাণী’ উল্লেখ করে চিরিকুট লিখে দেয়ালে লাগিয়ে দিয়ে যায়। লিখে যাওয়া চিরিকুটে ওই ফোন নাম্বারটি লিখে। পরে সন্ধ্যায় ওই ফোন নাম্বারে ফোন করতে বলা হয়। সম্প্রতি বেশকিছু চিরিকুট ও আগুনের ঘটনায় পৌরবাসীর মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

নবীনগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মো. আবু জাফর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘নেতার বাড়িতে আগুন লাগার ঘটনায় আমরা তদন্ত করছি। চিরকুটে আগুন আতঙ্কের কিছু ঘটনায় ইতোপূর্বে মামলাসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছি। এই ঘটনাগুলোর অপরাধীদেরও দ্রুত খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে’। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়াউল হক সরকার, উপজেলা নির্বাহী কমকর্তা আবু শাহেদ চৌধুরী ও সহকারি পুলিশ সুপার (এএসপি নবীনগর সার্কেল) শফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এসপি/সাকি