জবিতে শিক্ষক-ছাত্রলীগ দ্বন্দ্বে আন্দোলন ব্যাহত

0
62
jnu

jnuজগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শিক্ষক সমিতি ও ছাত্রলীগের দ্বন্দ্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেদখল হওয়া হল উদ্ধার আন্দোলন অনেকটাই থেমে গেছে। শিক্ষার্থীদের নিয়ে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে ছাত্রলীগ বেদখল হওয়া হল উদ্ধার আন্দোলন চালিয়ে গেলেও শিক্ষক সমিতির ব্যানারে আন্দোলন থেকে একেবারেই সরে এসেছেন শিক্ষকরা।

বেদখল হওয়া হল উদ্ধার ও নতুন হল নির্মাণসহ শিক্ষকদের ছয় দফা দাবিতে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে গত ১৬ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে ১৯, ২৩ ও ২৬ মার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি। কিন্তু ১৮ মার্চ শিক্ষক সমিতির সাধারণ-সম্পাদক অধ্যাপক ড. পরিমল বালা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাদের চলমান আন্দোলনের পূর্বঘোষিত সকল কর্মসূচি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে।

এর আগে গত ১৩ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ-সম্পাদক সিরাজুল ইসলামসহ তিন ছাত্রলীগ নেতা রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ আলমকে লাঞ্ছিত করা ঘটনাকে কেন্দ্র করে জড়িতদের শাস্তির দাবিতে হল উদ্ধার সংগ্রাম পরিষদের ডাকা ১৬ মার্চের মহাসমাবেশ প্রত্যাখান করেন শিক্ষকরা। পরে শিক্ষকদের দাবিতে মহাসমাবেশের আগের দিন জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ও সাময়িকভাবে বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু মহাসমাবেশে শিক্ষকদের বাধার মুখে পরে শিক্ষার্থীরা। ১৬ মার্চ ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের সভাপতি অধ্যাপক মো. সেলিম ও সাধারণ-সম্পাদক রেজাউল করিমের নেতৃত্বে ফটকের তালা ভেঙ্গে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন কিছু শিক্ষক। এ সময় ঘটনাস্থলে উত্তেজিত আন্দোলনকারী  শিক্ষার্থীদের মারতে তেড়ে আসতে দেখা যায় কিছু শিক্ষককে।

আন্দোলন থেকে সরে আসা প্রসঙ্গে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক সরকার আলী আক্কাস বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কতৃক গঠিত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন স্থগিত থাকবে। তবে, ১৯, ২৩ ও ২৬ মার্চ ঘোষিত কর্মসূচি প্রত্যাহারের ব্যাপারে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ জানাতে পারেননি তিনি।

এদিকে, মহাসমাবেশে ঘোষিত ছাত্র ধর্মঘট ও অনশনের মতো কর্মসূচি প্রত্যাহার করে শুধু বিক্ষোভের মধ্যে আন্দোলন সীমাবদ্ধ রেখেছে হল উদ্ধার ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। এ বিষয়ে সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ও শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শরীফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নিতেই সংগ্রাম পরিষদের সদস্যসচিব ও শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ-সম্পাদক সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে মামলা ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে প্রশাসন। আর এতে প্রশাসনকে সহযোগিতা করছে শিক্ষকদের একটি অংশ। এছাড়া, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গঠিত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ না করা পর্যন্ত বিক্ষোভ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।