ওয়ার্ক স্টেশন বাড়ানো ও নতুন শাখা খোলার অনুমতি চান ব্রোকাররা

0
62

DSC_2355ব্রোকারহাউজগুলোকে নতুন শাখা খোলার অনুমতি দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) শীর্ষ ৩০ ব্রোকার প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। একই সঙ্গে তারা ওয়ার্কস্টেশন বাড়ানোর অনুমতি চেয়েছেন।

আজ বুধবার বিকেলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তারা এ আবেদন জানান। বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বৈঠক শেষে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্বপন কুমার বালা অর্থসূচককে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

বৈঠকে উপস্থিত একটি ব্রোকারহাউজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, তারা বিভাগীয় শহরগুলোতে শাখা খোলার অনুমতি চেয়েছেন। তারা মনে করেন, এখনই নতুন শাখার অনুমতি দেওয়ার উপযুক্ত সময়। কারণ বাজারে যথেষ্ট তারল্য সংকট রয়েছে। অন্যদিকে শেয়ারের মূল্যস্তরও আছে যৌক্তিক পর্যায়ে। ফলে আগের তুলনায় ঝুঁকি অনেক কম। শাখা বাড়ালে নতুন অনেক বিনিয়োগকারী সহজে লেনদেন করতে পারবেন। তাতে তারা যেমন উপকৃত হবেন, তেমনই বাজারে তারল্য প্রবাহ বাড়বে।

উল্লেখ, ২০১০ সালে পুঁজিবাজার অস্বাভাবিক তেজী হয়ে উঠলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি ব্রোকারহাউজগুলোর শাখা খোলার অনুমতি বন্ধ করে দেয়। এর পর বাজারে ধস নামলে ওই নিষেধাজ্ঞা আর প্রত্যাহার করা হয় নি।

এ ছাড়া নতুন ওয়ার্ক স্টেশনের অনুমতি সহজ করার পাশাপাশি এর ফি কমানোর দাবি জানিয়েছেন ব্রোকাররা। বর্তমানে ৩০ টি ওয়ার্ক স্টেশনের অতিরিক্ত ওয়ার্কস্টেশন নিতে গেলে অনেক উচ্চ মাশুল দিতে হয়। ডিএসইর বর্তমান ট্রেডিং সফটোয়্যারের উপর চাপ কমাতে এ ফি নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু নতুন ট্রেডিং সফটওয়্যারে এ সমস্যা না থাকায় সহজেই ওয়ার্ক স্টেশন বাড়ানো সম্ভব বলে তারা যুক্তি দেন। এছাড়া প্রধান কার্যালয়ের আওতায় ওয়ার্ক স্টেশন স্থাপনের সীমা বাড়ানোরও আহ্বান জানান তারা। বর্তমানে প্রধান কার্যালয় থেকে ২ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরের এলাকায় ওয়ার্ক স্টেশন স্থাপন করা যায়। এর চেয়ে দূরের এলাকায় ওয়ার্ক স্টেশন স্থাপন করতে হলে শাখা অফিসের অনুমতি নিয়ে তা করতে হয়। ব্রোকাররা এই সীমা বাড়িয়ে ১০ কিলোমিটার করার আহ্বান জানান।

এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা লেনদেন নিষ্পত্তির সময়সীমা কমিয়ে তিন দিনে আনার বিষয়টি (টি+২) ১৬ এপ্রিল থেকে চালু করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর বাইরে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মনিটরিং জোরদার করার জন্য আবেদন করেছে ব্রোকার হাউজগুলো।

ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্বপন কুমার বালা অর্থসূচককে জানান, পরিচালনা পর্ষদের সভায় ওয়ার্ক স্টেশন চালু  ও নতুন শাখা খোলার বিষয়ে আলোচনা হবে। পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তের আলোকে পবরর্তীতে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।

বৈঠকে শীর্ষ হাউজগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ডিএসইর চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান মিয়াসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এই  বৈঠকে শীর্ষ ব্রোকারগুলোর মধ্যে রয়েছে লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ, আইসিবি সিকিউরিটিজ ট্রেডিং কোম্পানি, ব্র্যাক-ইপিএল স্টক ব্রোকারেজ, এআইবিএল ক্যাপিটাল মার্কেট সার্ভিসেস, এমটিবি সিকিউরিটিজ, আইডিএলসি সিকিউরিটিজ, সিটি ব্রোকারেজ, এবি সিকিউরিটিজ, বিএলআই সিকিউরিটিজ, এসইএস সিকিউরিটিজ, রিলায়েন্স ব্রোকারেজ, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক সিকিউরিটিজ, ব্যাংক এশিয়া সিকিউরিটিজ, মাল্টি সিকিউরিটিজ।

উল্লেখ, গত জানুয়ারি মাসে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর পুঁজিবাজারে লেনদেনের ক্ষেত্রে নতুন করে সীমা রেখা টেনে দেয়। এর প্রভাবে বাজার অস্থির হয়ে উঠে।

এসএ/