মসলিন শাড়ির কারিগররা পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বিপ্লব ঘটাতে পারে

0
142
মসলিন শাড়ি

মসলিন শাড়িসরকারি সহযোগিতা পেলে ফরিদপুরের জামদানি মসলিন শিল্পীরা বিপ্লব ঘটাতে পারে। বিশ্বের কাছে আরও বেশি সমৃদ্ধভাবে উপস্থাপন করতে পারে বাংলাদেশকে। নিজেদের প্রাণান্ত চেষ্টা থাকা সত্ত্বেও বিনিয়োগের পর্যাপ্ত অর্থ আর বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান পেলেই ওরা জেগে উঠতে পারে বলেই দাবি করলেন কারিগররা।

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সোতাশী এলাকায় ২ থেকে ৩ বছর ধরে গড়ে উঠেছে জামদানি মসলিন পল্লী। এখানে তৈরি হচ্ছে ৬ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা মূল্যের শাড়ি। নারায়ণগঞ্জ হয়ে যা চলে যাচ্ছে বাংলার মানচিত্র পেরিয়ে অথবা ধনাঢ্যদের ঘরে অভিজাত বিপণিবিতানের মাধ্যমে।

তৌহিদ বিশ্বাস নামে এক উদ্যোক্তা জানান, ৯ থেকে ১০ বছর পূর্বে জীবিকার তাগিদে ৭ বন্ধু মিলে চলে যান নারায়ণগঞ্জে এবং কাজ নেন জামদানি মসলিন পল্লীতে। কয়েক বছর ধরে সেখানে কাজ শেখেন। কিন্তু বিধিবাম। সব কাজ শেখার পরও আশানুরূপ মজুরি না পেয়ে হতাশা বাড়তে থাকে। নিজে কিছু করার অদম্য আগ্রহ থেকে ফিরে আসেন নিজ গ্রাম সোতাশীতে। সেখানে সামান্য কিছু পয়সা খরচ করে একটি তাঁত বসানো হয়। পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় কাজ শুরু করে সফলতাও পান। গত কবছরে একে একে ১৫ তাঁত স্থাপন করেন। শ্রমিকের সংখ্যাও বাড়তে বাড়তে বিশের কোঠায় পৌঁছায়। গাঁয়ের কিছু অলস হাত সচল হয়ে আন্তর্জাতিক মানের শাড়ি তৈরির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছে।

শুধু তৌহিদ নয় তৌহিদের দেখাদেখি আরো কয়েকজন এ ব্যবসায় নাম লিখিয়েছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য একটাই। তা হলো বিদ্যুৎ বেশির ভাগ সময় না থাকা। বারংবার বিদ্যুৎ অফিসে ধরনা দিয়ে কোন লাভ হয়নি। বড় বড় কর্তা ব্যক্তিদের দুয়ার থেকে ফিরে আসতে হয়েছে শুধুই আশ্বাস নিয়ে। উদ্বোক্তারা জানান, মসলিন জামদানি তৈরিতে বিদ্যুতের ভূমিকা অপরিসীম। কারণ কাপড় মাজার (মাড় দেওয়ার) সয়ম অবিরাম বৈদ্যুতিক পাখার বাতাস ও আলোয় শুকানোর প্রয়োজন হয়। অন্যথায় কাপড়ে তিলা (কালো কালো দাগ) পড়ে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকে যার ফলে কাপড়ের মান নিয়ন্ত্রণ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে যায়। প্রচণ্ড গরমে শ্রমিকদের মনোযোগ ঠিক রাখার মাধ্যমে কাজের উৎকর্ষতা সাধনেও বিদ্যুতের বিদ্যুতের অপরিহার্যতা রয়েছে। আর তাই বিদ্যুৎ না পেয়ে এসব উদ্যোক্তাদের বেছে নিতে হয়েছে সৌর বিদ্যুৎ। যা ব্যয়বহুল ও এ কাজের জন্য শতভাগ কার্যকর নয়।

আরেক উদ্যোক্তা মো. মুন্নু বিশ্বাস বলেন, শুধু বিদ্যুৎ আর স্বল্প সুদে ঋণ প্রাপ্তির নিশ্চয়তা থাকলে জামদানি মসলিন তৈরিতে বিপ্লব ঘটাতে পারে ফরিদপুর।

সাকি/এআর