খুলনায় ৯ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলে সোয়া ৪ শ কোটি টাকার পণ্য অবিক্রিত

0
109

jute-industryখুলনার ৯ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলে সোয়া ৪ শ কোটি টাকার পাটজাত পণ্য অবিক্রিত রয়েছে। উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে না পেরে ভয়াবহ অর্থ সংকটের মুখে পড়ছে এ পাটকলগুলো। এ অবস্থা চলতে থাকলে মিলগুলোর কাঁচামাল ক্রয়, শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-মজুরি পরিশোধ, মেশিনারিজ রক্ষাবেক্ষণ দুরূহ হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি মিলগুলো বন্ধ হওয়ার আশংকা করছেন তারা।
বাংলাদেশ জুট মিল কর্পোরেশন (বিজেএমসি) খুলনা আঞ্চলিক অফিস সূত্র জানায়, ২০০৮ সালের পর থেকে মৃতপ্রায় খুলনার পাট শিল্প অনেকটাই ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। এ সময়ের পর বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে বন্ধ হওয়ায় পিপলস জুট মিল (খালিশপুর জুট মিল নামে) ও দৌলতপুর জুট মিল চালু হয়। কিন্তু গেল এক বছরে বৈশ্বিক অস্থিরতায় পাটজাত পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় রাষ্ট্রায়ত্ত মিলগুলোর উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে। ফলে পুঁজি বিনিয়োগ করেও তা ঘরে তুলতে পারছে না মিলগুলো।

এ অবস্থায় খুলনাঞ্চলের ৯টি মিলে চলতি বছরের ৩০ মার্চ পর্যন্ত ৪ শ ২৪ কোটি ৪২ লাখ ৫৬ হাজার ৫৩৬ টাকা মূল্যের ৪৩ হাজার ৬৯৬ মেট্রিক টন হেশিয়ান, স্যাকিং, সিবিসি ও ইয়ার্ন পাটজাত পণ্য মজুদ রয়েছে। ফলে বড় ধরনের আর্থিক সংকটে ভুগছে মিলগুলো।
সূত্র জানায়, রাষ্ট্রায়ত্ত মিলের শ্রমিকদের মজুরি কমিশনের প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ বিজেএমসি’র ফান্ড থেকে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা পরিশোধ করায় ফান্ড অনেকটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগামি আগস্ট থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত পাটের মৌসুম শুরু হবে। ওই মৌসুমে পাট ক্রয় করতে না পারলে মিলগুলো লোকসানে পড়বে। আর এ অবস্থা চলতে থাকলে মিলগুলো ফের বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

বিজেএমসি’র তথ্য অনুযায়ী, মজুদপণ্যগুলোর মধ্যে প্রায় ১১৪ কোটি ৩৮ লাখ ৩ হাজার ৩৬ টাকা মূল্যের ১২ হাজার ৪১২ মেট্রিক টন হেশিয়ান, প্রায় ২৭১ কোটি ২৫ লাখ ৪২ হাজার টাকা মূল্যের ২৭ হাজার ৬৭৯ মেট্রিক টন স্যাকিং, প্রায় ২৯ কোটি ৮৫ লাখ ১১ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের ২ হাজার ৯৪১ মেট্রিকটন সিবিসি ও প্রায় ৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকা মূল্যের ৬৬৪ মেট্রিক টন।

এর মধ্যে খুলনার ক্রিসেন্ট জুট মিলে ১০১ কোটি ৭৭ লাখ ৫৮ হাজার ৩৮৬ টাকার, প্লাটিনাম জুট মিলে ৭১ কোটি ৪১ লাখ ৭৭ হাজার ৯৩৯ টাকার, খালিশপুর (পিপলস) জুট মিলে ৭৭ কোটি ৫৯ লাখ ৮৭ হাজার ৩৯৩ টাকার, দৌলতপুর জুট মিলে ৮ কোটি ৩৮ লাখ ৮৮ হাজার টাকার, স্টার জুট মিলে ৫০ কোটি ৪৪ লাখ ২০ হাজার ৮৮৩ টাকার, ইস্টার্ন জুট মিলে ৩৭ কোটি ৭২ লাখ ৯১ হাজার ৪৪৫ টাকার, আলীম জুট মিলে ২৫ কোটি ৭৪ লাখ ৫০ হাজার ৯৫০ টাকার, যশোর অঞ্চলের কার্পেটিং জুট মিলে ৭ কোটি ৩১ লাখ ৩ হাজার টাকার ও জেজেআই জুট মিলে ৩৭ কোটি ৪১ লাখ ১৯ হাজার ৫৩৫ টাকার হেশিয়ান, সেকিং, সিবিসি ও ইয়ার্ন পাটজাতপণ্য অবিক্রিত রয়েছে।

বিজেএমসি’র আঞ্চলিক সমন্বয়কারী খন্দকার জাহাঙ্গীর নূরী বলেন, খুলনাঞ্চলের পাটকলগুলো প্রায় সোয়া ৪০০ কোটির টাকার পাটজাত পণ্য মজুদ রয়েছে। এসব সিরিয়া, ইরাক, ইরান, সুদান ও মিশরসহ বিশ্বের প্রায় ৮/১০টি দেশে রপ্তানি হয়। কিন্তু সেখানে রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও চাহিদা কম থাকায় পণ্যগুলো বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিচ্ছে।
তিনি বলেন, বাজারে সিনথেটিক পণ্যের চাহিদা থাকায় পাটজাত পণ্য কম বিক্রি হচ্ছে। তবে, বিজেএমসি’র চেয়ারম্যান মিলগুলো টিকিয়ে রাখা ও পণ্য বিক্রির জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু অর্থ সংকট থাকায় পাট ক্রয় করতে সমস্যা হচ্ছে।

এআর