রাজশাহীতে নগরজুড়ে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ, নিরাপত্তা জোরদার

মানবতা বিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার রিভিউ আবেদন উচ্চ আদালতে খারিজের পর বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে রাজশাহী মহানগরজুড়ে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ শুরু হয়। যে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মহানগরী জুড়ে  নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার পর মহানগরীর হেতেমখাঁ সবজিপাড়া এলাকায় রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করে জামায়াত-শিবির কর্মীরা। এসময় তারা বেশ কয়েকটি ককটেল ও পেট্রোল বোমার বিস্ফোরণ ঘটনায়। খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পৌঁছালে সংঘর্ষ বেধে যায়। পরে পুলিশ রাবার বুলেট, টিয়ারশেল ও ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এর একটু পরে মহানগরীর রাজারহাতা ও মালোপাড়া এলাকায় সংঘর্ষ হয়।

বেলা ২টা পর্যন্ত মহানগরীর সোনাদীঘি, সিএন্ডবি মোড়, সাহেব বাজার, রাজারহাতা, মালোপাড়া, কাদিরগঞ্জ, নিউমার্কেট, সিটি বাইপাস, ডিঙ্গাডোবা, হড়গ্রাম, বায়া বিমানবন্দর, বিনোদপুর, তালাইমারি, খড়খড়িসহ অন্তত ১৫টি পয়েন্টে পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবির কর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

এদিকে, এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজশাহী জুড়ে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। সম্ভাব্য নাশকতা প্রতিরোধে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) রাজশাহী-৩৭ ব্যাটালিয়নের উপঅধিনায়ক মেজর সোলাইমান তালুকদার বলেন, সার্বক্ষণিক বিপুল সংখ্যক বিজিবি সদস্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।  জেলার কোথাও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তা নিয়ন্ত্রণে কাজ করবে সদস্যরা।

মহানগর পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানায়, মহানগর জুড়ে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর পয়েন্টগুলোতে ও অতিরিক্ত পুলিশ ও আর্মড পুলিশের মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া র‌্যাব-পুলিশের টহল এবং গোয়েন্দ তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।

মহানগর পুলিশ কমিশনার (আরএমপি) ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান জানান, নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।