সিভিও পেট্রো’র পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু

0
107
Amir Hossain Amu
ফাইল ফটো
Amir Hossain Amu
ফাইল ফটো

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর পেট্রোকেমিক্যাল ইউনিটের মাধ্যমে উৎপাদনে ফিরেছে বিতর্কিত কোম্পানি সিভিও পেট্রো ক্যামিকেল। তবে এটি পরীক্ষামূলক উৎপাদন। বুধবার শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু কোম্পানিটির পরীক্ষামূলক উৎপাদন উদ্বোধন করেন।

পরীক্ষামূলক উৎপাদনে সফল হলে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পেলে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাবে চট্টগ্রামে অবস্থিত সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিল্প মন্ত্রী বলেন,তার সরকার বেসরকারি খাতকে সব ধরণের সহায়তা দিতে প্রস্তুত। বর্তমানে রেকর্ড বিদ্যুৎ উৎপাদন হলেও সংকট কাটছে না। কারণ চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। তাই সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেসরকারি খাতকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়ে যাবে।

সিভিও সম্পর্কে তিনি বলেন, এ রিফাইনারী বছরে ৫০ হাজার মেট্রিকটন গ্যাস কনডেনসেট কাচাঁমাল হিসাবে ব্যবহার করবে। এতে পেট্রোকেমিক্যাল দ্রব্য যেমন পেট্রোল,ডিজেল,অকটেন,এমটিটি ও থিনার ইত্যাদি উৎপাদন হবে। উৎপাদিত পেট্রোকেমিক্যাল দ্রব্য দেশের ৩৫০ কোটি মূল্যের বৈদেশিক মূদ্রা সাশ্রয় করবে। এ থেকে সরকার ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা রাজস্ব পাবে।

সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারী কোম্পানির চেয়ারম্যান শামসুল আলম শামীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সাংসদ মাঈনুদ্দিন খান বাদল,সাবেক সিটি মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন

উল্লেখ, সিলেট গ্যাস ফিল্ড থেকে সংগ্রহ করা কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করে বিভিন্ন দ্রব্য উৎপাদন করবে সিভিও। প্ল্যান্টে কাঁচামাল হিসেবে কনডেনসেট সংগ্রহ করার জন্য গত ১৬ মার্চ সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেডের সাথে চুক্তি হয়েছে কোম্পানিটির।

কোম্পানির দেওয়া তথ্য অনুসারে পরীক্ষামূলক উৎপাদনে প্রাপ্ত ফলাফল জমা দেবে বিপিসি এবং পেট্রোবাংলার কাছে। বিপিসি এবং পেট্রোবাংলার ইতিবাচক প্রতিবেদন পেলে জ্বালানী মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠানটিকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে।

কোম্পানি বছরে ৫০ হাজার টন কনডেনসেট পরিশোধনের জন্য যন্ত্রপাতি স্থাপন করেছে। প্রতিদিন গড়ে ১৫০ মেট্রিক টন কনডেনসেট পরিশোধন করা হবে। ২০১১ সালের ৩ অক্টোবর সরকারের পাওয়ার এনার্জি অ্যান্ড মিনারেল মন্ত্রণালয়ের এনার্জি অ্যান্ড মিনারেল বিভাগ থেকে এই কোম্পানিকে পরীক্ষামূলক উৎপাদনের অনুমোদন দেয়।

১৯৯০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া চিটাগাং ভেজিটেবল অয়েল কোম্পানি পরবর্তীতে সিভিও পেট্রোক্যামিকেল নাম ধারণ করে। শুরুতে ভোজ্য তেল উৎপাদনকারী এ কোম্পানি মাঝখানে স্বর্ণা নামের জৈব সার বাজারজাতকরণের ব্যবসা শুরু করে। তবে কোনো ব্যবসাতেই প্রতিষ্ঠানটি ভাল করতে পারেনি। টানা লোকসানের কারণে এক পর্যায়ে কারখানা ও ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। ২০১০ সালে তেজী পুঁজিবাজারে হঠাৎ ‌‌মুনাফায় ফেরে কোম্পানিটি। পেট্রোক্যামিকেল উৎপাদনের নানা গল্পে শেয়ারের দাম তুঙ্গে উঠে। এর শেয়ার নিয়ে কারসাজির অভিযোগে সম্প্রতি একটি ব্রোকারহাউজকে জরিমানা করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।