‘৫ম দফা উপজেলা নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম’

0
64
Election

Election৫ম দফা উপজেলা নির্বাচনে ৪র্থ দফার নির্বাচনের চেয়ে নির্বাচনী সহিংসতা কম হলেও অনিয়মের মাত্রা ছিল অনেক বেশি। ভোট জালিয়াতি, ভোটারদের ভয়-ভীতি প্রদর্শন, ভোটদানে বাধা প্রদান, কেন্দ্র থেকে পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া, ভোট কেন্দ্রের ভিতর গ্রেপ্তারের মত নানা ঘটনা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ পরিষদের (জানিপপ) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের “পঞ্চমবারের মত উপজেলা নির্বাচনের পর্যবেক্ষণ রিপোর্ট পেশ” শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচন হচ্ছে তা হওয়া উচিৎ নয়। এ প্রক্রিয়ায় ভোটাররা ভোট দিতে পারেন না। তাদের ভয়-ভীতি দেখানো হচ্ছে।

ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের রিপোর্টে বলা হয়, লক্ষীপুর সদর উপজেলার ৩টি কেন্দ্রে ব্যালট বাক্সের ভেতর বিপুল ব্যালট পেপার ঢুকানো দেখে সেই ব্যালট বাক্সে করেই ভোট গ্রহণ করা হয়।

লক্ষীপুর সদর, সাতক্ষীরা সদর ও টাঙ্গাইল উপজেলায় ভোটারদের হাতে অমোচনীয় কালি লাগানোর পর ভোট দিতে দেওয়া হয় নি।

বেলকুচিতে একজন প্রার্থীর ১৩ জন সমর্থক ভোট কেন্দ্রে ঢুকে বিপুল জাল ভোট দেয় এবং ব্যালট বক্সে ঢুকিয়ে দেয়।

শ্রীপুরে ভোট গণনার সময় ভোট কেন্দ্রে ৫ জন ঢুকে জোরপূর্বক ঢুকে পড়ে। এবং তারা প্রিজাইডিং অফিসারকে ভোট প্রক্রিয়া বন্ধ করে অসত্য ফলাফল প্রদান করতে চাপ প্রয়োগ করে।

৫ম দফা উপজেলা নির্বাচনে সহিংসতা ও অনিয়মের চিত্র:

ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়, আমাদের পর্যবেক্ষণের ৩৪টি উপজেলার মধ্যে ১৮টি উপজেলায় ৫১টি ভোট জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। ৩৪টি উপজেলার ১৭টি উপজেলায় ৫৯টি ভোটকেন্দ্রের ভেতর সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। ৩৪টি উপজেলার ২৬টি উপজেলায় ভোটাদেরকে ভয়-ভীতি প্রদর্শনের ১৮৩টি ঘটনা ঘটেছে। ৩৪টি উপজেলার ২২টি উপজেলায় ৫৪টি আইন অমান্য করে নির্বাচনী প্রচারণার ঘটনা ঘটেছে। ৩৪টি উপজেলার ৭টি উপজেলায় ২২টি ভোটরকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণার ঘটনা ঘটেছে। ৩৪টি উপজেলার ১৩টি উপজেলায় পোলিং এজেন্টদেরকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার ৬৫টি ঘটনা ঘটেছে। ৩৪টি উপজেলার ২০টি উপজেলায় ভোট কেন্দ্রের ভেতরে গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে ১৩টি। এবং ৩৪টি উপজেলার ১৩টি উপজেলায় ইডব্লিউজি’র পর্যবেক্ষকদের গণনা প্রক্রিয়া দেখতে না দেওয়ার মত ৩৯টি ঘটনা ঘটেছে।

গত ৪র্থ দফা উপজেলা নির্বাচনে সহিংসতা ও অনিয়মের চিত্র:

ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়, আমাদের পর্যবেক্ষণের ২৩টি উপজেলার ১৬টি উপজেলায় ১৮৪টি ভোট জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। ২৩টি উপজেলার ৯৬টি উপজেলায় ১২২টি ভোটকেন্দ্রের ভেতর সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। ২৩টি উপজেলার ১৯টি উপজেলায় ভোটাদেরকে ভয়-ভীতি প্রদর্শনের ৯২টি ঘটনা ঘটেছে। ২৩টি উপজেলার ১৭টি উপজেলায় ৬৪টি আইন অমান্য করে নির্বাচনী প্রচারণার ঘটনা ঘটেছে। ২৩টি উপজেলার ১১টি উপজেলায় ২৬টি ভোট কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণার ঘটনা ঘটেছে। ২৩টি উপজেলার ১০টি উপজেলায় পোলিং এজেন্টদেরকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার ৭০টি ঘটনা ঘটেছে। ২৩টি উপজেলার ১০টি উপজেলায় ভোট কেন্দ্রের ভেতরে গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে ১৪টি এবং ২৩টি উপজেলার ১৬টি উপজেলায় ইডব্লিউজি’র পর্যবেক্ষকদের গণনা প্রক্রিয়া দেখতে না দেওয়ার মত ৩৫টি ঘটনা ঘটেছে।

সংবাদ সম্মেলনে রিপোর্টটি পেশ করেন ইলিকশন ওয়াকিং গ্রুপের পরিচালক মো. আবদুল আলীম।

এসএস/জেইউ/এএস