প্রবাসী লেখকের বই দেশে প্রবেশে করারোপ চান প্রকাশকরা

0
77

bookদেশের বাইরে প্রকাশিত প্রবাসী বাংলাদেশি লেখকদের বই দেশের বাজারে শুল্ক মুক্ত ভাবে আসায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় প্রকাশকরা। তবে এখন থেকে এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে চায় মুদ্রণ ও প্রকাশনা সংস্থাগুলো। আর এ জন্য প্রবাসী লেখকদের বই প্রবেশে শুল্ক আরোপের দাবি জানয়েছে সংস্থাগুলো। সেই সাথে বিদেশি বইয়ের ওপর শুল্ক আরোপ ও কাগজ আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানান প্রকাশনা ও মুদ্রণ ব্যবসায়ীরা।

বুধবার রাজধানীর সেগুন বাগিচায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর)সম্মেলন কক্ষে এনবিআরের সাথে কাগজ, মুদ্রণ ও বিজ্ঞাপন শিল্পের বিভিন্ন সংগঠেনের সাথে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এসব দাবি জানান তারা।

এনবিআর চেয়ারম্যান গোলাম হোসেনের পরিচালনায় আলোচনায় কাগজ, মুদ্রণ ও বিজ্ঞাপন শিল্পের সাথে জড়িত ১৪টি সংগঠন অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও ৭টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

আলোচনায় বাংলাদেশ প্রকাশনা সমিতি এবং পাঠ্য পুস্তক বিপণন ও মুদ্রণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলিমুল আলিম ও ড. শহিদুল্লাহ আনসারি বলেন, বাংলাদেশে ভালো কাগজে বই প্রকাশ করতে গেলে বিদেশ থেকে কাগজ আমদানি করতে হয়। আর কাগজ আমদানির উপর সরকারকে শুল্ক দিতে হয় বিধায় বইয়ের প্রকাশনার খরচ অনেক বেশি হয়।

তারা জানান, বিপরীতে বিদেশে প্রকাশিত বই দেশে প্রবেশে কোনো শুল্ক না থাকায় অনেকেই কলকাতা কিংবা অন্য কোথাও বই প্রকাশ করে বাংলাদেশে নিয়ে আসে। আর এ কারণে দেশীয় অনেক লেখকের বই মান সম্মত হওয়ার পরও বেশি দামের কারণে বিক্রি হয় না। তাছাড়া মান সম্মত বই দেশের বাইরে প্রকাশিত হওয়ায় ক্ষতির সম্মুখিন হয় দেশীয় প্রকাশনা সংস্থাগুলো।

এই অবস্থায় দেশি প্রকাশনা শিল্পকে টিকে রাখতে দেশে প্রকাশিত বইয়ের ওপর কর প্রত্যাহার ও বিদেশে প্রকাশিত বই দেশে প্রবেশে শুল্ক আরোপের বিকল্প নেই বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে বাংলাদেশ এডভারটাইজিং অ্যাসোসিয়েশন বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে বহাল থাকা দুই ধাপের করের যে কোনো একটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। আসন্ন বাজেটে বিষয়টি যেন গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয় সে জন্য সংস্থাটির নেতারা রাজস্ব বোর্ডের প্রতি আহ্বান জানান।

সংস্থাটির সভাপতি রামেন্দ্র মজুমদার জানান, বর্তমানে কোনো বিজ্ঞাপন গণমাধ্যমে প্রচারের সময় ১০ শতাংশ উৎসে কর দিতে হয়। আবার বিজ্ঞাপন দাতাকেও ১০ শতাংশ কর দিতে হয়।

তার মতে এ শিল্পকে লাভজনক করতে যে কোনো একটি কর প্রত্যাহারের করা উচিত।

বাংলাদেশ পেপারস মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে ৮ লাখ টন কাগজের চাহিদার বিপরীতে ৪০ শতাংশ কাগজ উৎপাদন হয়। ভালো কাগজের মধ্যে বেশ কয়েক ধরণের কাগজ দেশের বাহিরে থেকে নিয়ে আসতে হয়। এসকল কাগজ আমদানিতে শুল্কের বাধ্যবাধকতা থাকায় প্রকাশনী সংস্থাগুলো আগ্রহ প্রকাশ করে না। তাই ভালো প্রকাশনা বের করতে হলে কাগজ আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।

এসময় বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশনী সংস্থার সভাপতি ওসমান গনি পাঠাগারের জন্য দানকৃত বই ও অর্থের ওপর কর প্রত্যাহারের আবেদন জানান।

তবে ব্যবসায়ীদের এসব দাবির প্রেক্ষিতে এনবিআর চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন বলেন, পাঠাগারে দানকৃত অর্থের ওপর কর প্রত্যাহার করলে তার ভুল ব্যবহার হবে। অনেকেই পাঠাগারে অর্থদানের কথা বলে সরকারকে রাজস্ব ফাঁকি দিবে। এছাড়া কাগজ আমদানির ক্ষেত্রে স্থানীয় ও বিদেশি কাগজের গুণগত তফাত দেখে করের ক্ষেত্রে একটা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এইউএন