রাজীব গান্ধীর হত্যাকারীদের কারাদণ্ড বহাল রাখল আদালত

0
66
rajiv-gandhi

rajiv-gandhiভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত তিন আসামির আজীবন কারাবাসের নির্দেশই বহাল রাখল দেশটির সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট। গত ফেব্রুয়ারিতে এ হত্যা মামলার তিন আসামীর মৃত্যুদণ্ড বাতিল করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট।  এ আদেশের বিরুদ্ধে আবেদনপত্র দায়ের করে তা পর্যালোচনা করার আহ্বান জানায় কেন্দ্রীয় সরকার। আদালত মঙ্গলবার এ আবেদন খারিজ করে পূর্বের রায় বহাল রাখার আদেশ দেয়। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া, এনডিটিভির।

এ মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রান্ত তিন আসামি পেরারিভালান, সান্থন ও মুরুগান এর আগে  প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলেও বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকায় তারা মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমানোর  আবেদন করেছিলেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট তাদের সাজা কমিয়ে আজীবন কারাবাসের পক্ষে রায় দেয়। রায়ে সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়টি ১১ বছর ধরে ঝুলিয়ে রাখা তামিলনাড়ু সরকারের উচিত হয়নি। সরকার এখনো তিন আসামিকে ক্ষমা করতে পারে এবং সেক্ষেত্রে তারা মুক্তিও পেতে পারে।

১৯৯১ সালের ২১ মে তামিলনাড়ু শ্রীপেরামবুডুরেতে নির্বাচনী প্রচারকালে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত হন দেশটির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী  রাজীব গান্ধী।  ওই ঘটনায় ১৯৯৮ সালে তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আদালত। আসামিরা ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলেও ফাঁসির আদেশ বহাল থাকে।  দু’বছর পর আসামীরা প্রেসিডেন্টের কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন জানায়। কিন্তু ১১ বছর আবেদনটি ঝুলে থাকার পর ২০১১ সালে তাদের আবেদন খারিজ করে দেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট প্রতিভা পাতিল। তবে প্রেসিডেন্টের কাছে করা ক্ষমার আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে দীর্ঘ সময় লেগে যাওয়ার যুক্তিতে ওই বছরই তামিলনাড়ুর হাইকোর্ট আসামিদের ফাঁসি কার্যকরের ওপর স্থগিতাদেশ দেন।

সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে জানায়, প্রেসিডেন্টের কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহনে অহেতুক দেরি হলে ফাঁসি মওকুফ হতে পারে।  গত ২১ জানুয়ারি ১৫ আসামির ফাঁসি মওকুফ করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেয় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ। এরপরই রাজীব হত্যা মামলার ওই তিন আসামী মৃত্যুদণ্ড বাতিল করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আবেদন জানান। ৪  ফেব্রুয়ারি তাদের আর্জি শোনার পর ১৮ ফেব্রুয়ারি এক রায়ে তাদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দেয় আদালত।