লোডশেডিংয়ে রাজশাহীতে বোরো আবাদে বিপর্যয়

0
75
লোডশেডিং

লোডশেডিংএকদিকে বৃষ্টি না থাকা এবং অন্য তিকে বিদ্যুতের অভাবে সেচ কাজ ব্যহত হওয়ার কারণে রাজশাহীতে বোরা আবাদ এখন বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। কয়েক দিনের প্রচণ্ড তাপদাহে মাঠ ফেটে চৌচির। ধানের জমিতে দুএক দিনের বেশি পানি থাকছে না । পানির জন্য মাঠে মাঠে কৃষকরা ছুটছে। লাইন ধরছে গভীর নলকুপগুলোতে। কিন্তু সেখানেও চরম বিড়ম্বনা। লোডশেডিং আর লোভোল্টেজ। ২৪ ঘণ্টায় বিদুৎ থাকছে মাত্র ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা। তাও আবার লোভোল্টেজ। এতে করে পানির অভাবে বোরো চাষে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।

কৃষিবিদদের মতে, বোরো ধানের চারার গোড়ায় পানি থাকা আবশ্যক। আর এ সময় পরিমাণ মতো পানি না পেলে ক্ষেতে আগাছা জন্মানোর সাথে সাথে পোকামাকড়ের আক্রমণ বাড়ে ব্যাপকভাবে। যার কারণে বোরোর ফলন অনেক কমে যায়। এতে করে কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিত হতে পারে।

তানোর উপজেলার আমাশো গ্রামের সেচপাম্পের মালিক আবদুল মান্নান জানান, পিডিবি এরিয়ার মধ্যে তার প্রায় চারটি সেচপাম্প (অগভীর নলকুপ) আছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে পিডিবি’র লোভোল্টেজ সরবরাহে বিদুৎচালিত তার দুটি সেচ পাম্পসহ পিডিবি এলাকাধীন প্রায় ১৫০টি গভীর অগভীর নলকুপ অচল হয়ে পড়েছে। এসব পাম্পের আওতায় হাজার হাজার বিঘা কৃষকের বোরো ক্ষেত ফেঁটে চৌচির হয়ে গেছে।

রাজশাহী নওহাটা পল্লি বিদ্যুৎ সদর দপ্তরের কোর্ডিনেটর সিদ্দিকুর রহমান জানান, গত কয়েকদিন ধরে রাজশাহী অঞ্চলের তাপমাত্রা অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। সে কারণে মাঠে সেচের পরিমাণও বেড়েছে। এর পাশাপাশি কেউ নিয়ম মেনে গভীর নলকুপ চালাচ্ছে না।

তিনি আরো জানান, সাধারণত নিয়ম করা আছে যে দিনের বেলায় কোনো নলকূপ চালানো হবে না। কিন্তু কেউই এ আইন মানছেন না। এটিও লোডশেডিং বাড়ার একটি কারণ। মাঠে গভীর নলকূপগুলো যদি দিনের বেলা চালু না করে রাতে নির্ধারিত সময়ে চালায় তাহলে লোডশেডিং-এর বিষয়টি অনেকটা কমানো যাবে।

রাজশাহী পিডিবি’র তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ফেরদৌস আলম জানান, রাজশাহীতে পল্লিবিদ্যুৎসহ মঙ্গলবার মোট চাহিদা ছিল ৯৮ মেগাওয়ার্ট। তবে এর বিপরীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল ৯৩ মেগাওয়াট। ঘাটতি ছিল ৫ মেগাওয়াট।

বিদ্যুৎ সমস্যার কারণ হিসেবে তিনি জানান, গ্রিড উন্নয়নের কাজ করার জন্য রাজশাহীতে একটি ট্রান্সফার্মার দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। অন্য ট্রান্সফার্মাটি চালু হওয়ার পথে। এটি চালু হলে বিদ্যুতের সমস্যা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এমআই/সাকি