গ্রেপ্তার আতঙ্কে আছি: এবিএম মূসা

0
93
ABM Musa

ABM Musaগণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলা লোকদের কেউই এখন আর নিরাপদ নয়। আমিও গ্রেপ্তার আতঙ্কে আছি। গণতন্ত্র রক্ষা লড়াইয়ের পথ থেকে যে কোনো সময়ে আমাকেও গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রবীণ সাংবাদিক ও কলামিস্ট এ বি এম মূসা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘টেলিভিশন টক শো: সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে নাগরিক উদ্বেগ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় আসিফ নজরুল, বদিউল আলম মজুমদার, মাহমুদুর রহমান মান্নাও গ্রেপ্তার আতংকের কথা জানান।

মূসা বলেন, যখনই গণতন্ত্রের সুষ্ঠু চর্চ্চার পথের সন্ধান মেলে ঠিক তখনই দেশজুড়ে গণতন্ত্র ধ্বংসের আশঙ্কা দেখা যায়। তবে বাংলার মাটি শক্ত এবং ঝুরঝুরে। কিন্তু বৃষ্টি হলেই নরম হয়ে যায়। আর এটাই স্বাভাবিক। দেশে সুষ্ঠু গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হোক। এটা সরকার চায়, বিরোধীদলও চায়। কিন্তু তারপরও হচ্ছে না কেন? এর জবাব মিলছে না। দেশে শান্তি চাই।

তিনি বলেন, এটা আমাদের শেষ বৈঠক নয়। যদি ভেতরে (জেলে) না যাই তাহলে আরও বৈঠক হবে। আর ভেতরে গেলেও তো আবার বের হবো। আর বের হলে আবারও গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতা রক্ষার জন্য বৈঠক হবে। তবুও আমরা গণতন্ত্রের শাসন চাই। গণতন্ত্রের সুষ্ঠু শাসন ছাড়া পৃথিবীর কোথাও শান্তি আসবে না।

অনুষ্ঠানে এবিএম মূসার পক্ষে লিখিত বক্তব্যে নাগরিক ঐকের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের চর্চা এবং এতে নাগরিকদের নিশ্চিত রাখার স্বার্থে সরকারসহ সকল মহলের বিভিন্ন কার্যক্রম সমালোচনা করা বা তার সঙ্গে ভিন্নমত প্রকাশ করা বা গঠনমূলক বিভিন্ন মতামত প্রদান করার অধিকার বাংলাদেশ সংবিধান বাংলাদেশের নাগরিকদের প্রদান করেছে। বিশেষ করে নির্বাচনকালীন বর্তমান সময়ে নাগরিকদের এই অধিকারের প্রয়োগ দেশের স্বার্থেই আরও বেশি জরুরী হয়ে পরেছে।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, সাংবিধানিকভাবে সরকারের কর্তব্য হচ্ছে নাগরিকদের বাকস্বাধীনতাসহ সকল মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ করা এবং এসব অধিকার হরণকারী সকল কার্যক্রম থেকে বিরত থাকা। টক শো নিয়ন্ত্রণের চেষ্টার মাধমে সরকার তার এই কর্তব্যের বরখেলাপ করেছে। সরকারের এই ভূমিকা জনগণের মুক্ত মননশীলতা, চিন্তা ও বাক স্বাধীনতার চর্চ্চা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য হুমকিস্বরূপ বলে আমরা মনে করি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, সরকারের সমালোচনাকারী বা ভিন্নমতালম্বী বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক বিশ্লেষককে টকশোতে আমন্ত্রণ না জানানোর জন্য টিভি চ্যানেলগুলোর উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং সরকারের পছন্দসহ আলোচকদের বাধ্যতামূলক আমন্ত্রণ জানানোর  জন্য টিভি চ্যানেলগুলোকে নানাভাবে প্রভাবিত করা হচ্ছে। এর আগে দেশের বরেণ্য কয়েকজন রাজনৈতিক বিশ্লেষকের ওপর হামলা, আক্রমণ এবং হয়রানির মত কিছু শোচনীয় ঘটনাও সাম্প্রতিককালে ঘটেছে।

এ সময় তিনি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, গণমাধ্যমের অধিকার এবং ভিন্নমতাবলম্বী মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নকারী সকল মহলের সকল কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে জোর অনুরোধ করছি। একই সঙ্গে জনগণকে মুক্তভাবে কথা বলতে দিয়ে দেশে গণতন্ত্র ও সুশাসন নিশ্চিতকরণে তাদের অংশগ্রহণের অধিকার যথাযথ মর্যাদা প্রদান করারও আহবান জানাই।

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক আসিফ নজরুল, সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, মানবজমিনের সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, নিউ এজ পত্রিকার সম্পাদক নুরুল কবির, রোবায়েত ফেরদৌস, ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পিয়াস করিম, ড. তুহিন মালিক, নাইমুল ইসলাম খান, গোলাম মুর্তজা প্রমুখ।

জেইউ/এএস