স্প্রেড কমাতে হিমশিম খাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

0
73
বাংলাদেশ ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংক ভবন (ফাইল ছবি)

বাংলাদেশ ব্যাংকব্যাংকগুলোর আমানত ও ঋণের সুদহারের গড় ব্যবধান (স্প্রেড) কমাতে হিমশিম খাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কঠোর নির্দেশনা এবং বারবার সতর্ক করার পরও স্প্রেড ৫ শতাংশের নিচে নামানোর উদ্যোগ নিচ্ছে না ব্যাংকগুলো। বরং দিন দিন বাড়ছে স্প্রেড সীমা। আর স্প্রেডের এ সীমা বাড়াচ্ছে তফসিলি ভুক্ত ২৬টি ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি শেষে তফসিলভূক্ত ৫৬টি ব্যাংকের গড় স্প্রেড দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। এ সময়ে ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের কাছ থেকে গড়ে আমানত সংগ্রহ করেছে ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ এবং সেই গ্রাহককেই ঋণ দিয়েছে ১৩ দশমিক ৪০ শতাংশ হারে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১২ সালের ২৭ জানুয়ারি প্রজ্ঞাপন জারি করে ২০১৩ সালের মার্চের মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে স্প্রেড ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার নির্দেশ দেয়। এতে বলা হয়, যেসব ব্যাংকের স্প্রেড পাঁচ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে পারবে না তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক কঠোর ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু গত বছরের মার্চ পেরিয়ে ২০১৪ সালের মার্চ চলে গেলেও তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি।

এছাড়া প্রতি তিন মাস পরপর অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় তফসিলি ব্যাংকের ব্যাবস্থাপকদের সতর্ক করে গভর্নর বলেন, নির্দেশিত সীমার মধ্যে স্প্রেড হার নামিয়ে না আনলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু সেই কঠোর ব্যবস্থা আজও নেয়া হয়নি। ব্যাংকগুলো স্প্রেড হার ৫ শতাংশের নিচে নামাতেও পারেনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি শেষে ২৬টি ব্যাংকের স্পেড ৫ শতাংশের ওপরে রয়েছে।

আমানতের তুলনায় ৫ শতাংশের বেশি সুদ নেওয়া এ ২৬টি ব্যাংক হলো রাষ্ট্রীয় মালিকানার রূপালী ব্যাংক, বিশেষায়িত খাতের বেসিক ব্যাংক লিঃ, বেসরকারি খাতের এবি ব্যাংক লি, সিটি ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক লি, পূবালী ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, স্যোসাল ইসলামী ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া , যমুনা ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংক । বিদেশি মালিকানার স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, হাবিব ব্যাংক, সিটি ব্যাংক এনএ, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন, ওরি ব্যাংক, ব্যাংক আলফালাহ ও এইচএসবিসি।

বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঋণের সুদ আদায় করছে বেসরকারি ব্র্যাক ব্যাংক। ব্যাংকটি ঋণের সুদহার ১৬ দশমিক ৫৩ শতাংশ। তাদের স্প্রেড ৯ দশমিক ৬৬ শতাংশ। দ্বিতীয়তে রয়েছে বিশেষায়িত খাতের বেসিক ব্যাংক। ব্যাংকটি ঋণের সুদহার ১৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ফেব্রুয়ারিতে রাষ্ট্রীয় মালিকানার চার ব্যাংকের ঋণে গড় সুদ দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। আমানতে রয়েছে ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এতে তাদের স্প্রেডের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৪৩ শতাংশে। বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো গড়ে ১৩ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ সুদে ঋণ দিয়েছে। আমানতে সুদ দিয়েছে ৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এতে তাদের স্প্রেড দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর স্প্রেড রয়েছে ৫ দশমিক ২৩ শতাংশ। আর বিদেশি ব্যাংকের স্প্রেড দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৬৫ শতাংশে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, শুধু নির্দেশনা দিয়ে বসে থাকলে চলবে না। যেসব ব্যাংক নির্দেশনা মানবে না তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান শাস্তির ব্যবস্থাও গ্রহণ করতে হবে। তাহলেই নির্দেশনা পারিপালনে বাধ্য হবে ব্যাংকগুলো।

ব্যাংকগুলোর স্প্রেড বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র ম. মাহফুজুর রহমান অর্থসূচককে বলেন, আমরা চেষ্টা করছি ব্যাংকগুলোর স্প্রেড কমিয়ে আনার। সে অনুসারে আমরা বিভিন্ন সময় নির্দেশনা এবং প্রজ্ঞাপনও জারি করেছি। ব্যাংকগুলো ধীরে ধীরে স্প্রেড কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। আমরা আশা করছি যেসব ব্যাংকের স্প্রেড বেশি তারা তাড়াতাড়িই এ সীমা ৫ শতাংশের মধ্যে নিয়ে আসবে।

এসএই/