যে খাবার খেলে মুটিয়ে যাবেন না

0
75

Chocolateরসনায় রুচি নেই এমন লোকের সংখ্যা যেমন খুঁজে পাওয়া দায় তেমনি ভোজন বিলাসীদের মধ্যে মুটিয়ে যাননি এমন লোকও খুঁজে পাওয়া দায়। আর এই মুটিয়ে যাওয়ার ভয়েই অনেকে খাবার পরিমাণই দেন কমিয়ে। কিন্তু সেক্ষেত্রে উপকার পাওয়ার বদলে ক্ষতিটাই বেশি হয়। তাই এক দিকে পরিমানমতো খাবারও খেতে হবে আবার মুটিয়েও যাওয়া যাবে না।  কিন্তু সেটা কী ভাবে?

সম্প্রতি এই জটিলতা থেকে মুক্তির কিছু উপায় খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা। গবেষণায় তারা দেখিয়েছেন, এমন কিছু খাবার আছে যা খেলে শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানও পাওয়া যাবে আবার মুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কা থেকেও মিলবে মুক্তি।

‘ডাইটেটিক এসোসিয়েশন’ নামের জার্নালের গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সকালের নাস্তায় কম ক্যালরিযুক্ত খাবার খায় তাদের ওজন শতকরা ৩৫ ভাগ কমে যায়।  তাই মেদ কমাতে সকালের খাবারে যতটা সম্ভব কম ক্যালরিযুক্ত খাবার খেতে হবে।

আর এজন্য তারা মোটামুটি একটা খাদ্য তালিকাও করে দিয়েছে –

চর্বিযুক্ত মাছ

চর্বিযুক্ত মাছ প্রাকৃতিকভাবে স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। এ মাছ গুলোতে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড থাকে। স্যামন ও অন্যান্য চর্বিযুক্ত মাছ গুলো প্রকৃতির বিস্ময়। এগুলো হৃৎপিণ্ডের সমস্যা দূর করতে সহায়তা করার পাশাপাশি ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দেয় ও স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমায়।

বাদাম

বাদামে ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম ও অল্প মাত্রায় ফ্যাটি এসিড থাকে। নিয়মিত বাদাম খেলে হার্ট ভালো থাকে, সেইসঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। তাই শরীরের প্রয়োজনীয় চর্বির অভাব পূরণের জন্য বাদাম খাওয়া হলো সবচেয়ে নিরাপদ ও উপকারী।

মটরশুটি

মটরশুটি হার্টের জন্য সবচেয়ে ভালো। এটি কোলেস্টেরল কমাতে ভাল কাজ করে। প্রতিদিন খাবারের সঙ্গে আধাকাপ মটরশুটি থাকলে ৮ শতাংশ কোলেস্টেরলের মাত্রা কম যায়। মটরশুটি কিডনি ভালো রাখার পাশাপাশি শরীরের আঁশ জাতীয় খাবারের চাহিদাও পূরণ করে থাকে।

চা

চায়ের প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে এবং কিছুটা ক্যাফেইন আছে। আট আউন্সের একটি কফির কাপে ১৩৫ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন থাকে, কিন্তু এক কাপ চায়ে মাত্র ৩০ থেকে ৪০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন থাকে। চা শরীরেকে রাখে সতেজ, সেইসঙ্গে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতেও সাহায্য করে। এছাড়া ওজন, রক্তচাপ, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সহয়তা করে।

চকলেট

চকলেট অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে পরিপূর্ণ। ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমাতে এটি সাহায্য করে।

শাকসবজি

সবুজ শাকসবজি পেশীর শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া ক্যানসার, হার্টের অসুখ ও অস্টিওপরোসিসের বিরুদ্ধে লড়তে সহয়তা করে। নিয়মিত ভাতের সঙ্গে শাকসবজি বিশেষ করে পালংশাক খেলে হার্ট ভালো রাখার পাশাপাশি শরীরের পুষ্টির অভাবও পূরণ হয়।

অলিভ অয়েল

অলিভ অয়েল স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। এতে মনো আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিড রয়েছে। যাতে অল্প মাত্রায় উপকারি কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইড বিদ্যমান থাকে। ফলে অলিভ অয়েল খেলে শরীরের খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে যায়। একই সাথে খাবারের স্বাদও বাড়ে।

কম ফ্যাটযুক্ত দই

এ দই ক্যালসিয়ামের একটি বড় উৎস। এর খনিজ মেদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। একই সাথে এটি ক্যালসিট্রিওল হরমোন কমিয়ে মেদ কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও এ ধরনের খাদ্যে লিওকোসিন থাকে যেটিও মেদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।

তাই প্রতিদিনের খাদ্যাভাসে মেদ কমানোর উপযোগী খাদ্যগুলো রাখা উচিত। তাতে শরীর ও মন দু’টোই ভালো থাকে।