ইউক্রেন সংকটের দৃশ্যপটে এবার ন্যাটো, রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন

গ্যাসের দাম বাড়িয়ে সতর্ক করল রাশিয়া

0
62
nato and russia

nato and russiaইউক্রেনে আগ্রাসনের জেরে রাশিয়ার সাথে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ন্যাটো। মঙ্গলবার সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এদিকে ওই দিন থেকেই ইউক্রেনে সরবরাহকৃত রপ্তানি গ্যাসের মূল্য ৪০ শতাংশ বাড়িয়ে দিয়েছে রাশিয়ার জ্বালানি গ্যাস রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান গ্যাজপ্রম। খবর বিবিসি এবং আল জাজিরার।

ন্যাটোর পূর্ণ রূপ নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন। ইউরোপ, এশিয়া এবং উত্তর আমেরিকার ২৮টি দেশ নিয়ে এই সামরিক জোট গঠন করা হয়েছে।

সাবেক সোভিয়েত সদস্য হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে রাশিয়ার সাথে ন্যাটোর বৈরিতার কারণে সংস্থাটির সদস্যপদ গ্রহণ করেনি ইউক্রেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার সাথে ক্রিমিয়া বিরোধের জের ধরে ন্যাটো এবং ইউক্রেনের মাঝে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

এরই প্রেক্ষিতে ব্রাসেলস বৈঠকের পর রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে ন্যাটো। এক বিবৃতিতে সংস্থাটির মহাসচিব আন্দ্রেস ফগ রাসমুসেন বলেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের ব্যাপারে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি খুবই পরিষ্কার। আমরা একটি মুক্ত এবং নিরাপদ ইউরোপ চাই। তাই রাশিয়ার সাথে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ন্যাটো।

তবে কূটনৈতিক পথ সবসময় খোলা থাকবে বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, আগামি জুনের মধ্য ইউক্রেন বিষয়ে অগ্রগতি পরিলক্ষিত হলে রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করবে ন্যাটো।

রাশিয়াকে সামরিকভাবে মোকাবেলার জন্য ইউক্রেনের ক্ষমতাসীন সরকার ন্যাটোকে শেষ আশ্রয় হিসেবে বিবেচনা করছে। এখনই সদস্য পদ গ্রহণ না করলেও রাশিয়াকে সতর্ক করারা উদ্দেশ্য খুব শীঘ্রই ন্যাটোর সাথে সামরিক মহড়ার আয়োজন করতে চলেছে ইউক্রেন। মঙ্গলবার দেশটির আইনসভা এই ধরনের একটি প্রস্তাবের অনুমোদন দিয়েছে।

এদিকে এক বিবৃতিতে ন্যাটোর সদস্যপদ গ্রহণ ব্যাপারে ইউক্রেনকে সতর্ক করে দিয়েছে রাশিয়া। এই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করলে ইউক্রেনের সাথে সব ধরনের স্থগিত করা হতে পারে বলে হুমকি দিয়েছে রুশ সরকার। এছাড়াও ইউক্রেনে সরবরাহকৃত প্রতি ঘন মিটার গ্যাসের মূল্য ৩৮৫ দশমিক ৫ মার্কিন ডলারে উন্নীত করেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান গ্যাজপ্রম। চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে এই দর কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ইউক্রেনকে সতর্ক করতেই প্রাথমিকভাবে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে রাশিয়া।